ঢাকা ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মিস ইউনিভার্সের মুকুট জিতলেন মেক্সিকোর ফাতিমা বশ

বিনোদন ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫
  • / 160

মিস ইউনিভার্সের মুকুট জিতলেন মেক্সিকোর ফাতিমা বশ

মিস ইউনিভার্স ২০২৫–এ মেক্সিকোর ফাতিমা বশের অভিষেক যেন এক নাটকীয় বিজয়ের গল্প। বিতর্ক, সমালোচনা আর উত্তেজনায় ভরা পরিবেশের মাঝেই ২৫ বছর বয়সী এই মানবিক–কর্মী নিজের মুকুট জয়কে পরিণত করলেন এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে।

প্রতিযোগিতার কয়েকদিন আগে লাইভ–স্ট্রিম করা এক বৈঠকে থাই পেজেন্ট ডিরেক্টরের প্রকাশ্য তিরস্কারের ঘটনা মুহূর্তেই আলোড়ন তোলে বিশ্বজুড়ে। তা দেখে প্রতিবাদে ওয়াকআউট করেন কয়েকজন প্রতিযোগী। ঠিক সেই ঝড়ের পরই ফাতিমা হয়ে ওঠেন এই আসরের সবচেয়ে আলোচিত মুখ—অনেকের কাছে তিনি দাঁড়ান সাহস ও আত্মসম্মানের প্রতীক হিসেবে।

২১ নভেম্বর থাইল্যান্ডে আয়োজিত মহাসমারোহে গতবারের মিস ইউনিভার্স, ডেনমার্কের ভিক্টোরিয়া ক্যায়ের থেইলভিগের কাছ থেকে মুকুট গ্রহণ করেন তিনি। এ বছর রানারআপ হয়েছেন আয়োজক দেশের প্রতিযোগী প্রাভিনার সিংহ। শীর্ষ পাঁচে আরও জায়গা করে নিয়েছেন ভেনেজুয়েলার স্টেফানি আবাসালি, ফিলিপাইনের আটিসা মানালো এবং আইভরি কোস্টের অলিভিয়া ইয়াসে।

এবারের মিস ইউনিভার্সে ১২০ দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন। প্রথমবারের মতো ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন নাদিন আয়ুব। তিনি সেমিফাইনালে পৌঁছালেও শীর্ষ ৩০–এ আর জায়গা ধরে রাখতে পারেননি। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন মার্কিন কৌতুকশিল্পী স্টিভ বায়ার্ন, আর উদ্বোধনী পরিবেশনায় ছিলেন থাই তারকা জেফ স্যাচুর।

প্রতিযোগিতার তিন সপ্তাহজুড়ে থাইল্যান্ডের নানা স্থানে রিহার্সাল ও নানা ইভেন্টে অংশ নেন প্রতিযোগীরা। জাতীয় পরিচয় তুলে ধরার বিশেষ প্রদর্শনী ‘ন্যাশনাল কস্টিউম শোকেস’–এ প্রতিটি দেশের প্রতিনিধির পোশাক ছিল দৃষ্টিনন্দন ও ব্যতিক্রমী। মিস ইউএসএ অড্রি একার্ট হাজির হন সাইমন ভিলালবার নকশা করা বৈচিত্র্যময় ‘বাল্ড ঈগল’ কস্টিউমে। একইদিন প্রিলিমিনারি রাউন্ডে সন্ধ্যার গাউন পরে হাঁটার সময় পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন জ্যামাইকার গাব্রিয়েল হেনরি। পরে তাকে স্ট্রেচারে করে নেওয়া হয়। মিস ইউনিভার্স প্রেসিডেন্ট রাউল রোচা জানান—হেনরির কোনো হাড় ভাঙেনি, তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে আছেন।

ফাইনালে প্রতিযোগীদের মুখোমুখি হতে হয় দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের—জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বক্তব্য রাখার সুযোগ পেলে কোন বৈশ্বিক ইস্যুকে প্রাধান্য দেওয়া হবে, এবং মিস ইউনিভার্স হয়ে কিশোরী মেয়েদের ক্ষমতায়নে কীভাবে কাজ করবেন। উত্তরে ফাতিমা বলেন, “নিজের ভেতরের শক্তিতে বিশ্বাস রাখুন। আপনার স্বপ্নের মূল্য আছে, আপনার হৃদয়ের মূল্য আছে। কেউ যেন আপনাকে আপনার মূল্য নিয়ে সন্দেহে ফেলতে না পারে।”

বিতর্ক, প্রতিকূলতা আর নাটকীয়তার ভেতর দিয়ে উঠে আসা ফাতিমা বশের এই বিজয় এখন নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—তিনি কি শুধু মুকুটই জিতলেন, নাকি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার ধরণ ও দর্শনের ভেতরেও নতুন এক পরিবর্তনের ইঙ্গিত রেখে গেলেন?

