ঢাকা ০৬:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মায়ের জ্ঞান ফেরার অপেক্ষায় আটকে আছে ছেলের দাফন

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:৪৯:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫
  • / 95

মায়ের জ্ঞান ফেরার অপেক্ষায় আটকে আছে ছেলের দাফন

রাজধানীতে শুক্রবার সকালে ভূমিকম্পের সময় ভবনের রেলিং ধসে নিহত মেডিকেল ছাত্র রাফিউল ইসলাম রাফি (২১)-এর জানাজা সম্পন্ন হলেও, তার দাফন কার্য এখনো স্থগিত রয়েছে। একই ঘটনায় গুরুতর আহত রাফির মা নুসরাত জাহান মিতা এখনও অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরিবারের অনুরোধে তাকে শেষবারের মতো তার ছেলেকে দেখানোর সুযোগ দেওয়া হবে দাফনের আগে।

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে রাফির মরদেহ বগুড়ার গোয়াইল রোডে পৌঁছায়। মরদেহে পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজন, প্রতিবেশী, সহপাঠী ও পরিচিতজনরা। রাফি স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

রাফির মা গুরুতর আহত হওয়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি এখনও অচেতন এবং শঙ্কামুক্ত নন। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তার অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পরিবার জানিয়েছে, তাকে এখনও ছেলের মৃত্যুসংবাদ জানানো হয়নি।

শুক্রবার ভোরে মা-ছেলে বংশালের কসাইটুলিতে একটি মাংসের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তখন ভূমিকম্পে ভবনগুলো কাঁপতে শুরু করে। ওপরের তলার রেলিং ভেঙে রাফির ওপর পড়ে। গুরুতর অবস্থায় তাকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শনিবার বাদ জোহর বগুড়ার সেউজগাড়ী সেন্ট্রাল হাই স্কুল মাঠে রাফির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শতাধিক মানুষ, সহপাঠী, শিক্ষক, আত্মীয় ও এলাকার মানুষ অংশ নেন। দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও মাতার অচেতন অবস্থার কারণে তা স্থগিত রয়েছে।

রাফির বাবা ওসমান গনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার রাফিকে ডাক্তার বানাতে চেয়েছিলাম, এত তাড়াতাড়ি চলে গেল কেন?”
সহপাঠীরা জানান, রাফি মেধাবী, শান্ত স্বভাবের ও ভদ্র একজন তরুণ ছিলেন। তার বন্ধু আবির বলেন, “রাফি সবসময় বলত, ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করব। পড়াশোনা ছাড়া তাকে অন্য কোনো কাজে দেখিনি।”

নিহতের চাচা আব্দুস সামাদ বলেন, “আমরা এই গভীর শোক কিভাবে কাটাব বুঝতে পারছি না। তার মা হাসপাতালে আছেন, তাই দাফন এখনো স্থগিত রয়েছে।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মায়ের জ্ঞান ফেরার অপেক্ষায় আটকে আছে ছেলের দাফন

সর্বশেষ আপডেট ০৫:৪৯:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫

রাজধানীতে শুক্রবার সকালে ভূমিকম্পের সময় ভবনের রেলিং ধসে নিহত মেডিকেল ছাত্র রাফিউল ইসলাম রাফি (২১)-এর জানাজা সম্পন্ন হলেও, তার দাফন কার্য এখনো স্থগিত রয়েছে। একই ঘটনায় গুরুতর আহত রাফির মা নুসরাত জাহান মিতা এখনও অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরিবারের অনুরোধে তাকে শেষবারের মতো তার ছেলেকে দেখানোর সুযোগ দেওয়া হবে দাফনের আগে।

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে রাফির মরদেহ বগুড়ার গোয়াইল রোডে পৌঁছায়। মরদেহে পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজন, প্রতিবেশী, সহপাঠী ও পরিচিতজনরা। রাফি স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

রাফির মা গুরুতর আহত হওয়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি এখনও অচেতন এবং শঙ্কামুক্ত নন। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তার অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পরিবার জানিয়েছে, তাকে এখনও ছেলের মৃত্যুসংবাদ জানানো হয়নি।

শুক্রবার ভোরে মা-ছেলে বংশালের কসাইটুলিতে একটি মাংসের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তখন ভূমিকম্পে ভবনগুলো কাঁপতে শুরু করে। ওপরের তলার রেলিং ভেঙে রাফির ওপর পড়ে। গুরুতর অবস্থায় তাকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শনিবার বাদ জোহর বগুড়ার সেউজগাড়ী সেন্ট্রাল হাই স্কুল মাঠে রাফির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শতাধিক মানুষ, সহপাঠী, শিক্ষক, আত্মীয় ও এলাকার মানুষ অংশ নেন। দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও মাতার অচেতন অবস্থার কারণে তা স্থগিত রয়েছে।

রাফির বাবা ওসমান গনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার রাফিকে ডাক্তার বানাতে চেয়েছিলাম, এত তাড়াতাড়ি চলে গেল কেন?”
সহপাঠীরা জানান, রাফি মেধাবী, শান্ত স্বভাবের ও ভদ্র একজন তরুণ ছিলেন। তার বন্ধু আবির বলেন, “রাফি সবসময় বলত, ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করব। পড়াশোনা ছাড়া তাকে অন্য কোনো কাজে দেখিনি।”

নিহতের চাচা আব্দুস সামাদ বলেন, “আমরা এই গভীর শোক কিভাবে কাটাব বুঝতে পারছি না। তার মা হাসপাতালে আছেন, তাই দাফন এখনো স্থগিত রয়েছে।”