মুক্তিযুদ্ধের উপ সেনাপতি এ কে খন্দকারের প্রয়াণ
- সর্বশেষ আপডেট ০১:২৬:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 93
এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আবদুল করিম খন্দকার যিনি একে খন্দকার নামে পরিচিত (১ জানুয়ারি ১৯৩০ - ২০ ডিসেম্বর ২০২৫)
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম শীর্ষ সামরিক নেতৃত্ব, মুক্তিযুদ্ধকালীন উপ সেনাপতি ও বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকার (বীর উত্তম) আর নেই। বার্ধক্যজনিত কারণে আজ সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে তিনি ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বার্তায় নিশ্চিত করেছে।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৬ বছর।
এ কে খন্দকারের জন্ম ১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি। পিতার তৎকালীন কর্মস্থল রংপুর শহরে জন্ম হলেও তার পৈতৃক নিবাস পাবনা জেলার বেড়া উপজেলার ভারেঙ্গা গ্রামে। তার পিতা খন্দকার আব্দুল লতিফ ছিলেন ব্রিটিশ আমলের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট এবং মাতা আরেফা খাতুন একজন গৃহিণী। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়।
শিক্ষাজীবনে বগুড়া করোনেশন স্কুল, নওগাঁ জিলা স্কুল, রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল ও মালদা জেলা স্কুলে পড়াশোনা করেন তিনি। ১৯৪৭ সালে মালদা জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন।
১৯৫২ সালে পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে পাইলট অফিসার হিসেবে কমিশন লাভের মধ্য দিয়ে তার সামরিক কর্মজীবন শুরু। দীর্ঘদিন ফাইটার পাইলট, ফ্লাইং ইন্সট্রাক্টর, স্কোয়াড্রন কমান্ডার ও পরিকল্পনা বোর্ডের প্রেসিডেন্টসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯ সালে ঢাকায় পিএএফ বেইসের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তিনি মুক্তিবাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ও জেনারেল এম এ জি ওসমানীর উপ-প্রধান সেনাপতি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত হন।
স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রথম প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত এয়ার ভাইস মার্শাল হিসেবে সিওএএস ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি রাষ্ট্রদূত, পরিকল্পনা মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
এরপর ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের টিকিটে পাবনা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর পাঁচ বছর শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় পরিকল্পনামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এ কে খন্দকার।
মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকার জন্য ২০১১ সালে এ কে খন্দকারকে স্বাধীনতা পদক দেয় সরকার।































