ঢাকা ০৮:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
উত্তরায় প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত

রক্তঝরা দিনে, রক্তদানেই জীবনের আশা

বিশেষ প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:১৭:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫
  • / 120

আহতদের জন্য রক্ত জরুরি

রাজধানীর উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের মাইলস্টোন কলেজে আজ দুপুরে ভয়াবহ একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় রাজধানীজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ইতোমধ্যে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর নিশ্চিত করেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত এবং ১৬৪ জন আহত হয়েছেন। এদের অনেকেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও উত্তরার কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এই দুর্ঘটনার পর পরই আহতদের জীবন বাঁচাতে প্রয়োজন হয়ে পড়েছে বিপুল পরিমাণ রক্ত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে একের পর এক রক্তদানের আহ্বান। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কয়েকজনের শরীরে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে, এবং জরুরি ভিত্তিতে **‘O+, A–, B+, AB+সহ বিভিন্ন গ্রুপের রক্ত প্রয়োজন।

‍হাসপাতালগুলোতে রক্তের সংকট: জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে অনেকেই
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সায়েমা পারভীন বলেন, “এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো রক্ত পাওয়া। যাদের অবস্থা গুরুতর, তাদের অস্ত্রোপচার করা দরকার, কিন্তু উপযুক্ত রক্ত না পেলে আমরা কিছুই করতে পারব না।”

কুর্মিটোলা হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি রয়েছেন ১৭ বছর বয়সী মেহেরাব হোসেন, যিনি মাইলস্টোন কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা আহাজারি করে বলেন, “ডাক্তার বলেছে, এখনই রক্ত না পেলে ছেলেকে বাঁচানো যাবে না। আমি সবার কাছে আকুল অনুরোধ করছি, দয়া করে রক্ত দিন।”

স্বেচ্ছাসেবকরা মাঠে, কিন্তু চাহিদা পূরণ হচ্ছে না

‘ব্লাড হোপ’ ও ‘স্যান্ডগ্লাস ব্লাড ডোনারস’-এর মতো সংগঠনগুলো ইতোমধ্যে উত্তরার আশপাশের রক্তদাতাদের তালিকা তৈরি করে হাসপাতালে পাঠানো শুরু করেছে। তবু চাহিদার তুলনায় রক্ত সংগ্রহ অনেক কম।

ব্লাড হোপের কো-অর্ডিনেটর সাকিফ হোসেন বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে বলেন, “আমরা ৭০ জন স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে আজ বিকেল থেকেই রক্ত সংগ্রহ করছি, কিন্তু আহতের সংখ্যা এত বেশি যে চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না। সবাই যদি এগিয়ে না আসে, অনেক প্রাণ হারাবে।”

এদিকে সামাজিক মাধ্যম, রেডিও চ্যানেল ও কয়েকটি জনপ্রিয় মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে রক্তদানের আহ্বান জানানো হয়েছে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, কর্পোরেট কর্মী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন নিজেদের ফেসবুক পেইজ ও টেলিগ্রাম চ্যানেলে রক্তদানের সময় ও স্থান জানিয়ে দিচ্ছে।

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এক বিবৃতিতে জানায়, “রক্তদাতাদের জন্য ঢাকা মেডিকেল, কুর্মিটোলা এবং ইউনাইটেড হাসপাতালের সামনে অস্থায়ী রক্ত সংগ্রহ বুথ খোলা হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৩০০ ব্যাগ রক্ত প্রয়োজন।”

সাধারণ নাগরিকদের জন্য করণীয়:

১. যারা সুস্থ ও সক্ষম, তারা নিকটস্থ ব্লাড ব্যাংক বা হাসপাতালের রক্ত বিভাগে গিয়ে রক্ত দিতে পারেন।
২. রক্তদানে আগ্রহীদের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম যেমন কোয়ান্টাম মেথড, বাধন, ব্লাডম্যান, সন্ধানীতে রেজিস্ট্রেশন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
৩. O-, A–, AB– এরকম বিরল গ্রুপের রক্তদাতাদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে এগিয়ে আসতে।

এই দুর্ঘটনা শুধু নিহতদেরই হারায়নি, আহত বহু মানুষকে মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে। তাদের জীবন এখন নির্ভর করছে সাধারণ নাগরিকদের মানবিকতার ওপর। আপনি, আমি, আমরা সবাই যদি এখন এগিয়ে না আসি, তবে আরও কত মেহেরাব, আরও কত রিয়াজ, আরও কত শিমু চিরদিনের জন্য হারিয়ে যাবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

