মিটফোর্ডে নৃশংস হত্যা: প্রধান আসামি নান্নু গ্রেপ্তার
- সর্বশেষ আপডেট ১১:০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫
- / 219
পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতাল প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে পিটিয়ে ও পাথর দিয়ে মাথা থেঁতলে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন ব্যবসায়ী লাল চাঁদ সোহাগ (৩৯)। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার অন্যতম আসামি নান্নুকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১১।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১৪ জুলাই) রাত ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটে গত বুধবার বিকেলে। সোহাগকে পুরান ঢাকার কিছু যুবক পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ডেকে নেয়। সড়কের ওপর প্রকাশ্যেই তাকে ইট ও পাথরের টুকরা দিয়ে পিটিয়ে মাথা ও শরীর থেঁতলে দেওয়া হয়। এরপর বিবস্ত্র করে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, কেউ কেউ তার শরীরের ওপর উঠে লাফিয়ে বেড়ায়। ঘটনাস্থলে থাকা সাধারণ মানুষের অনেকেই তা দেখলেও কেউ এগিয়ে আসেননি।
সোহাগ পেশায় ভাঙারি ব্যবসায়ী ছিলেন। পুরনো তামার তার, অ্যালুমিনিয়াম শিটসহ বিভিন্ন ধরণের ভাঙারি পণ্য কেনাবেচা করতেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি এক সময় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি বরগুনা সদরে।
ব্যক্তিগত জীবনে সোহাগ দুই সন্তানের জনক। বড় মেয়ে সোহানা ষষ্ঠ শ্রেণিতে এবং ছোট ছেলে সোহান চতুর্থ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।
ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার নিহত সোহাগের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম (৪২) রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৯ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ১৫-২০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
সোহাগকে যে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা ভিডিও ফুটেজে ধরা পড়ে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত এবং ব্যক্তিগত শত্রুতা ও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত নান্নুর কাছ থেকে ঘটনার পেছনে কারা কারা ছিল, কারা নেতৃত্ব দিয়েছে এবং আরও কোন কোন আসামি জড়িত—তা জানার চেষ্টা চলছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার দাবি করছেন এবং হত্যার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।





