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মিস ইউনিভার্সের মুকুট জিতলেন মেক্সিকোর ফাতিমা বশ

সর্বশেষ আপডেট ১১:০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫

মিস ইউনিভার্স ২০২৫–এ মেক্সিকোর ফাতিমা বশের অভিষেক যেন এক নাটকীয় বিজয়ের গল্প। বিতর্ক, সমালোচনা আর উত্তেজনায় ভরা পরিবেশের মাঝেই ২৫ বছর বয়সী এই মানবিক–কর্মী নিজের মুকুট জয়কে পরিণত করলেন এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে।

প্রতিযোগিতার কয়েকদিন আগে লাইভ–স্ট্রিম করা এক বৈঠকে থাই পেজেন্ট ডিরেক্টরের প্রকাশ্য তিরস্কারের ঘটনা মুহূর্তেই আলোড়ন তোলে বিশ্বজুড়ে। তা দেখে প্রতিবাদে ওয়াকআউট করেন কয়েকজন প্রতিযোগী। ঠিক সেই ঝড়ের পরই ফাতিমা হয়ে ওঠেন এই আসরের সবচেয়ে আলোচিত মুখ—অনেকের কাছে তিনি দাঁড়ান সাহস ও আত্মসম্মানের প্রতীক হিসেবে।

২১ নভেম্বর থাইল্যান্ডে আয়োজিত মহাসমারোহে গতবারের মিস ইউনিভার্স, ডেনমার্কের ভিক্টোরিয়া ক্যায়ের থেইলভিগের কাছ থেকে মুকুট গ্রহণ করেন তিনি। এ বছর রানারআপ হয়েছেন আয়োজক দেশের প্রতিযোগী প্রাভিনার সিংহ। শীর্ষ পাঁচে আরও জায়গা করে নিয়েছেন ভেনেজুয়েলার স্টেফানি আবাসালি, ফিলিপাইনের আটিসা মানালো এবং আইভরি কোস্টের অলিভিয়া ইয়াসে।

এবারের মিস ইউনিভার্সে ১২০ দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন। প্রথমবারের মতো ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন নাদিন আয়ুব। তিনি সেমিফাইনালে পৌঁছালেও শীর্ষ ৩০–এ আর জায়গা ধরে রাখতে পারেননি। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন মার্কিন কৌতুকশিল্পী স্টিভ বায়ার্ন, আর উদ্বোধনী পরিবেশনায় ছিলেন থাই তারকা জেফ স্যাচুর।

প্রতিযোগিতার তিন সপ্তাহজুড়ে থাইল্যান্ডের নানা স্থানে রিহার্সাল ও নানা ইভেন্টে অংশ নেন প্রতিযোগীরা। জাতীয় পরিচয় তুলে ধরার বিশেষ প্রদর্শনী ‘ন্যাশনাল কস্টিউম শোকেস’–এ প্রতিটি দেশের প্রতিনিধির পোশাক ছিল দৃষ্টিনন্দন ও ব্যতিক্রমী। মিস ইউএসএ অড্রি একার্ট হাজির হন সাইমন ভিলালবার নকশা করা বৈচিত্র্যময় ‘বাল্ড ঈগল’ কস্টিউমে। একইদিন প্রিলিমিনারি রাউন্ডে সন্ধ্যার গাউন পরে হাঁটার সময় পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন জ্যামাইকার গাব্রিয়েল হেনরি। পরে তাকে স্ট্রেচারে করে নেওয়া হয়। মিস ইউনিভার্স প্রেসিডেন্ট রাউল রোচা জানান—হেনরির কোনো হাড় ভাঙেনি, তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে আছেন।

ফাইনালে প্রতিযোগীদের মুখোমুখি হতে হয় দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের—জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বক্তব্য রাখার সুযোগ পেলে কোন বৈশ্বিক ইস্যুকে প্রাধান্য দেওয়া হবে, এবং মিস ইউনিভার্স হয়ে কিশোরী মেয়েদের ক্ষমতায়নে কীভাবে কাজ করবেন। উত্তরে ফাতিমা বলেন, “নিজের ভেতরের শক্তিতে বিশ্বাস রাখুন। আপনার স্বপ্নের মূল্য আছে, আপনার হৃদয়ের মূল্য আছে। কেউ যেন আপনাকে আপনার মূল্য নিয়ে সন্দেহে ফেলতে না পারে।”

বিতর্ক, প্রতিকূলতা আর নাটকীয়তার ভেতর দিয়ে উঠে আসা ফাতিমা বশের এই বিজয় এখন নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—তিনি কি শুধু মুকুটই জিতলেন, নাকি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার ধরণ ও দর্শনের ভেতরেও নতুন এক পরিবর্তনের ইঙ্গিত রেখে গেলেন?