ঢাকা ০৫:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যে কোনো সময় গ্রেপ্তার সামিরা ও ডন

বিনোদন ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:২১:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫
  • / 124

যেকোনো সময় গ্রেপ্তার সামিরা ও ডন

চিত্রনায়ক সালমান শাহের (আসল নাম চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) মৃত্যু ঘিরে নতুন করে মামলা হওয়ার পর ঘটনাটি আবার আলোচনায় এসেছে। এবার সন্দেহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সালমান শাহের স্ত্রী সামিরা হক এবং খলনায়ক আশরাফুল হক ডন। মামলার পর সাত দিনের মধ্যেই আদালত তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তবে মামলার পর থেকেই তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশ ধারণা করছে, তারা আত্মগোপনে রয়েছেন, এবং যে কোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন।

গত ২১ অক্টোবর সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর রাজধানীর রমনা থানায় নতুন মামলা করেন। এতে সালমান শাহের স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। অন্যান্য আসামির মধ্যে রয়েছেন—শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুচি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ (১৭)। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা বেশ কয়েকজনকেও আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম ফারুক জানিয়েছেন, “আমরা আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জেনেছি। তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। অবস্থান শনাক্ত করা গেলেই গ্রেপ্তার করা হবে।”

পুলিশের ধারণা, মামলা দায়েরের পর থেকেই সামিরা ও ডন আত্মগোপনে চলে গেছেন। তারা দেশ ছাড়ার চেষ্টা করতে পারেন—এই আশঙ্কায় আদালতের মাধ্যমে তাদের বিদেশগমন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, তারা পালিয়ে গেলে মামলার বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং সালমান শাহের পরিবারের ন্যায়বিচার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

তদন্ত কর্মকর্তা রমনা থানার পরিদর্শক আতিকুল আলম খন্দকার জানিয়েছেন, “তাদের অবস্থান শনাক্তের জন্য তথ্য সংগ্রহ চলছে। বিভিন্ন থানায় যোগাযোগ করা হয়েছে।”

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহকে রাজধানীর রমনার বাসায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। ওই সময় রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছিল। পরে বিষয়টি আত্মহত্যা হিসেবে প্রচার করা হয়, যদিও পরিবার ও ভক্তরা শুরু থেকেই হত্যার অভিযোগ করে আসছেন।

নতুন মামলার বাদী মোহাম্মদ আলমগীর অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার বোন নিলুফার জামান চৌধুরী, ভগ্নিপতি কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছেলে শাহরান শাহ সালমান শাহকে দেখতে নিউ ইস্কাটনের বাসায় যান। তারা দেখতে পান, সালমান ঘুমাচ্ছেন। কিছু সময় পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। দ্রুত তারা বাসায় ফিরে এসে দেখেন, সালমান শোবার ঘরে নিথর পড়ে আছেন, কয়েকজন নারী তার হাতে-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সামিরার আত্মীয় রুবি বসে ছিলেন।

সালমানের মা তখন তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন। পথে দেখা যায়, তার গলায় দড়ির দাগ এবং মুখ ও পায়ে নীলচে দাগ রয়েছে। পরে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, সালমান অনেক আগেই মারা গেছেন।

মোহাম্মদ আলমগীর আরও জানান, সালমান শাহের বাবা মৃত্যুর আগেই ছেলের মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই তিনি চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করেন, যাতে অপমৃত্যু মামলাটিকে হত্যা মামলা হিসেবে রেকর্ড করে সিআইডির মাধ্যমে তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সম্প্রতি পুলিশ সালমান শাহের পুরোনো বাসাটি পরিদর্শন করেছে এবং পূর্বের মামলার এক আসামির জবানবন্দীর তথ্যগুলো নতুন করে যাচাই করছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

যে কোনো সময় গ্রেপ্তার সামিরা ও ডন

সর্বশেষ আপডেট ১০:২১:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫

চিত্রনায়ক সালমান শাহের (আসল নাম চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) মৃত্যু ঘিরে নতুন করে মামলা হওয়ার পর ঘটনাটি আবার আলোচনায় এসেছে। এবার সন্দেহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সালমান শাহের স্ত্রী সামিরা হক এবং খলনায়ক আশরাফুল হক ডন। মামলার পর সাত দিনের মধ্যেই আদালত তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তবে মামলার পর থেকেই তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশ ধারণা করছে, তারা আত্মগোপনে রয়েছেন, এবং যে কোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন।

গত ২১ অক্টোবর সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর রাজধানীর রমনা থানায় নতুন মামলা করেন। এতে সালমান শাহের স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। অন্যান্য আসামির মধ্যে রয়েছেন—শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুচি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ (১৭)। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা বেশ কয়েকজনকেও আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম ফারুক জানিয়েছেন, “আমরা আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জেনেছি। তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। অবস্থান শনাক্ত করা গেলেই গ্রেপ্তার করা হবে।”

পুলিশের ধারণা, মামলা দায়েরের পর থেকেই সামিরা ও ডন আত্মগোপনে চলে গেছেন। তারা দেশ ছাড়ার চেষ্টা করতে পারেন—এই আশঙ্কায় আদালতের মাধ্যমে তাদের বিদেশগমন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, তারা পালিয়ে গেলে মামলার বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং সালমান শাহের পরিবারের ন্যায়বিচার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

তদন্ত কর্মকর্তা রমনা থানার পরিদর্শক আতিকুল আলম খন্দকার জানিয়েছেন, “তাদের অবস্থান শনাক্তের জন্য তথ্য সংগ্রহ চলছে। বিভিন্ন থানায় যোগাযোগ করা হয়েছে।”

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহকে রাজধানীর রমনার বাসায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। ওই সময় রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছিল। পরে বিষয়টি আত্মহত্যা হিসেবে প্রচার করা হয়, যদিও পরিবার ও ভক্তরা শুরু থেকেই হত্যার অভিযোগ করে আসছেন।

নতুন মামলার বাদী মোহাম্মদ আলমগীর অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার বোন নিলুফার জামান চৌধুরী, ভগ্নিপতি কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছেলে শাহরান শাহ সালমান শাহকে দেখতে নিউ ইস্কাটনের বাসায় যান। তারা দেখতে পান, সালমান ঘুমাচ্ছেন। কিছু সময় পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। দ্রুত তারা বাসায় ফিরে এসে দেখেন, সালমান শোবার ঘরে নিথর পড়ে আছেন, কয়েকজন নারী তার হাতে-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সামিরার আত্মীয় রুবি বসে ছিলেন।

সালমানের মা তখন তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন। পথে দেখা যায়, তার গলায় দড়ির দাগ এবং মুখ ও পায়ে নীলচে দাগ রয়েছে। পরে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, সালমান অনেক আগেই মারা গেছেন।

মোহাম্মদ আলমগীর আরও জানান, সালমান শাহের বাবা মৃত্যুর আগেই ছেলের মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই তিনি চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করেন, যাতে অপমৃত্যু মামলাটিকে হত্যা মামলা হিসেবে রেকর্ড করে সিআইডির মাধ্যমে তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সম্প্রতি পুলিশ সালমান শাহের পুরোনো বাসাটি পরিদর্শন করেছে এবং পূর্বের মামলার এক আসামির জবানবন্দীর তথ্যগুলো নতুন করে যাচাই করছে।