বান্দরবানে মানববন্ধনে বক্তারা
মিথ্যা প্রচারণায় ধর্মকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কাম্য নয়
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৩৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫
- / 143
পার্বত্য চট্টগ্রামের খ্রিষ্টান সম্প্রদায় দেশের প্রতি দেশপ্রেমিক এবং বাংলাদেশের সংবিধান ও সার্বভৌমত্বের প্রতি অটল। বহু বছর ধরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবিক সহায়তা ও সামাজিক উন্নয়নে অবদান রেখে আসছে এই সম্প্রদায়। মিথ্যা প্রচারণার মাধ্যমে একটি খ্রিষ্টান ধর্মের সম্প্রদায়কে কলঙ্কিত করার চেষ্টা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কখনোই কাম্য নয়।
আজ শনিবার সকালে প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত “জোরপূর্বক খ্রিষ্টানকরণের মাধ্যমে খ্রিষ্টান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা” শীর্ষক মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধনে এসব মন্তব্য করেন বক্তারা।
মানববন্ধনে ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিহিত পাহাড়ি নারীরাও হাতে প্ল্যাকার্ড তুলে ধরেন, যাতে লেখা ছিল — “পার্বত্য চট্টগ্রামে খ্রিষ্টানদের ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা করুন।” এতে বিভিন্ন খ্রিষ্টান চার্চের পাদ্রি, ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, নারী ও যুবসহ শতাধিক ত্রিপুরা, বম ও খুমী সম্প্রদায়ের সদস্য অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “পার্বত্য চট্টগ্রামে খ্রিষ্টানরা স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের ষড়যন্ত্র করছে” — এমন ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। এই মিথ্যা প্রচারণা পাহাড়ে বসবাসরত খ্রিষ্টান জনগোষ্ঠীর প্রতি ঘৃণা, বিভাজন ও অবিশ্বাস সৃষ্টি করছে। বক্তারা দাবি করেন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিক।
বক্তারা আরও বলেন, খ্রিষ্টান ধর্মকে হেয় করা ও তুচ্ছ করার চেষ্টা ঠিক নয়, কারণ তারা বাংলাদেশের নাগরিক। “খ্রিষ্টান রাষ্ট্র বানানো” নামে কাউকে তকমা দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামকে সাম্প্রদায়িক সংঘাতের দিকে ঠেলা হচ্ছে। তাই সবাইকে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে এবং মিথ্যা প্রচারণার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
এদিকে, ২১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ডিমোর হোটেলের সামনে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ বিদেশী পর্যটকদের সামনে খ্রিষ্টান রাষ্ট্র বানানোর অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করে। এসময় নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান মো: মজিবর রহমান বান্দরবানের ১৪টি জাতিগোষ্ঠিকে পাহাড়ি সেটেলার হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং খ্রিষ্টান ধর্মকে হেয়পন্ন করে বক্তব্য দেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য লালজার লম বম, জন ত্রিপুরা, লেলুং খুমী ও দীনেন্দ্র ত্রিপুরা। মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।


































