ঢাকা ০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যে গ্রামের সবাই কোটিপতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:১৮:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুলাই ২০২৪
  • / 454

এই গ্রামের সবাই কোটিপতি

‘সুপার ভিলেজ’। বিশ্ব জুড়ে এই একটি নামেই পরিচিত গ্রামটি। গ্রামের প্রায় দুই হাজার বাসিন্দার প্রত্যেকের ররেছে আলাদা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট। যেখানে রয়েছে কমপক্ষে এক কোটি টাকা।

তাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা সহ সবকিছু দেয়া হয় বিনামূল্যে। এছাড়াও এখানকার লোকদের কাছে রয়েছে বিলাসবহুল বাড়ি আর অত্যাধুনিক প্রযুক্তির গাড়ি। গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে পরিবারের সদস্য সংখ্যা অনুযায়ী কম করে হলেও দুটি গাড়ি রয়েছে। শুধু তাই নয়, এখানকার লোকেরা গ্রামের বাইরে যে কোনো জায়গায় যেতে ব্যবহার করেন হেলিকপ্টার।

গ্রামটিতে রয়েছে সাতটি বহুজাতিক শিল্প প্রতিষ্ঠান। যার শেয়ার হোল্ডার বা অংশীদার গ্রামবাসীরাই। বিশাল বিশাল শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে তারা বছরে ৮০০ কোটি মার্কিন ডলার আয় করে।

বলছিলাম – চীনের জয়াংসু প্রদেশের সবচেয়ে ধনী গ্রাম হুয়াক্সির কথা। হুয়াক্সি সবাই ধনী হলেও সেখানকার সবকিছুই অনেক রহস্যময়। গ্রামের প্রতিটি ঘরের আকার এবং নকশা একই রকমের। বাড়িগুলো দেখতে পশ্চিমা জমিদার বাড়ির মতো।

গ্রামের সব বাসিন্দা একসঙ্গে সমবেত হওয়া ও খাওয়ার জন্য বিশাল জায়গা থাকলেও গ্রামে জুয়া খেলা ও মাদক সেবন পুরোপুরি নিষিদ্ধ। সেখানে নেই কোনো ক্লাব, মদের দোকান, নাইট ক্লাব এমনকি পার্টি করার জন্য কোনো রেস্তরাও নেই।

২০১১ সালে গ্রামটির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ৩২৮ মিটার হোটেল তৈরি করা হয়। যা আইফেল টাওয়ারের থেকেও বড়। এই ভবনের চূড়ায় সম্পূর্ণ স্বর্ণের তৈরি একটি ষাঁড়ের ভাস্কর্যও রয়েছে। একটন ওজনের এই ভাস্কর্যের মূল্য ৪৩ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি।

পর্যটকদের কাছে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এই হোটেলটিকে বলা হয় হুয়াক্সির ঝুলন্ত গ্রাম। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে এই গ্রামের শ্রমিকদের কোনো ছুটির দিন নেই। তাদেরকে সপ্তাহের সাতদিনই কাজ করতে হয়। গ্রামে বসবাসকারী কোনো সদস্যের গণমাধ্যমের সামনে কথা বলার অনুমতি নেই।

এমনকি পর্যটকদের সঙ্গে কথা বলতে পারবে না তারা। তবে গ্রামবাসীদের অর্জিত সম্পদটি আসলে তাদের নিজেদের নয়, পুরোটাই কর্পোরেশনের। গ্রামের সম্পদ গ্রামেই থাকবে এই নীতিতে বিশ্বাসী হুয়াক্সিবাসী। তাই কেউ গ্রাম ছেড়ে যেতে চাইলে সঙ্গে করে কিছুই নিয়ে যাওয়ার অনুমতি নেই।

১৯৬১ সালে গড়ে ওঠে গ্রামটি। স্থানীয়দের মতে প্রথম দিকে আর পাঁচটা গ্রামের মতোই ছিল হুয়াক্সি। তখন গ্রামের বাসিন্দারা খুব দরিদ্র ছিল। প্রথম থেকে মাত্র ৬০০ মানুষ বসবাস করত সেখানে। তবে গ্রামটি আধুনিক রূপ পায় কমিউনিস্ট পার্টি সাবেক সেক্রেটারি উ রেনবাও এর অক্লান্ত প্রচেষ্টায়। তিনি সেই গ্রামের উন্নয়নের জন্য রোড ম্যাপ প্রস্তুত করেছিলেন।

রেনবাও ১৯৯০ সালের শেষের দিকে গ্রামটিতে বারোটি কর্পোরেশন এবং একটি শেয়ারবাজারের কার্যক্রম শুরু করেন। পাশাপাশি তিনি পোশাক এবং বিভিন্ন ধাতু তৈরি কারখানা তৈরি করেন। তারপর তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। রাতারাতি গ্রামের ভাগ্য বদলে যায় এবং এটি বিশ্বের সবচেয়ে ধনী গ্রামে পরিণত হয়।

