স্বাস্থ্য উপদেষ্টা
যেই চা শীতে কফ জমার সমস্যা দূর করবে
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:০১:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 140
শীত মৌসুম এলেই অনেকেরই ঠাণ্ডা লাগা, সর্দি-কাশি এবং বুকে কফ বা শ্লেষ্মা জমার সমস্যা বেড়ে যায়। আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে ভাইরাসজনিত সংক্রমণ সহজেই আক্রমণ করে। এসব সমস্যা থেকে আরাম পেতে অনেকে অ্যান্টিবায়োটিক বা বিভিন্ন কফ সিরাপের ওপর নির্ভর করেন।
তবে আয়ুর্বেদীয় চিকিৎসা মতে, এসব সমস্যার একটি কার্যকর ও প্রাকৃতিক সমাধান হলো তুলসী পাতা। বিশেষ করে তুলসী পাতার চা কাশি কমাতে এবং বুকে জমে থাকা কফ দূর করতে বেশ উপকারী।

কেন তুলসী পাতা এত কার্যকর
ঔষধি গুণের জন্য তুলসীকে আয়ুর্বেদে ‘ভেষজের রানি’ বলা হয়। তুলসী পাতায় থাকা নানা বায়ো-অ্যাকটিভ উপাদান শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা উপশমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ইউজেনল: এই উপাদান প্রদাহ কমাতে ও ব্যথা উপশমে সহায়ক।
ক্যাম্পফিন ও সিনেমোল: বুকে জমে থাকা ঘন শ্লেষ্মা পাতলা করতে সাহায্য করে, ফলে ফুসফুস পরিষ্কার থাকে।
অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল গুণ: তুলসী ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাকের বিরুদ্ধে কাজ করে সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়তা করে।
তুলসী চা কফ ও কাশি কমাতে যেভাবে কাজ করে
নিয়মিত তুলসী পাতার চা পান করলে পাওয়া যেতে পারে নানা উপকার—
কফ পাতলা করে: তুলসীর প্রাকৃতিক ডিকনজেস্ট্যান্ট গুণ বুকে জমে থাকা কফ সহজে বের হতে সাহায্য করে, ফলে শ্বাস নিতে আরাম হয়।
প্রদাহ হ্রাস করে: গলা ও শ্বাসনালির প্রদাহ কমিয়ে কাশির তীব্রতা কমায়।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: শরীরকে ঠাণ্ডা লাগা, ফ্লু ও অন্যান্য শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের বিরুদ্ধে শক্তিশালী করে তোলে।
গলা ব্যথায় আরাম দেয়: তুলসী চায়ের সঙ্গে আদা ও মধু যোগ করলে গলার ব্যথা ও সংক্রমণ দ্রুত কমে।
তুলসী চা তৈরির সহজ উপায়
এই চা বানাতে খুব বেশি কিছু লাগে না।
উপকরণ:
৮–১০টি তাজা তুলসী পাতা,
১ কাপ পানি,
১ চা চামচ কুচানো আদা (ইচ্ছেমতো),
সামান্য মধু বা গুড়।
প্রণালি:
একটি পাত্রে পানি গরম করে তাতে তুলসী পাতা ও আদা দিন। ৫ মিনিটের মতো ফুটিয়ে নিন। পানি কিছুটা কমে এলে নামিয়ে ছেঁকে নিন। হালকা গরম অবস্থায় মধু মিশিয়ে পান করুন।
ব্যবহারবিধি:
দিনে দুইবার—সকাল ও সন্ধ্যায়—এই চা পান করা যেতে পারে।
শেষ কথা
শীতকালে কফ ও কাশির সমস্যায় তুলসী পাতার চা হতে পারে একটি নিরাপদ ও প্রাকৃতিক ঘরোয়া সমাধান। এটি শুধু উপসর্গ কমায় না, বরং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়াতে সাহায্য করে। তবে সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী বা গুরুতর হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।





































