ঢাকা ০৫:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মেট্রোরেলে ৪৫ ত্রুটি শনাক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:৪০:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫
  • / 68

মেট্রোরেল

রাজধানীর মেট্রোরেলে যাত্রীদের টিকিট পরীক্ষা স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রে হলেও ত্রুটির হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। যেখানে ধারণা করা হয়েছিল প্রতি এক লাখ যাত্রীর মধ্যে একজনের টিকিট যাচাইয়ে সমস্যা হবে, সেখানে এখন প্রতি এক লাখে প্রায় দেড় হাজার যাত্রীর ক্ষেত্রে ব্যর্থতা ঘটছে।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) জানিয়েছে, পুরো মেট্রোরেল ব্যবস্থায় ৪৫ ধরনের ত্রুটি ও ঘাটতি শনাক্ত হয়েছে। অভিযোগ আছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও পরামর্শকরা চুক্তি অনুযায়ী কাজ করেনি।

ডিএমটিসিএলের ৬৩ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে ত্রুটিগুলো বর্ণিত হয়েছে:

সংকেত ও টেলিযোগাযোগে: ১০টি ত্রুটি

বৈদ্যুতিক কাজে: ১৬টি ত্রুটি

অবকাঠামো নির্মাণে: ১০টি ত্রুটি

ট্রেন ও সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থায়: ৯টি ত্রুটি

ত্রুটি সংশোধনের জন্য ঠিকাদারদের একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও অধিকাংশ সমস্যার সমাধান হয়নি।

গত ২৬ অক্টোবর ফার্মগেটে মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে একজন পথচারীর মৃত্যু হয়। একই স্থানে আগে এমন ঘটনা ঘটেছে। ডিএমটিসিএল জানায়, এসব ত্রুটিতে বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি কম হলেও চলাচলে বিঘ্ন, বারবার মেরামত এবং প্রযুক্তিগত জটিলতা বাড়ছে। চালুর পর থেকে ৩০–৪০ বার মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছে, যা ২০ মিনিট থেকে ২২ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী নির্মাণ শেষে দেড় বছর পর্যন্ত ত্রুটি সারানোর দায়িত্ব ছিল ঠিকাদারের। সেই সময়সীমা শেষ হলেও ডিএমটিসিএল চাইছে, প্রতিষ্ঠানটি অতিরিক্ত দুই বছর বিনা খরচে ঘাটতি পূরণ করুক। ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ জানিয়েছেন, ত্রুটি ও ঘাটতি নিয়ে তদন্ত চলছে এবং ঠিকাদার ও পরামর্শককে সময় বাড়িয়ে সমাধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালে ২১,৯৮৫ কোটি টাকায় অনুমোদিত প্রকল্পের সর্বশেষ ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩৩,৪৭২ কোটি টাকা। জাপানের জাইকা থেকে নেওয়া ঋণ ১৯,৭১৮ কোটি টাকা। প্রতি কিলোমিটার মেট্রোরেল নির্মাণে খরচ প্রায় ১,৫০০–২,০০০ কোটি টাকা, যা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ।

বুয়েটের অধ্যাপক সামছুল হক বলেন, “এত বিপুল ব্যয়ের প্রকল্পে ত্রুটি থাকা অগ্রহণযোগ্য। ঠিকাদার ও পরামর্শককে দায় নিতে হবে।”

এদিকে ডিএমটিসিএল জানিয়েছে, ১৬টি স্টেশনের ৮৯টি স্থানে বৃষ্টির পানি প্রবেশ করছে। প্রবেশপথ, লিফট, এসকেলেটর, এমনকি প্ল্যাটফর্মেও পানি পড়ে। কিছু জায়গায় টেপ দিয়ে মেরামত করা হলেও তা কার্যকর হয়নি।

কিছু স্টেশনে ট্রেন সুনির্দিষ্ট জায়গায় থামে না। এর ফলে দরজা না খোলা বা যাত্রী ওঠানামায় বিলম্ব হচ্ছে।

ডিএমটিসিএলের নথি অনুযায়ী, গত দুই বছরে নানা প্রযুক্তিগত কারণে বহুবার ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছে।

দরজা ও সেন্সর সমস্যায় ট্রেন থেমেছে বহুবার

ব্রেক সিস্টেমে ৩০২টি চিড় পাওয়া গেছে

এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম অকেজো থেকেছে ১৫ হাজার ঘণ্টার বেশি

সফটওয়্যার ও টিকিট মেশিন বিকল থেকেছে মোট ১৬৫ দিনের সমপরিমাণ সময়

অধ্যাপক সামছুল হক বলেন, “মেট্রোরেল প্রকল্পে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে, কিন্তু নিরাপদ অবকাঠামো পাওয়া যায়নি। এতে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও বাড়বে।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মেট্রোরেলে ৪৫ ত্রুটি শনাক্ত

