বাণিজ্য উপদেষ্টা
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোপন কোনো চুক্তি হয়নি
- সর্বশেষ আপডেট ১০:১৭:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫
- / 291
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে আরোপিত শুল্ক ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। তবে এ সুবিধা পেতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ‘গোপন চুক্তি’ হয়নি বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা।
ওয়াশিংটনে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, এই বাণিজ্য চুক্তি প্রয়োজনে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার বাতিলও করতে পারবে। তার ভাষায়, “আমরা জাতীয় স্বার্থের বাইরে গিয়ে কিছু করিনি। এটি একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়েছে।”
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আলোচনায় দুই দেশই বাণিজ্য ভারসাম্য, নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছে। কয়েক দফা আলোচনা শেষে একটি চুক্তিতে পৌঁছায় ঢাকা ও ওয়াশিংটন।

আলোচনায় অংশ নেওয়া নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান জানান, লবিস্ট নিয়োগ ছাড়াই এই চুক্তি হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের কোনো লবিস্ট লাগেনি। বরং মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশ আমাদের কৌশলগতভাবে সহায়তা করেছে।”
তার দাবি, “ভারত বা কানাডার মতো দেশ এখনো এ সুবিধা পায়নি, অথচ তাদের লবিস্টের ঘাটতি নেই। সব আলোচনা লবিস্ট দিয়ে হয় না; বিশেষ করে যেখানে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ভারসাম্যের বিষয় জড়িত।”
বাণিজ্য উপদেষ্টা আরও জানান, এই চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের মূল আগ্রহ ছিল কৃষিপণ্যে, বোয়িং বিক্রির ক্ষেত্রে নয়। তার ভাষায়, “আমরা গোপনে কিছু করিনি। নির্বাচিত সরকার চাইলে এই চুক্তি পুনর্বিবেচনা বা বাতিল করতে পারবে।”
তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি পেলে আমরা চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করবো। যদিও এটি আগেই ফাঁস হয়ে গেছে, তবু সেখানে এমন কিছু নেই যা দেশের স্বার্থের পরিপন্থী।”
তিনি যোগ করেন, “চুক্তিতে যেসব বিষয় দেশের স্বার্থের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে মনে হয়েছে, তা আলোচনা করে বাদ দেওয়া হয়েছে।”
এই বাণিজ্য সুবিধা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি যৌথ বিবৃতি শিগগিরই প্রকাশ হতে পারে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত একটি বাণিজ্য চুক্তিকে “ঐতিহাসিক কূটনৈতিক বিজয়” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার (১ আগস্ট) সকালে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী অর্জন এবং দেশটির কূটনৈতিক কৌশলের এক শক্তিশালী প্রকাশ।

ড. ইউনূস বলেন, “আমাদের শুল্ক আলোচক দল যে সফলতা দেখিয়েছে, তা এক কথায় অসাধারণ। ৩৭ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপের বিপরীতে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনার যে সাফল্য, তা আমাদের কূটনৈতিক পরিণতিবোধ, অর্থনৈতিক কৌশল এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে উচ্চতর সক্ষমতার প্রমাণ।”




































