ঢাকা ০৫:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মোমবাতির আলোয় আলোকিত পাহাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক, শেরপুর
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:৪৯:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫
  • / 131

মোমবাতির আলোয় আলোকিত পাহাড়

মোমবাতি জ্বালিয়ে মনের বাসনা পূরণ ও পূণ্য লাভের আশায় প্রায় দুই কিলোমিটার উঁচু-নিচু পাহাড়ি পথ পাড়ি দেন হাজারো ভক্ত। আলোকিত হয়ে ওঠে পাহাড়। আলোর শোভাযাত্রার সময় ভক্তদের কণ্ঠে উচ্চারিত হয়, “হে ঈশ্বর জননী, আমরা পাপী, আমাদের তুমি ক্ষমা করো।” একই সঙ্গে জপমালা হাতে প্রার্থনায় মগ্ন থাকেন ভক্তরা।

তাদের গন্তব্য ছিল মা মারিয়ার আশীর্বাদপ্রাপ্ত স্থান নালিতাবাড়ী, গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত বারমারী সাধু লিওর ধর্মপল্লি। গত বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী খ্রিস্টভক্তদের ধর্মীয় তীর্থোৎসব শুক্রবার শেষ হয়।

আয়োজক কমিটির সমন্বয়ক ও বারমারী মিশনের পালপুরোহিত রেভারেন্ড ফাদার তরুণ বনোয়ারী জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে তীর্থোৎসবের উদ্বোধন করেন ভ্যাটিকান সিটির দূত কেভিন এস. র‌্যান্ডেল। রাত সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হয় আলোক শোভাযাত্রা। রাত ১১টায় মা মারিয়ার মূর্তিকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত হয় আরাধনা। রাত ১২টায় নিরাময় অনুষ্ঠান ও নিশিজাগরণের মাধ্যমে শেষ হয় প্রথম দিনের ধর্মীয় কার্যক্রম। পরের দিন শুক্রবার সকাল ৮টায় জীবন্ত ক্রুশের পথ অতিক্রম এবং সকাল ১০টায় মহাখ্রিস্টযাগের মধ্য দিয়ে এবারের তীর্থোৎসব সমাপ্ত হয়।

আয়োজক কমিটির তথ্যমতে, বারমারী সাধু লিওর ধর্মপল্লিতে ১৯৯৮ সাল থেকে ফাতেমা রানীর তীর্থ উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১৯৪২ সালে প্রায় ৪২ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের এই ধর্মপল্লি প্রতিবছর অক্টোবরের শেষ বৃহস্পতি ও শুক্রবার উৎসবের আয়োজন করে। শুধু শেরপুর নয়, দেশ-বিদেশের প্রায় লাখো পুণ্যার্থী অংশ নেন। উৎসবে মহাখ্রিস্টযাগ, গীতি আলেখ্য, আলোর মিছিল, নিশিজাগরণ, নিরাময় অনুষ্ঠান, পাপ স্বীকার, জীবন্ত ক্রুশের পথসহ নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়।

ভক্তদের আগমন বাড়ানোর জন্য বর্তমান সময়ে তীর্থস্থানে প্রায় ৩০ লাখ টাকায় ৪৮ ফুট উচ্চতার ফাতেমা রানীর মা মারিয়ার মূর্তি নির্মাণ করা হয়েছে। এটি খ্রিস্টভক্তদের জন্য একটি পবিত্র স্থান। এখানে এসে তারা ধর্মীয় অনুভূতি জাগিয়ে প্রার্থনা করেন।

সাধু লিওর ধর্মপল্লির পালপুরোহিত তরুণ বনোয়ারী জানান, এবারের ২৫তম তীর্থোৎসবে হাজারো খ্রিস্টভক্ত অংশ নিয়েছেন। এবারের উৎসবের মূল স্লোগান ছিল ‘আশার তীর্থযাত্রী, ফাতেমা রানী মা মারিয়া’। আলোক শোভাযাত্রা তাদের বিশ্বাসের প্রতীক। মোমবাতির আলো হাতে নিয়ে পাহাড়ি পথে হেঁটে চলা হাজারো ভক্ত প্রমাণ করেন, যত বাধাই আসুক, মা মারিয়ার কৃপায় আলোর পথে এগিয়ে যাবেন তারা।

এদিকে তীর্থস্থানের বাইরে বিশাল এলাকাজুড়ে বসেছে বারোয়ারী মেলা। তীর্থ উৎসব নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

