যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্কেই ঝুলে রইল আলোচনা
- সর্বশেষ আপডেট ১২:৫৯:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫
- / 324
যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে চলমান তিন দিনের বাণিজ্যিক আলোচনায় শেষ পর্যন্ত আসেনি কাঙ্ক্ষিত সমাধান। মূল আলোচ্য বিষয় ছিল যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর আরোপিত ৩৫ শতাংশ বাড়তি শুল্ক কমানো। ৯ জুলাই শুরু হয়ে ১১ জুলাই পর্যন্ত চলা বৈঠকের পরও মেলেনি কোনো স্বস্তিদায়ক ঘোষণা। সরকারের পক্ষ থেকেও এ নিয়ে স্পষ্ট কোনো বার্তা পাওয়া যাচ্ছে না।
সূত্র জানায়, জুলাই মাসজুড়ে আলোচনা চলবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের চাহিদা আর বাংলাদেশের সক্ষমতার মধ্যে সমন্বয় কতটা সম্ভব তা নিয়েই রয়েছে অনিশ্চয়তা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক এখন এক ধরনের অনির্দেশ্যতার (ইনডিটারমিনেট) মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। পরে তা কমিয়ে ৩৫ শতাংশে নামানো হয়। এ ছাড়া ১৫ শতাংশ পূর্ববর্তী শুল্ক থাকায় মোট শুল্ক দাঁড়ায় ৫০ শতাংশ। আগস্ট থেকে এই নতুন শুল্ক কাঠামো কার্যকর হলে, বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার বড় ধাক্কা খাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে শিল্প উদ্যোক্তারা পড়েছেন চাপে। গার্মেন্টস বায়িং অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি এ কে এম সাইফুর রহমান বলেন, “আগস্ট থেকে যদি নতুন শুল্ক কাঠামো কার্যকর হয়, তাহলে পোশাক রপ্তানিতে মারাত্মক ধস নামবে।” এরই মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান অর্ডার স্থগিত করেছে বলেও তিনি জানান।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, “ইউএসটিআর থেকে প্রথম চিঠিটি ছিল ইতিবাচক। কিন্তু দ্বিতীয় চিঠিটি আর প্রকাশ করা হয়নি। যদি ৩৫ শতাংশ শুল্কই বহাল থাকে, তাহলে সেটা পোশাক খাতের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।”
তিনি আরও বলেন, গত অর্থবছরে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে আগের চেয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি করেছে। ফলে মার্কিন বাজার বাংলাদেশের জন্য ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছিল। তবে বাড়তি শুল্ক সেই অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিতে পারে।
অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, “আলোচনা করতে যাওয়া প্রতিনিধিদলে সুনির্দিষ্ট দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন লোকজনের অভাব ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে যাঁরা সরাসরি যুক্ত, অথবা এ বাজার নিয়ে গবেষণা করেন, তাঁদের থেকে কোনো পরামর্শ নেওয়া হয়নি।” তার মতে, আলোচনার ফলপ্রসূতা অনেকাংশে নির্ভর করে সঠিক প্রস্তুতির ওপর, যা এই ক্ষেত্রে অনুপস্থিত ছিল।
এই অবস্থায় আগস্টের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সমঝোতা না হলে, বাংলাদেশের রপ্তানি খাত নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত, যা দেশের বৈদেশিক আয়ের প্রধান উৎস, সেটি বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারে। যদিও আলোচনা এখনো চলছে, তবে বাকি সময়টুকুতে দ্রুত ও কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ না নিলে সংকট আরও গভীর হতে পারে।



