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

যে গ্রামের সবাই কোটিপতি

সর্বশেষ আপডেট ০১:১৮:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুলাই ২০২৪

‘সুপার ভিলেজ’। বিশ্ব জুড়ে এই একটি নামেই পরিচিত গ্রামটি। গ্রামের প্রায় দুই হাজার বাসিন্দার প্রত্যেকের ররেছে আলাদা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট। যেখানে রয়েছে কমপক্ষে এক কোটি টাকা।

তাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা সহ সবকিছু দেয়া হয় বিনামূল্যে। এছাড়াও এখানকার লোকদের কাছে রয়েছে বিলাসবহুল বাড়ি আর অত্যাধুনিক প্রযুক্তির গাড়ি। গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে পরিবারের সদস্য সংখ্যা অনুযায়ী কম করে হলেও দুটি গাড়ি রয়েছে। শুধু তাই নয়, এখানকার লোকেরা গ্রামের বাইরে যে কোনো জায়গায় যেতে ব্যবহার করেন হেলিকপ্টার।

গ্রামটিতে রয়েছে সাতটি বহুজাতিক শিল্প প্রতিষ্ঠান। যার শেয়ার হোল্ডার বা অংশীদার গ্রামবাসীরাই। বিশাল বিশাল শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে তারা বছরে ৮০০ কোটি মার্কিন ডলার আয় করে।

বলছিলাম – চীনের জয়াংসু প্রদেশের সবচেয়ে ধনী গ্রাম হুয়াক্সির কথা। হুয়াক্সি সবাই ধনী হলেও সেখানকার সবকিছুই অনেক রহস্যময়। গ্রামের প্রতিটি ঘরের আকার এবং নকশা একই রকমের। বাড়িগুলো দেখতে পশ্চিমা জমিদার বাড়ির মতো।

গ্রামের সব বাসিন্দা একসঙ্গে সমবেত হওয়া ও খাওয়ার জন্য বিশাল জায়গা থাকলেও গ্রামে জুয়া খেলা ও মাদক সেবন পুরোপুরি নিষিদ্ধ। সেখানে নেই কোনো ক্লাব, মদের দোকান, নাইট ক্লাব এমনকি পার্টি করার জন্য কোনো রেস্তরাও নেই।

২০১১ সালে গ্রামটির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ৩২৮ মিটার হোটেল তৈরি করা হয়। যা আইফেল টাওয়ারের থেকেও বড়। এই ভবনের চূড়ায় সম্পূর্ণ স্বর্ণের তৈরি একটি ষাঁড়ের ভাস্কর্যও রয়েছে। একটন ওজনের এই ভাস্কর্যের মূল্য ৪৩ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি।

পর্যটকদের কাছে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এই হোটেলটিকে বলা হয় হুয়াক্সির ঝুলন্ত গ্রাম। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে এই গ্রামের শ্রমিকদের কোনো ছুটির দিন নেই। তাদেরকে সপ্তাহের সাতদিনই কাজ করতে হয়। গ্রামে বসবাসকারী কোনো সদস্যের গণমাধ্যমের সামনে কথা বলার অনুমতি নেই।

এমনকি পর্যটকদের সঙ্গে কথা বলতে পারবে না তারা। তবে গ্রামবাসীদের অর্জিত সম্পদটি আসলে তাদের নিজেদের নয়, পুরোটাই কর্পোরেশনের। গ্রামের সম্পদ গ্রামেই থাকবে এই নীতিতে বিশ্বাসী হুয়াক্সিবাসী। তাই কেউ গ্রাম ছেড়ে যেতে চাইলে সঙ্গে করে কিছুই নিয়ে যাওয়ার অনুমতি নেই।

১৯৬১ সালে গড়ে ওঠে গ্রামটি। স্থানীয়দের মতে প্রথম দিকে আর পাঁচটা গ্রামের মতোই ছিল হুয়াক্সি। তখন গ্রামের বাসিন্দারা খুব দরিদ্র ছিল। প্রথম থেকে মাত্র ৬০০ মানুষ বসবাস করত সেখানে। তবে গ্রামটি আধুনিক রূপ পায় কমিউনিস্ট পার্টি সাবেক সেক্রেটারি উ রেনবাও এর অক্লান্ত প্রচেষ্টায়। তিনি সেই গ্রামের উন্নয়নের জন্য রোড ম্যাপ প্রস্তুত করেছিলেন।

রেনবাও ১৯৯০ সালের শেষের দিকে গ্রামটিতে বারোটি কর্পোরেশন এবং একটি শেয়ারবাজারের কার্যক্রম শুরু করেন। পাশাপাশি তিনি পোশাক এবং বিভিন্ন ধাতু তৈরি কারখানা তৈরি করেন। তারপর তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। রাতারাতি গ্রামের ভাগ্য বদলে যায় এবং এটি বিশ্বের সবচেয়ে ধনী গ্রামে পরিণত হয়।