যেভাবে চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় যুদ্ধে জড়াচ্ছে বাংলাদেশিরা
- সর্বশেষ আপডেট ১০:১৭:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
- / 6
২০২৫ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ান সেনাবাহিনীতে চুক্তিবদ্ধ সৈনিক হিসেবে কর্মরত অবস্থায় ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার এক যুবক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এপির অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে, রাশিয়ায় নাগরিক চাকরির প্রলোভনে পাঠানো বাংলাদেশিরা বাস্তবে ইউক্রেনের সামরিক সংঘর্ষে বাধ্য হচ্ছে। সাধারণ কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের সামরিক চুক্তিতে সাইন করানো হচ্ছে, এবং না মানলে শারীরিক নির্যাতন, জেল অথবা মৃত্যুর হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
মাকসুদুর রহমান, ৩১, বলেন, মস্কো পৌঁছানোর পর তিনি এবং তার সঙ্গে থাকা অন্যান্য বাংলাদেশি কর্মীরা জানেনি যে, স্বাভাবিক চাকরির বদলে তাদের সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে তাদের ড্রোন যুদ্ধ কৌশল, আহত সৈন্য উদ্ধার এবং হেভি অস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তিনি জানান, অভিযোগ করলে ১০ বছরের জেল বা মারধরের হুমকি দেওয়া হতো। সাত মাসের অবরোধ শেষে তিনি দেশে ফিরে আসেন।
অন্য একজন, মোহন মিয়াজি, রাশিয়ায় বৈদ্যুতিক কাজের জন্য গিয়েছিলেন। কিন্তু রাশিয়ান সেনার নিয়োগকারীরা তাকে সামরিক ইউনিটে যুক্ত করে ফ্রন্টলাইনে পাঠায়। তিনি জানিয়েছেন, ভুল কমান্ড মানলেই মারধর করা হতো এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো।
তাদের পরিবাররা অভিযোগ করেছেন, প্রাথমিকভাবে চাকরির প্রলোভন দেওয়া হলেও পরে তাদের সন্তানরা যুদ্ধের মোহরায় বাধ্য হয়েছেন। এক প্রয়াত কর্মীর স্ত্রী জানান, তার স্বামী প্রথমে লন্ড্রি অ্যাটেন্ডেন্ট হিসেবে পাঠানো হয়েছিল। পরে তাকে সামরিক প্রশিক্ষণে পাঠানো হয় এবং অস্ত্র ব্যবহার ও ৮০ কেজি পর্যন্ত সরঞ্জাম বহনের জন্য বাধ্য করা হয়।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, অন্য দক্ষিণ এশিয়ার নাগরিকরাও একই ধরনের ফাঁদে পড়েছেন। রাশিয়ান নিয়োগকারীরা চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফ্রন্টলাইনে পাঠাচ্ছেন। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তদন্ত বা প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।
এ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র, ভিসা, সামরিক চুক্তি, মেডিকেল ও পুলিশ রিপোর্ট, ছবি এবং ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চাকরির প্রলোভন, সামরিক চুক্তি ও বাস্তব অভিজ্ঞতার বিভ্রান্তি ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে যুদ্ধের মোহরায় বাধ্য করা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও শ্রমিক সুরক্ষার গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে ধরা হচ্ছে।


































