ঢাকা ১২:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যুদ্ধবিরতিতে এখনও স্বীকৃতি দেননি খামেনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:৪৪:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫
  • / 224

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি

ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসলেও এ নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। দেশটির প্রেসিডেন্ট এবং সিনিয়র কর্মকর্তারা যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করলেও, খামেনির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে আন্তর্জাতিকভাবে এখন নজর রয়েছে তার অবস্থান ও বক্তব্যের দিকে।

বিবিসির বরাতে জানা যায়, খামেনি বর্তমানে তেহরানে তার সরকারি বাসভবনে না থেকে একটি নিরাপদ বাঙ্কারে অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও বিষয়টি ইরান সরকারিভাবে নিশ্চিত করেনি। সর্বশেষ গত ১৮ জুন তার রেকর্ড করা একটি ভিডিওবার্তা প্রচারিত হয়, যেখানে তিনি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের’ আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেন।

গত সোমবার রাতে ইরান কাতার ও ইরাকে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে জানান, ইসরায়েল ও ইরান সর্বাত্মক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “দয়া করে কেউ এটি লঙ্ঘন করবেন না।”

তবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও দুই দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলে। ইসরায়েলের এক হামলায় ইরানের এক পরমাণু বিজ্ঞানী ও তার পরিবার নিহত হন। জবাবে ইরান ইসরায়েলের বিরশেবা শহরে পাল্টা হামলা চালায়, যেখানে চারজন প্রাণ হারান।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, সামরিক অভিযান বন্ধে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি। তবে ইসরায়েল যদি ইরানের জনগণের ওপর হামলা বন্ধ রাখে, তাহলে ইরানের পক্ষ থেকেও পাল্টা হামলা চালানো হবে না। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও একই কথা বলেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প পরবর্তীতে ট্রুথ সোশ্যালে আরও একটি পোস্টে লেখেন, “ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সম্মানের। তারপরও আমরা যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছি।” তিনি জানান, ইসরায়েল ও ইরান উভয় পক্ষই যুদ্ধ বন্ধে আগ্রহী ছিল।

যুদ্ধবিরতির ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে স্বস্তি আনলেও উদ্বেগ এখনো কাটেনি। কারণ অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও তেল আবিব অনেক সময় তা লঙ্ঘন করে হামলা চালিয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

যুদ্ধবিরতিতে এখনও স্বীকৃতি দেননি খামেনি

সর্বশেষ আপডেট ০৫:৪৪:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫

ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসলেও এ নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। দেশটির প্রেসিডেন্ট এবং সিনিয়র কর্মকর্তারা যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করলেও, খামেনির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে আন্তর্জাতিকভাবে এখন নজর রয়েছে তার অবস্থান ও বক্তব্যের দিকে।

বিবিসির বরাতে জানা যায়, খামেনি বর্তমানে তেহরানে তার সরকারি বাসভবনে না থেকে একটি নিরাপদ বাঙ্কারে অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও বিষয়টি ইরান সরকারিভাবে নিশ্চিত করেনি। সর্বশেষ গত ১৮ জুন তার রেকর্ড করা একটি ভিডিওবার্তা প্রচারিত হয়, যেখানে তিনি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের’ আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেন।

গত সোমবার রাতে ইরান কাতার ও ইরাকে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে জানান, ইসরায়েল ও ইরান সর্বাত্মক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “দয়া করে কেউ এটি লঙ্ঘন করবেন না।”

তবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও দুই দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলে। ইসরায়েলের এক হামলায় ইরানের এক পরমাণু বিজ্ঞানী ও তার পরিবার নিহত হন। জবাবে ইরান ইসরায়েলের বিরশেবা শহরে পাল্টা হামলা চালায়, যেখানে চারজন প্রাণ হারান।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, সামরিক অভিযান বন্ধে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি। তবে ইসরায়েল যদি ইরানের জনগণের ওপর হামলা বন্ধ রাখে, তাহলে ইরানের পক্ষ থেকেও পাল্টা হামলা চালানো হবে না। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও একই কথা বলেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প পরবর্তীতে ট্রুথ সোশ্যালে আরও একটি পোস্টে লেখেন, “ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সম্মানের। তারপরও আমরা যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছি।” তিনি জানান, ইসরায়েল ও ইরান উভয় পক্ষই যুদ্ধ বন্ধে আগ্রহী ছিল।

যুদ্ধবিরতির ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে স্বস্তি আনলেও উদ্বেগ এখনো কাটেনি। কারণ অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও তেল আবিব অনেক সময় তা লঙ্ঘন করে হামলা চালিয়েছে।