উত্তরায় প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত

রক্তঝরা দিনে, রক্তদানেই জীবনের আশা

সর্বশেষ আপডেট ০৮:১৭:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫

রাজধানীর উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের মাইলস্টোন কলেজে আজ দুপুরে ভয়াবহ একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় রাজধানীজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ইতোমধ্যে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর নিশ্চিত করেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত এবং ১৬৪ জন আহত হয়েছেন। এদের অনেকেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও উত্তরার কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এই দুর্ঘটনার পর পরই আহতদের জীবন বাঁচাতে প্রয়োজন হয়ে পড়েছে বিপুল পরিমাণ রক্ত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে একের পর এক রক্তদানের আহ্বান। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কয়েকজনের শরীরে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে, এবং জরুরি ভিত্তিতে **‘O+, A–, B+, AB+সহ বিভিন্ন গ্রুপের রক্ত প্রয়োজন।

‍হাসপাতালগুলোতে রক্তের সংকট: জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে অনেকেই
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সায়েমা পারভীন বলেন, “এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো রক্ত পাওয়া। যাদের অবস্থা গুরুতর, তাদের অস্ত্রোপচার করা দরকার, কিন্তু উপযুক্ত রক্ত না পেলে আমরা কিছুই করতে পারব না।”

কুর্মিটোলা হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি রয়েছেন ১৭ বছর বয়সী মেহেরাব হোসেন, যিনি মাইলস্টোন কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা আহাজারি করে বলেন, “ডাক্তার বলেছে, এখনই রক্ত না পেলে ছেলেকে বাঁচানো যাবে না। আমি সবার কাছে আকুল অনুরোধ করছি, দয়া করে রক্ত দিন।”

স্বেচ্ছাসেবকরা মাঠে, কিন্তু চাহিদা পূরণ হচ্ছে না

‘ব্লাড হোপ’ ও ‘স্যান্ডগ্লাস ব্লাড ডোনারস’-এর মতো সংগঠনগুলো ইতোমধ্যে উত্তরার আশপাশের রক্তদাতাদের তালিকা তৈরি করে হাসপাতালে পাঠানো শুরু করেছে। তবু চাহিদার তুলনায় রক্ত সংগ্রহ অনেক কম।

ব্লাড হোপের কো-অর্ডিনেটর সাকিফ হোসেন বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে বলেন, “আমরা ৭০ জন স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে আজ বিকেল থেকেই রক্ত সংগ্রহ করছি, কিন্তু আহতের সংখ্যা এত বেশি যে চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না। সবাই যদি এগিয়ে না আসে, অনেক প্রাণ হারাবে।”

এদিকে সামাজিক মাধ্যম, রেডিও চ্যানেল ও কয়েকটি জনপ্রিয় মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে রক্তদানের আহ্বান জানানো হয়েছে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, কর্পোরেট কর্মী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন নিজেদের ফেসবুক পেইজ ও টেলিগ্রাম চ্যানেলে রক্তদানের সময় ও স্থান জানিয়ে দিচ্ছে।

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এক বিবৃতিতে জানায়, “রক্তদাতাদের জন্য ঢাকা মেডিকেল, কুর্মিটোলা এবং ইউনাইটেড হাসপাতালের সামনে অস্থায়ী রক্ত সংগ্রহ বুথ খোলা হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৩০০ ব্যাগ রক্ত প্রয়োজন।”

সাধারণ নাগরিকদের জন্য করণীয়:

১. যারা সুস্থ ও সক্ষম, তারা নিকটস্থ ব্লাড ব্যাংক বা হাসপাতালের রক্ত বিভাগে গিয়ে রক্ত দিতে পারেন।
২. রক্তদানে আগ্রহীদের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম যেমন কোয়ান্টাম মেথড, বাধন, ব্লাডম্যান, সন্ধানীতে রেজিস্ট্রেশন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
৩. O-, A–, AB– এরকম বিরল গ্রুপের রক্তদাতাদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে এগিয়ে আসতে।

এই দুর্ঘটনা শুধু নিহতদেরই হারায়নি, আহত বহু মানুষকে মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে। তাদের জীবন এখন নির্ভর করছে সাধারণ নাগরিকদের মানবিকতার ওপর। আপনি, আমি, আমরা সবাই যদি এখন এগিয়ে না আসি, তবে আরও কত মেহেরাব, আরও কত রিয়াজ, আরও কত শিমু চিরদিনের জন্য হারিয়ে যাবে।