সর্বশেষ আপডেট ১২:৪০:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫

রাজধানীর মেট্রোরেলে যাত্রীদের টিকিট পরীক্ষা স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রে হলেও ত্রুটির হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। যেখানে ধারণা করা হয়েছিল প্রতি এক লাখ যাত্রীর মধ্যে একজনের টিকিট যাচাইয়ে সমস্যা হবে, সেখানে এখন প্রতি এক লাখে প্রায় দেড় হাজার যাত্রীর ক্ষেত্রে ব্যর্থতা ঘটছে।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) জানিয়েছে, পুরো মেট্রোরেল ব্যবস্থায় ৪৫ ধরনের ত্রুটি ও ঘাটতি শনাক্ত হয়েছে। অভিযোগ আছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও পরামর্শকরা চুক্তি অনুযায়ী কাজ করেনি।

ডিএমটিসিএলের ৬৩ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে ত্রুটিগুলো বর্ণিত হয়েছে:

সংকেত ও টেলিযোগাযোগে: ১০টি ত্রুটি

বৈদ্যুতিক কাজে: ১৬টি ত্রুটি

অবকাঠামো নির্মাণে: ১০টি ত্রুটি

ট্রেন ও সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থায়: ৯টি ত্রুটি

ত্রুটি সংশোধনের জন্য ঠিকাদারদের একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও অধিকাংশ সমস্যার সমাধান হয়নি।

গত ২৬ অক্টোবর ফার্মগেটে মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে একজন পথচারীর মৃত্যু হয়। একই স্থানে আগে এমন ঘটনা ঘটেছে। ডিএমটিসিএল জানায়, এসব ত্রুটিতে বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি কম হলেও চলাচলে বিঘ্ন, বারবার মেরামত এবং প্রযুক্তিগত জটিলতা বাড়ছে। চালুর পর থেকে ৩০–৪০ বার মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছে, যা ২০ মিনিট থেকে ২২ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী নির্মাণ শেষে দেড় বছর পর্যন্ত ত্রুটি সারানোর দায়িত্ব ছিল ঠিকাদারের। সেই সময়সীমা শেষ হলেও ডিএমটিসিএল চাইছে, প্রতিষ্ঠানটি অতিরিক্ত দুই বছর বিনা খরচে ঘাটতি পূরণ করুক। ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ জানিয়েছেন, ত্রুটি ও ঘাটতি নিয়ে তদন্ত চলছে এবং ঠিকাদার ও পরামর্শককে সময় বাড়িয়ে সমাধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালে ২১,৯৮৫ কোটি টাকায় অনুমোদিত প্রকল্পের সর্বশেষ ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩৩,৪৭২ কোটি টাকা। জাপানের জাইকা থেকে নেওয়া ঋণ ১৯,৭১৮ কোটি টাকা। প্রতি কিলোমিটার মেট্রোরেল নির্মাণে খরচ প্রায় ১,৫০০–২,০০০ কোটি টাকা, যা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ।

বুয়েটের অধ্যাপক সামছুল হক বলেন, “এত বিপুল ব্যয়ের প্রকল্পে ত্রুটি থাকা অগ্রহণযোগ্য। ঠিকাদার ও পরামর্শককে দায় নিতে হবে।”

এদিকে ডিএমটিসিএল জানিয়েছে, ১৬টি স্টেশনের ৮৯টি স্থানে বৃষ্টির পানি প্রবেশ করছে। প্রবেশপথ, লিফট, এসকেলেটর, এমনকি প্ল্যাটফর্মেও পানি পড়ে। কিছু জায়গায় টেপ দিয়ে মেরামত করা হলেও তা কার্যকর হয়নি।

কিছু স্টেশনে ট্রেন সুনির্দিষ্ট জায়গায় থামে না। এর ফলে দরজা না খোলা বা যাত্রী ওঠানামায় বিলম্ব হচ্ছে।

ডিএমটিসিএলের নথি অনুযায়ী, গত দুই বছরে নানা প্রযুক্তিগত কারণে বহুবার ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছে।

দরজা ও সেন্সর সমস্যায় ট্রেন থেমেছে বহুবার

ব্রেক সিস্টেমে ৩০২টি চিড় পাওয়া গেছে

এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম অকেজো থেকেছে ১৫ হাজার ঘণ্টার বেশি

সফটওয়্যার ও টিকিট মেশিন বিকল থেকেছে মোট ১৬৫ দিনের সমপরিমাণ সময়

অধ্যাপক সামছুল হক বলেন, “মেট্রোরেল প্রকল্পে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে, কিন্তু নিরাপদ অবকাঠামো পাওয়া যায়নি। এতে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও বাড়বে।”