মির্জা ফখরুলের জন্মদিন আজ
- সর্বশেষ আপডেট ১০:৩৩:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
- / 14
বিএনপির মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ ৭৯ বছরে পা দিলেন। জীবনের আরেকটি বছর পেরিয়ে জন্মদিনের এই দিনে তিনি ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার বাইরে গিয়ে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন।
জন্মদিন উপলক্ষে রবিবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ি এলাকায় নিজ বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটান তিনি। রাত ১২টা ১ মিনিটে স্ত্রী রাহাত আরা বেগম ও ঘনিষ্ঠ স্বজনদের উপস্থিতিতে কেক কেটে জন্মদিন উদযাপন করেন বিএনপির মহাসচিব। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক ব্যস্ততার মাঝেও এই সময়টুকু তিনি একান্তভাবে পরিবারের জন্য রেখেছিলেন।
১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া মির্জা ফখরুলের জন্মদিনে বিভিন্ন স্তরের মানুষ শুভেচ্ছা জানান। ফোনকল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বজন, শুভানুধ্যায়ী এবং অনুসারীদের শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি সিক্ত হন। বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমানসহ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মী এবং এলাকার সুধীজনেরা তাকে অভিনন্দন জানান।
ব্যক্তিগত জীবনে মির্জা ফখরুলের বাবা মরহুম মির্জা রুহুল আমিন (চোখা মিয়া) এবং মা মরহুমা মির্জা ফাতেমা আমিন। তার বাবা একজন আইনজীবী ছিলেন এবং স্বাধীনতার আগে ও পরে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। শিক্ষাজীবনে মির্জা ফখরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
পারিবারিক জীবনে তার দুই মেয়ে। বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শেষে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় পোস্ট ডক্টরাল ফেলো হিসেবে কর্মরত। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে তিনি ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনে বাবার পক্ষে নির্বাচনী গণসংযোগে যুক্ত রয়েছেন। ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে রাজধানীর একটি স্কুলে শিক্ষকতা করছেন। তার সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং বর্তমানে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদে কর্মরত।
রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি কর্মজীবনেও তিনি দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৭২ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষা ক্যাডারে ঢাকা কলেজে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেন এবং বাংলাদেশ সরকারের পরিদর্শন ও আয়ব্যয় পরীক্ষণ অধিদপ্তরে নিরীক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৯ সালে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেন। ১৯৮২ সালে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর পুনরায় শিক্ষকতা পেশায় ফিরে গিয়ে ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেন।
ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মির্জা ফখরুল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং সংগঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।
১৯৮৬ সালে পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে শিক্ষকতা ছেড়ে তিনি সরাসরি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে তার নির্বাচনী রাজনীতির সূচনা হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং ১৯৯২ সালে দলের ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। একই সময়ে জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
সংসদীয় রাজনীতিতে তিনি ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে তিনি দলের মহাসচিব নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচিত হলেও তিনি সংসদে যোগ দেননি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সময় আইনি জটিলতার মুখোমুখিও হয়েছেন।
৭৯ বছরে পা রেখেও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক সক্রিয়তা ও প্রত্যাশা এখনো দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত- এমনটাই মনে করছেন তার সহকর্মী ও অনুসারীরা।
































