মায়ের খোঁজে আদালতের বারান্দায় তোয়া ও ফুয়াদ
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৩১:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫
- / 141
বয়স মাত্র ৬ ও ৫। এই বয়সে যেখানে অন্য শিশুরা খেলাধুলা ও আনন্দে মেতে থাকে, সেখানে তোয়া ও ফুয়াদ সাতক্ষীরার রাস্তায় রাস্তায় মায়ের খোঁজে ঘুরছে। মায়ের স্নেহবঞ্চিত এই দুই শিশুর জীবন যেন থমকে গেছে। তাদের মা আনজুয়ারা খাতুন আইভী তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় স্বামী-সন্তান রেখে চলে গেছেন, সেই থেকে শিশু দুটি বাবার হাত ধরে আদালতের বারান্দায় ঘুরছে মায়ের আশায়।
তোয়া ও ফুয়াদের বাবা সোহেল রানা সাতক্ষীরার শ্যামনগরের গাবুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি হিসেবে কর্মরত। পাশাপাশি তিনি জমি বর্গা নিয়ে মাছ চাষ করেন। সোহেল রানা জানান, তার স্ত্রী একই গ্রামের বখাটে ও বিবাহিত রবিউল ইসলাম গাজীর সঙ্গে পালিয়ে গেছে। তিনি বিশ্বাস করেন, স্ত্রীকে ভুল পথে পরিচালিত করেছে রবিউল।
সোহেল রানার দাবি, আইভী স্বামীর বাড়ি থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে রবিউলের হাতে তুলে দিয়েছেন। এমনকি রবিউল তার ফোনটিও নষ্ট করে দিয়েছেন যেন যোগাযোগ না করা যায়। জানা যায়, গত ১৩ রমজানে আইভী যশোরের ঝিকরগাছার পুরন্তপুর গ্রামে তার বাবার বাড়িতে গিয়ে সেখান থেকে রবিউলের সঙ্গে পালিয়ে যায়।
তোয়া ও ফুয়াদের চোখে-মুখে আজ শুধুই একটি প্রশ্ন—“মা, তুমি কোথায়?” সাতক্ষীরা শহরের রাস্তায় ঘুরতে ঘুরতে তারা দেয়ালে দেয়ালে মায়ের খোঁজে পোস্টার লাগিয়েছে। সেই পোস্টারে লেখা আছে তাদের মায়ের কাছে ফিরে আসার আকুতি।
সাতক্ষীরা জেলা লিগ্যাল এইডের আইনজীবী মুনীর উদ্দিন জানান, দুই শিশুর আকুতিতে সাড়া দিয়ে তারা আদালতের স্মরণাপন্ন হলে আদালত অভিযুক্ত রবিউল ইসলামকে একাধিকবার হাজিরার নির্দেশ দেন। কিন্তু এখনও শিশুদের মায়ের কোনো খোঁজ মেলেনি।
সোহেল রানার পরিবার আজ ভেঙে পড়েছে। ভাই না থাকায় সন্তানদের লালনপালনে চরম সংকটে পড়েছেন তিনি। খুলনায় অবস্থানরত একমাত্র বোনই তার পারিবারিক ভরসা। তবুও তিনি আশা ছাড়েননি—একদিন তার স্ত্রী সন্তানদের কাছে ফিরে আসবেন এবং নতুন করে আবার একসঙ্গে সংসার গড়বেন।
































