ঢাকা ০৮:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
অর্ধশতাধিক গ্রাম ডুবে গেছে

মানবিক সংকটে টেকনাফ, ঘরে ঘরে কান্নার জল

মোহাম্মদ ইউনুছ অভি, টেকনাফ (কক্সবাজার)
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:৩৫:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫
  • / 574

মানবিক সংকটে টেকনাফ, ঘরে ঘরে কান্নার জল

টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা ও মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাতে উপজেলার অন্তত ৫০টিরও বেশি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় দুই হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

শুক্রবার (৫ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া একটানা বৃষ্টিতে অনেক এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে গেছে। শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত কক্সবাজারে দেশের সর্বোচ্চ ১৪৬ মিলিমিটার এবং টেকনাফে ১৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। সোমবার (৭ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টিপাত অব্যাহত ছিল।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টেকনাফ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার বহু গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। হোয়াইক্যং, হ্নীলা, সাবরাং, বাহারছড়া, সদর ও টেকনাফ পৌরসভার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে পানি ঢুকে পড়েছে। হ্নীলা ইউনিয়নের পূর্ব রঙিখালী, হোয়াইক্যংয়ের পূর্ব লম্বাবিল, বাহারছড়ার মারিশবুনিয়া, সাবরাংয়ের নয়াপাড়া-জাদিমুড়া, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের হাজমপাড়া, এবং পৌরসভার পুরাতন পল্লানপাড়া এলাকার অবস্থা সবচেয়ে বেশি নাজুক।

হ্নীলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জানান, খাল দখলের কারণে পানি নামতে পারছে না। ফলে পানি জমে রয়ে গেছে এবং শত শত পরিবার কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা খোরশেদ আলম বলেন, “ঘরের ভেতর কোমর পানি। রান্না করতে পারছি না। ছোট ছোট বাচ্চারা কষ্টে আছে। এটা একরকম ছোটখাটো বন্যা।”

এক নারী বলেন, “চালার ফুটো দিয়ে পানি পড়ছে। খাবার নেই, জ্বালানি নেই, ঘরে শুধু কাদা আর পানি।”

রবিউল ইসলাম নামের এক যুবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রতিবছর বর্ষা এলেই এ অবস্থা হয়। খাল দখল, ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুরবস্থা, সব মিলিয়ে দুর্ভোগে কাটে দিন। এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান দরকার।”

স্থানীয় প্রশাসন বলছে, তারা পরিস্থিতি নজরদারিতে রেখেছে। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, “ইউনিয়ন পর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে শুকনো খাবার বিতরণ, আশ্রয়কেন্দ্র খোলা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করে সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।”

সচেতন মহলের দাবি, জলাবদ্ধতা ও দুর্ভোগ কমাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া জরুরি। খাল দখলমুক্ত করে টেকসই পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তুললেই কেবল এই সংকট থেকে মুক্তি মিলবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

অর্ধশতাধিক গ্রাম ডুবে গেছে

মানবিক সংকটে টেকনাফ, ঘরে ঘরে কান্নার জল

সর্বশেষ আপডেট ০৫:৩৫:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫

টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা ও মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাতে উপজেলার অন্তত ৫০টিরও বেশি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় দুই হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

শুক্রবার (৫ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া একটানা বৃষ্টিতে অনেক এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে গেছে। শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত কক্সবাজারে দেশের সর্বোচ্চ ১৪৬ মিলিমিটার এবং টেকনাফে ১৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। সোমবার (৭ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টিপাত অব্যাহত ছিল।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টেকনাফ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার বহু গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। হোয়াইক্যং, হ্নীলা, সাবরাং, বাহারছড়া, সদর ও টেকনাফ পৌরসভার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে পানি ঢুকে পড়েছে। হ্নীলা ইউনিয়নের পূর্ব রঙিখালী, হোয়াইক্যংয়ের পূর্ব লম্বাবিল, বাহারছড়ার মারিশবুনিয়া, সাবরাংয়ের নয়াপাড়া-জাদিমুড়া, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের হাজমপাড়া, এবং পৌরসভার পুরাতন পল্লানপাড়া এলাকার অবস্থা সবচেয়ে বেশি নাজুক।

হ্নীলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জানান, খাল দখলের কারণে পানি নামতে পারছে না। ফলে পানি জমে রয়ে গেছে এবং শত শত পরিবার কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা খোরশেদ আলম বলেন, “ঘরের ভেতর কোমর পানি। রান্না করতে পারছি না। ছোট ছোট বাচ্চারা কষ্টে আছে। এটা একরকম ছোটখাটো বন্যা।”

এক নারী বলেন, “চালার ফুটো দিয়ে পানি পড়ছে। খাবার নেই, জ্বালানি নেই, ঘরে শুধু কাদা আর পানি।”

রবিউল ইসলাম নামের এক যুবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রতিবছর বর্ষা এলেই এ অবস্থা হয়। খাল দখল, ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুরবস্থা, সব মিলিয়ে দুর্ভোগে কাটে দিন। এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান দরকার।”

স্থানীয় প্রশাসন বলছে, তারা পরিস্থিতি নজরদারিতে রেখেছে। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, “ইউনিয়ন পর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে শুকনো খাবার বিতরণ, আশ্রয়কেন্দ্র খোলা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করে সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।”

সচেতন মহলের দাবি, জলাবদ্ধতা ও দুর্ভোগ কমাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া জরুরি। খাল দখলমুক্ত করে টেকসই পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তুললেই কেবল এই সংকট থেকে মুক্তি মিলবে।