ঢাকা ১০:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মার্সেলো দে সোসার পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে? পর্তুগালে ভোটগ্রহণ শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক, পর্তুগাল
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৪৫:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 51

পর্তুগালে ভোটগ্রহণ শুরু। ছবি: বাংলা অ্যাফেয়ার্স

ইউরোপের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দেশ পর্তুগালে বর্তমানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন চলছে। বর্তমান রাষ্ট্রপতি মার্সেলো রেবেলো দে সোসা সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতার কারণে টানা দুই মেয়াদ শেষে এবার আর নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। ফলে দেশটি একজন নতুন রাষ্ট্রপতি বেছে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দাঁড়িয়েছে। আজ সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে এবং এটি সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলবে। এবারের নির্বাচনে মোট ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে ১০ জন পুরুষ এবং একজন মহিলা প্রার্থী রয়েছেন।

এই নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বাধীন প্রার্থীরা অংশ নিয়েছেন। বামপন্থী, ডানপন্থী, মধ্যপন্থী ও উদারপন্থী—প্রায় সব রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রার্থী রয়েছেন, ফলে নির্বাচনটি হয়ে উঠেছে বহুমাত্রিক ও প্রতিযোগিতামূলক। ভোটারদের সামনে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রতিশ্রুতি, যার মধ্যে দেশকে নিয়ে নানা পরিকল্পনা তুলে ধরা হচ্ছে।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় দেশের গুরুত্বপূর্ণ কিছু সমস্যা বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে বাড়িভাড়া ও আবাসন সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, অভিবাসন ও সীমান্ত নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। প্রার্থীরা এসব ইস্যুতে বিভিন্ন সমাধান প্রস্তাব করে ভোটারদের সমর্থন অর্জনের চেষ্টা করছেন।

পর্তুগালের সংবিধান অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী যদি প্রথম দফার ভোটে মোট ভোটের ৫০ শতাংশের বেশি না পান, তাহলে শীর্ষ দুই প্রার্থীকে নিয়ে দ্বিতীয় দফার ভোট অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্লেষকদের ধারণা অনুযায়ী এবারের নির্বাচনে দ্বিতীয় দফার সম্ভাবনা রয়েছে, যা এই নির্বাচনকে আরও গুরুত্ববহ করে তুলেছে।

যদিও পর্তুগালের রাষ্ট্রপতি পদ প্রধানত সম্মানসূচক, তবু এর সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে। রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন, আইন ভেটো করতে পারেন এবং রাজনৈতিক সংকটের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই এই নির্বাচন দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভারসাম্য ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

সার্বিকভাবে, পর্তুগালের চলমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শুধু একটি পদে নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিষয় নয়, বরং এটি দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশ ও জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মার্সেলো দে সোসার পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে? পর্তুগালে ভোটগ্রহণ শুরু

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৪৫:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

ইউরোপের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দেশ পর্তুগালে বর্তমানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন চলছে। বর্তমান রাষ্ট্রপতি মার্সেলো রেবেলো দে সোসা সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতার কারণে টানা দুই মেয়াদ শেষে এবার আর নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। ফলে দেশটি একজন নতুন রাষ্ট্রপতি বেছে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দাঁড়িয়েছে। আজ সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে এবং এটি সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলবে। এবারের নির্বাচনে মোট ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে ১০ জন পুরুষ এবং একজন মহিলা প্রার্থী রয়েছেন।

এই নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বাধীন প্রার্থীরা অংশ নিয়েছেন। বামপন্থী, ডানপন্থী, মধ্যপন্থী ও উদারপন্থী—প্রায় সব রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রার্থী রয়েছেন, ফলে নির্বাচনটি হয়ে উঠেছে বহুমাত্রিক ও প্রতিযোগিতামূলক। ভোটারদের সামনে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রতিশ্রুতি, যার মধ্যে দেশকে নিয়ে নানা পরিকল্পনা তুলে ধরা হচ্ছে।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় দেশের গুরুত্বপূর্ণ কিছু সমস্যা বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে বাড়িভাড়া ও আবাসন সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, অভিবাসন ও সীমান্ত নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। প্রার্থীরা এসব ইস্যুতে বিভিন্ন সমাধান প্রস্তাব করে ভোটারদের সমর্থন অর্জনের চেষ্টা করছেন।

পর্তুগালের সংবিধান অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী যদি প্রথম দফার ভোটে মোট ভোটের ৫০ শতাংশের বেশি না পান, তাহলে শীর্ষ দুই প্রার্থীকে নিয়ে দ্বিতীয় দফার ভোট অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্লেষকদের ধারণা অনুযায়ী এবারের নির্বাচনে দ্বিতীয় দফার সম্ভাবনা রয়েছে, যা এই নির্বাচনকে আরও গুরুত্ববহ করে তুলেছে।

যদিও পর্তুগালের রাষ্ট্রপতি পদ প্রধানত সম্মানসূচক, তবু এর সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে। রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন, আইন ভেটো করতে পারেন এবং রাজনৈতিক সংকটের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই এই নির্বাচন দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভারসাম্য ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

সার্বিকভাবে, পর্তুগালের চলমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শুধু একটি পদে নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিষয় নয়, বরং এটি দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশ ও জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।