ঢাকা ০৮:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মা ইলিশ রক্ষায় ১৭টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:২০:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫
  • / 620

মা ইলিশ রক্ষায় ১৭টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন

ইলিশ মাছের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় বিশেষ অভিযান শুরু করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। অভিযানের অংশ হিসেবে দেশের ৯ জেলায় নদীতে ১৭টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। সরকার ঘোষিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ ইলিশ আহরণ, পরিবহন বা বিপণনে জড়িত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে নৌবাহিনী।

শনিবার (৪ অক্টোবর) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইলিশ সম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রতিবছরের মতো এ বছরও ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনব্যাপী সারা দেশে ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান–২০২৫’ পালন করা হচ্ছে। এ সময়ে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, ক্রয়–বিক্রয় ও বিনিময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। পাশাপাশি সামুদ্রিক মৎস্য আহরণ এলাকাতেও সব ধরনের নৌযানের মাধ্যমে ইলিশসহ সব প্রজাতির মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সমুদ্র, নদী ও উপকূলীয় এলাকায় মোতায়েন রয়েছে নৌবাহিনী।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ এর আওতায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজগুলো সমুদ্র, উপকূলীয় অঞ্চল ও দেশের অভ্যন্তরীণ নদ-নদীতে ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান–২০২৫’ পরিচালনা করছে। নৌবাহিনীর ১৭টি যুদ্ধজাহাজ ৯টি জেলায় নিয়োজিত রয়েছে।

চাঁদপুর এলাকায় অভিযানে রয়েছে বানৌজা ধানসিঁড়ি, শহীদ ফরিদ ও বিএনডিবি গাংচিল।
কক্সবাজার এলাকায় রয়েছে বানৌজা অতন্দ্র, শহীদ মহিবুল্লাহ, দুর্জয়, সাগর ও শহীদ দৌলত।
খুলনা এলাকায় বানৌজা মেঘনা, চিত্রা ও তিতাস,
বাগেরহাট এলাকায় বানৌজা করতোয়া, আবু বকর, দুর্গম,
পিরোজপুর ও বরগুনা এলাকায় বানৌজা সালাম ও কুশিয়ারা,
বরিশাল এলাকায় বানৌজা পদ্মা, চিত্রা ও তিতাস,
এবং পটুয়াখালী এলাকায় এলসিভিপি–০১৩ বিশেষভাবে টহল দিচ্ছে।

আইএসপিআর জানায়, গভীর সমুদ্রে দেশি–বিদেশি সব ধরনের অবৈধ মাছ ধরার কার্যক্রম বন্ধে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ এবং আধুনিক মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফটের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চলছে। ইলিশের প্রধান প্রজনন অঞ্চলে নৌবাহিনীর জাহাজ, ক্রাফট ও বোট মোতায়েন রয়েছে।

এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন, কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে অবৈধ ইলিশ আহরণ এবং বিদেশি ট্রলারের অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে কাজ করছে নৌবাহিনী। অভিযানের সময় অসাধু জেলে ও যান্ত্রিক মৎস্যনৌকার বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে প্রচার কার্যক্রমও পরিচালিত হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ইলিশ মাছের প্রজনন ক্ষেত্র সুরক্ষিত রাখা, অবাধ প্রজননের সুযোগ সৃষ্টি এবং জাতীয় অর্থনৈতিক সম্পদ হিসেবে মা ইলিশের সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে নৌবাহিনীর সদস্যরা নিবেদিতভাবে কাজ করছেন। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা ও অভ্যন্তরীণ নদ-নদীতে নিরাপদ প্রজনন পরিবেশ নিশ্চিতের মাধ্যমে জাতীয় মাছ ইলিশের প্রাচুর্য বৃদ্ধি ও মৎস্যসম্পদের উন্নয়নে নৌবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মা ইলিশ রক্ষায় ১৭টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন

সর্বশেষ আপডেট ০৯:২০:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫

ইলিশ মাছের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় বিশেষ অভিযান শুরু করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। অভিযানের অংশ হিসেবে দেশের ৯ জেলায় নদীতে ১৭টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। সরকার ঘোষিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ ইলিশ আহরণ, পরিবহন বা বিপণনে জড়িত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে নৌবাহিনী।

শনিবার (৪ অক্টোবর) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইলিশ সম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রতিবছরের মতো এ বছরও ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনব্যাপী সারা দেশে ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান–২০২৫’ পালন করা হচ্ছে। এ সময়ে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, ক্রয়–বিক্রয় ও বিনিময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। পাশাপাশি সামুদ্রিক মৎস্য আহরণ এলাকাতেও সব ধরনের নৌযানের মাধ্যমে ইলিশসহ সব প্রজাতির মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সমুদ্র, নদী ও উপকূলীয় এলাকায় মোতায়েন রয়েছে নৌবাহিনী।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ এর আওতায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজগুলো সমুদ্র, উপকূলীয় অঞ্চল ও দেশের অভ্যন্তরীণ নদ-নদীতে ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান–২০২৫’ পরিচালনা করছে। নৌবাহিনীর ১৭টি যুদ্ধজাহাজ ৯টি জেলায় নিয়োজিত রয়েছে।

চাঁদপুর এলাকায় অভিযানে রয়েছে বানৌজা ধানসিঁড়ি, শহীদ ফরিদ ও বিএনডিবি গাংচিল।
কক্সবাজার এলাকায় রয়েছে বানৌজা অতন্দ্র, শহীদ মহিবুল্লাহ, দুর্জয়, সাগর ও শহীদ দৌলত।
খুলনা এলাকায় বানৌজা মেঘনা, চিত্রা ও তিতাস,
বাগেরহাট এলাকায় বানৌজা করতোয়া, আবু বকর, দুর্গম,
পিরোজপুর ও বরগুনা এলাকায় বানৌজা সালাম ও কুশিয়ারা,
বরিশাল এলাকায় বানৌজা পদ্মা, চিত্রা ও তিতাস,
এবং পটুয়াখালী এলাকায় এলসিভিপি–০১৩ বিশেষভাবে টহল দিচ্ছে।

আইএসপিআর জানায়, গভীর সমুদ্রে দেশি–বিদেশি সব ধরনের অবৈধ মাছ ধরার কার্যক্রম বন্ধে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ এবং আধুনিক মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফটের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চলছে। ইলিশের প্রধান প্রজনন অঞ্চলে নৌবাহিনীর জাহাজ, ক্রাফট ও বোট মোতায়েন রয়েছে।

এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন, কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে অবৈধ ইলিশ আহরণ এবং বিদেশি ট্রলারের অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে কাজ করছে নৌবাহিনী। অভিযানের সময় অসাধু জেলে ও যান্ত্রিক মৎস্যনৌকার বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে প্রচার কার্যক্রমও পরিচালিত হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ইলিশ মাছের প্রজনন ক্ষেত্র সুরক্ষিত রাখা, অবাধ প্রজননের সুযোগ সৃষ্টি এবং জাতীয় অর্থনৈতিক সম্পদ হিসেবে মা ইলিশের সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে নৌবাহিনীর সদস্যরা নিবেদিতভাবে কাজ করছেন। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা ও অভ্যন্তরীণ নদ-নদীতে নিরাপদ প্রজনন পরিবেশ নিশ্চিতের মাধ্যমে জাতীয় মাছ ইলিশের প্রাচুর্য বৃদ্ধি ও মৎস্যসম্পদের উন্নয়নে নৌবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।