গত বৃহস্পতিবার রাতের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান ও পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মোমবাতির আলোয় আলোকিত পাহাড়

সর্বশেষ আপডেট ০৭:৪৯:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫

মোমবাতি জ্বালিয়ে মনের বাসনা পূরণ ও পূণ্য লাভের আশায় প্রায় দুই কিলোমিটার উঁচু-নিচু পাহাড়ি পথ পাড়ি দেন হাজারো ভক্ত। আলোকিত হয়ে ওঠে পাহাড়। আলোর শোভাযাত্রার সময় ভক্তদের কণ্ঠে উচ্চারিত হয়, “হে ঈশ্বর জননী, আমরা পাপী, আমাদের তুমি ক্ষমা করো।” একই সঙ্গে জপমালা হাতে প্রার্থনায় মগ্ন থাকেন ভক্তরা।

তাদের গন্তব্য ছিল মা মারিয়ার আশীর্বাদপ্রাপ্ত স্থান নালিতাবাড়ী, গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত বারমারী সাধু লিওর ধর্মপল্লি। গত বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী খ্রিস্টভক্তদের ধর্মীয় তীর্থোৎসব শুক্রবার শেষ হয়।

আয়োজক কমিটির সমন্বয়ক ও বারমারী মিশনের পালপুরোহিত রেভারেন্ড ফাদার তরুণ বনোয়ারী জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে তীর্থোৎসবের উদ্বোধন করেন ভ্যাটিকান সিটির দূত কেভিন এস. র‌্যান্ডেল। রাত সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হয় আলোক শোভাযাত্রা। রাত ১১টায় মা মারিয়ার মূর্তিকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত হয় আরাধনা। রাত ১২টায় নিরাময় অনুষ্ঠান ও নিশিজাগরণের মাধ্যমে শেষ হয় প্রথম দিনের ধর্মীয় কার্যক্রম। পরের দিন শুক্রবার সকাল ৮টায় জীবন্ত ক্রুশের পথ অতিক্রম এবং সকাল ১০টায় মহাখ্রিস্টযাগের মধ্য দিয়ে এবারের তীর্থোৎসব সমাপ্ত হয়।

আয়োজক কমিটির তথ্যমতে, বারমারী সাধু লিওর ধর্মপল্লিতে ১৯৯৮ সাল থেকে ফাতেমা রানীর তীর্থ উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১৯৪২ সালে প্রায় ৪২ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের এই ধর্মপল্লি প্রতিবছর অক্টোবরের শেষ বৃহস্পতি ও শুক্রবার উৎসবের আয়োজন করে। শুধু শেরপুর নয়, দেশ-বিদেশের প্রায় লাখো পুণ্যার্থী অংশ নেন। উৎসবে মহাখ্রিস্টযাগ, গীতি আলেখ্য, আলোর মিছিল, নিশিজাগরণ, নিরাময় অনুষ্ঠান, পাপ স্বীকার, জীবন্ত ক্রুশের পথসহ নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়।

ভক্তদের আগমন বাড়ানোর জন্য বর্তমান সময়ে তীর্থস্থানে প্রায় ৩০ লাখ টাকায় ৪৮ ফুট উচ্চতার ফাতেমা রানীর মা মারিয়ার মূর্তি নির্মাণ করা হয়েছে। এটি খ্রিস্টভক্তদের জন্য একটি পবিত্র স্থান। এখানে এসে তারা ধর্মীয় অনুভূতি জাগিয়ে প্রার্থনা করেন।

সাধু লিওর ধর্মপল্লির পালপুরোহিত তরুণ বনোয়ারী জানান, এবারের ২৫তম তীর্থোৎসবে হাজারো খ্রিস্টভক্ত অংশ নিয়েছেন। এবারের উৎসবের মূল স্লোগান ছিল ‘আশার তীর্থযাত্রী, ফাতেমা রানী মা মারিয়া’। আলোক শোভাযাত্রা তাদের বিশ্বাসের প্রতীক। মোমবাতির আলো হাতে নিয়ে পাহাড়ি পথে হেঁটে চলা হাজারো ভক্ত প্রমাণ করেন, যত বাধাই আসুক, মা মারিয়ার কৃপায় আলোর পথে এগিয়ে যাবেন তারা।

এদিকে তীর্থস্থানের বাইরে বিশাল এলাকাজুড়ে বসেছে বারোয়ারী মেলা। তীর্থ উৎসব নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

গত বৃহস্পতিবার রাতের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান ও পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম।