ঢাকা ১০:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যুব উদ্যোক্তা নীতিতে জাতীয় পরিকল্পনার উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:০০:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 53

যুব উদ্যোক্তা নীতি ২০২৫ বাস্তবায়নে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে স্কোপিং ডকুমেন্ট স্বাক্ষর। ছবি: সংগৃহীত

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) যৌথভাবে যুব উদ্যোক্তা নীতি ২০২৫ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান) প্রণয়নের জন্য একটি স্কোপিং ডকুমেন্টে স্বাক্ষর করেছে।

 

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে ডকুমেন্টটি স্বাক্ষরিত হয়। এর মাধ্যমে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ও ইউএনডিপির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, ইউএনডিপির রেজিলিয়েন্ট অ্যান্ড ইনক্লুসিভ গ্রোথ ক্লাস্টারের সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি ও প্রধান সারদার এম আসাদুজ্জামান এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস। এছাড়াও তিন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

 

এই উদ্যোগকে যুব উদ্যোক্তা নীতি ২০২৫-কে কার্যকর, সময়ভিত্তিক ও বাস্তবমুখী কর্মসূচিতে রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশব্যাপী যুব-নেতৃত্বাধীন উদ্যোগ, উদ্ভাবন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম বলেন, “জাতীয় কর্মপরিকল্পনাটি যুব উদ্যোক্তা নীতি ২০২৫ বাস্তবায়নের একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করবে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর যুবদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত হতে এটি সহায়ক হবে।”

 

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে প্রণীত এই কর্মপরিকল্পনা নীতিগত অঙ্গীকার বাস্তবায়নে একটি সমন্বিত রোডম্যাপ হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় জোরদার হবে এবং সরকার, বেসরকারি খাত ও উন্নয়ন সহযোগীদের উদ্যোগসমূহকে একীভূত করা সম্ভব হবে। গ্রামীণ এলাকা ও পার্বত্য চট্টগ্রামসহ প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত যুবসমাজের অন্তর্ভুক্তিকে এতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

 

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস বলেন, “যুবদের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে প্রণীত এই জাতীয় কর্মপরিকল্পনা উদ্ভাবন, সহনশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করবে, যা দেশের বিভিন্ন কমিউনিটিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।”

 

ডকুমেন্ট অনুযায়ী, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় জাতীয় কর্মপরিকল্পনার নেতৃত্ব ও অনুমোদন প্রদান করবে এবং কৌশলগত দিকনির্দেশনা ও আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় নিশ্চিত করবে। ইউএনডিপি ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ যৌথভাবে পরিকল্পনা প্রণয়ন, পর্যালোচনা, যাচাই-বাছাই ও অনুমোদন প্রক্রিয়াজুড়ে কারিগরি ও সমন্বয়মূলক সহায়তা দেবে। ২০২৬ সালের জুন মাসের মধ্যে জাতীয় কর্মপরিকল্পনার খসড়া উপস্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

ইউএনডিপির সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি সারদার এম আসাদুজ্জামান বলেন, “অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রমাণভিত্তিক একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা দিতে ইউএনডিপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই উদ্যোগ যুব উদ্যোক্তা উন্নয়নে সমন্বয় জোরদার করবে এবং টেকসই অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করবে।”

 

জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন প্রক্রিয়া হবে কাঠামোবদ্ধ, পরামর্শভিত্তিক ও প্রমাণনির্ভর। প্রাথমিকভাবে বিদ্যমান নীতি ও কর্মসূচির কারিগরি পর্যালোচনা করা হবে। এরপর জাতীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ে পরামর্শ সভা আয়োজন করা হবে, যেখানে যুব সংগঠন, স্টার্টআপ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (এসএমই) এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

 

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সভাপতিত্বে একটি ইনসেপশন ওয়ার্কশপ এবং একটি জাতীয় ভ্যালিডেশন ওয়ার্কশপের মাধ্যমে কর্মপরিকল্পনাটি চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করা হবে।

 

এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার অনুমোদিত একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণীত হবে, যা প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদার করবে, যুব উদ্যোক্তা উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবে এবং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

যুব উদ্যোক্তা নীতিতে জাতীয় পরিকল্পনার উদ্যোগ

সর্বশেষ আপডেট ০৭:০০:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) যৌথভাবে যুব উদ্যোক্তা নীতি ২০২৫ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান) প্রণয়নের জন্য একটি স্কোপিং ডকুমেন্টে স্বাক্ষর করেছে।

 

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে ডকুমেন্টটি স্বাক্ষরিত হয়। এর মাধ্যমে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ও ইউএনডিপির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, ইউএনডিপির রেজিলিয়েন্ট অ্যান্ড ইনক্লুসিভ গ্রোথ ক্লাস্টারের সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি ও প্রধান সারদার এম আসাদুজ্জামান এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস। এছাড়াও তিন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

 

এই উদ্যোগকে যুব উদ্যোক্তা নীতি ২০২৫-কে কার্যকর, সময়ভিত্তিক ও বাস্তবমুখী কর্মসূচিতে রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশব্যাপী যুব-নেতৃত্বাধীন উদ্যোগ, উদ্ভাবন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম বলেন, “জাতীয় কর্মপরিকল্পনাটি যুব উদ্যোক্তা নীতি ২০২৫ বাস্তবায়নের একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করবে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর যুবদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত হতে এটি সহায়ক হবে।”

 

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে প্রণীত এই কর্মপরিকল্পনা নীতিগত অঙ্গীকার বাস্তবায়নে একটি সমন্বিত রোডম্যাপ হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় জোরদার হবে এবং সরকার, বেসরকারি খাত ও উন্নয়ন সহযোগীদের উদ্যোগসমূহকে একীভূত করা সম্ভব হবে। গ্রামীণ এলাকা ও পার্বত্য চট্টগ্রামসহ প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত যুবসমাজের অন্তর্ভুক্তিকে এতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

 

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস বলেন, “যুবদের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে প্রণীত এই জাতীয় কর্মপরিকল্পনা উদ্ভাবন, সহনশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করবে, যা দেশের বিভিন্ন কমিউনিটিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।”

 

ডকুমেন্ট অনুযায়ী, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় জাতীয় কর্মপরিকল্পনার নেতৃত্ব ও অনুমোদন প্রদান করবে এবং কৌশলগত দিকনির্দেশনা ও আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় নিশ্চিত করবে। ইউএনডিপি ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ যৌথভাবে পরিকল্পনা প্রণয়ন, পর্যালোচনা, যাচাই-বাছাই ও অনুমোদন প্রক্রিয়াজুড়ে কারিগরি ও সমন্বয়মূলক সহায়তা দেবে। ২০২৬ সালের জুন মাসের মধ্যে জাতীয় কর্মপরিকল্পনার খসড়া উপস্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

ইউএনডিপির সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি সারদার এম আসাদুজ্জামান বলেন, “অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রমাণভিত্তিক একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা দিতে ইউএনডিপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই উদ্যোগ যুব উদ্যোক্তা উন্নয়নে সমন্বয় জোরদার করবে এবং টেকসই অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করবে।”

 

জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন প্রক্রিয়া হবে কাঠামোবদ্ধ, পরামর্শভিত্তিক ও প্রমাণনির্ভর। প্রাথমিকভাবে বিদ্যমান নীতি ও কর্মসূচির কারিগরি পর্যালোচনা করা হবে। এরপর জাতীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ে পরামর্শ সভা আয়োজন করা হবে, যেখানে যুব সংগঠন, স্টার্টআপ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (এসএমই) এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

 

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সভাপতিত্বে একটি ইনসেপশন ওয়ার্কশপ এবং একটি জাতীয় ভ্যালিডেশন ওয়ার্কশপের মাধ্যমে কর্মপরিকল্পনাটি চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করা হবে।

 

এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার অনুমোদিত একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণীত হবে, যা প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদার করবে, যুব উদ্যোক্তা উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবে এবং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।