মোদীর হাতে চায়ের কেটলি: নতুন করে বিতর্কে কংগ্রেস
- সর্বশেষ আপডেট ০২:৪৭:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 138
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চা–বিক্রেতার রূপে দেখিয়ে এআই-নির্মিত একটি ভিডিও প্রকাশকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। কংগ্রেস নেত্রী রাগিনি নায়ক তাঁর এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্টে ভিডিওটি শেয়ার করেন। এরপরই বিজেপি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কংগ্রেসকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি “অপমানজনক আচরণ” করার অভিযোগ তোলে।
ভিডিওতে দেখা যায়—হালকা নীল কোট ও কালো প্যান্ট পরা মোদী লাল কার্পেট বিছানো একটি অনুষ্ঠানে হাতে কেটলি ও চায়ের গ্লাস নিয়ে হাঁটছেন। পেছনে বিভিন্ন দেশের পতাকার পাশাপাশি ভারতের তিরঙ্গাও দেখা যায়। মোদীর কণ্ঠ অনুকরণ করে একটি কণ্ঠস্বর বলছে, “চাই বলো, চাইয়্যে?”
বিজেপি মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা বলেন, “রেণুকা চৌধুরীর সংসদ ও সেনাকে অপমানের পর এবার রাগিনি নায়ক ‘চাইওয়ালা’ ব্যাকগ্রাউন্ড ব্যবহার করে মোদীকে ব্যঙ্গ করেছেন। অভিজাত কংগ্রেস কখনোই মানতে পারে না যে পরিশ্রমী, সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা একজন মানুষ আজ দেশের প্রধানমন্ত্রী।”
তিনি আরও দাবি করেন, কংগ্রেস অতীতে মোদীকে অন্তত ১৫০ বারের বেশি ‘অপমান করেছে’ এবং বিহারের নির্বাচনী সময়ে তাঁর মাকেও আক্রমণ করেছে। পুনাওয়ালার মন্তব্যের পেছনে রয়েছে গত সেপ্টেম্বরে বিহার কংগ্রেস প্রকাশিত আরেকটি এআই–ভিডিও, যেখানে মোদীর প্রয়াত মাকে ব্যঙ্গ করে কন্টেন্ট তৈরি হয়েছিল। ব্যাপক বিতর্কের পর পাটনা হাইকোর্ট সেই ভিডিও সব প্ল্যাটফর্ম থেকে সরানোর নির্দেশ দেয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এআই–ভিডিওকে কেন্দ্র করে কংগ্রেসের বর্তমান অবস্থান তাদের পূর্বের ভুল থেকে শিক্ষা না নেওয়ারই ইঙ্গিত দেয়। ২০১৪ সালের নির্বাচন থেকেই কংগ্রেস নেতাদের ‘চাইওয়ালা’ মন্তব্য ধারাবাহিকভাবে বিজেপির জন্য উল্টো ফল বয়ে এনেছে।
২০১৪ সালের জানুয়ারিতে কংগ্রেস নেতা মণিশঙ্কর আইয়ার দলীয় এক বৈঠকে বলেছিলেন, মোদী কখনোই প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না; বরং তিনি চাইলে নির্বাচনে হেরে কংগ্রেস সভাস্থলে চা পরিবেশন করতে পারেন।
কংগ্রেস নেতার ওই মন্তব্য দ্রুত ‘চাইওয়ালা’ ব্যঙ্গ হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে। বিজেপি বিষয়টিকে সাধারণ মানুষের প্রতি কংগ্রেসের ‘অহংকার’ হিসেবে তুলে ধরে রাজনৈতিকভাবে বড় সুবিধা নেয়।
পরে নিজের বইতে আইয়ার দাবি করেন, তিনি শব্দগতভাবে ‘চাইওয়ালা’ বলেননি; তবে মন্তব্যটি কংগ্রেসের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়েছিল বলে স্বীকার করেন।
বিজেপি তখনই ‘চাই পে চর্চা’ কর্মসূচির মাধ্যমে বিষয়টিকে জনসংযোগের বড় উপকরণে পরিণত করে। সারা দেশে চায়ের দোকান ঘিরে ভোটারদের সঙ্গে মোদীর যোগাযোগ বাড়ানো হয়, যাতে তাঁর সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে ভাবমূর্তি আরও দৃঢ় হয়।
২০১৭ সালে ইন্ডিয়ান ইউথ কংগ্রেসের একটি অনলাইন পেজে মোদীকে চা বিক্রেতা চরিত্রে কার্টুনে উপস্থাপন করা হয়। তীব্র সমালোচনার মুখে দলটি দ্রুত পোস্টটি সরিয়ে নেয়।
নরেন্দ্র মোদী বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, তিনি কখনো নিজের ‘চাইওয়ালা’ অতীতকে রাজনৈতিক প্রচারণায় ব্যবহার করেননি; কংগ্রেস নেতাদের ব্যঙ্গ–বিদ্রুপই তাঁকে বিষয়টি প্রকাশ্যে বলতে বাধ্য করেছে। তাঁর মতে, সাধারণ মানুষের জীবিকা নিয়ে কংগ্রেসের এই ব্যঙ্গই মানুষকে তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে প্রভাবিত করেছে।
তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
































