মাদকের আগ্রাসনে দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে
- সর্বশেষ আপডেট ০১:২৪:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫
- / 248
মাদকের বিস্তার দেশের জনস্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা ও অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, “মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসনের কারণে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।”
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, “দেশের কর্মক্ষম যুবসমাজকে মাদক থেকে মুক্ত রাখতে না পারলে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হওয়া সম্ভব নয়। নারী, শিশু ও কিশোরদের মাদক পাচারে ব্যবহার করা হচ্ছে—এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
উপদেষ্টা আরও বলেন, “মন্ত্রণালয় মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী কমিটি গঠনসহ সচেতনতামূলক কার্যক্রম চলছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে।”
নতুন প্রজন্মের জন্য আরও বড় হুমকি হিসেবে নতুন সিনথেটিক ও সেমি-সিনথেটিক মাদকের প্রসারকে চিহ্নিত করে তিনি বলেন, “প্রযুক্তির উন্নতির ফলে মাদক পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। আইন সংশোধন ও নজরদারি জোরদার করে এ নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।”
তিনি জানান, প্রায় ১৮ কোটি জনসংখ্যার দেশের জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে মাত্র ২,৯৪৩ জন কর্মী রয়েছে, যার মধ্যে ১,৬২২ জন এনফোর্সমেন্টে কাজ করছেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী বলেন, “সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রবণতা কমছে। সবাইকে এগিয়ে এসে প্রতিরোধ গড়তে হবে।”
সুরক্ষা সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি বলেন, “বাংলাদেশে মাদক উৎপাদন হয় না, সীমান্তপথে বাইরে থেকে প্রবেশ করানো হয়। সীমান্ত এলাকায় জনসম্পৃক্ততা বাড়িয়ে সরবরাহ বন্ধে কাজ করতে হবে।”
তিনি আরও জানান, “প্রতিটি বিভাগে ২০০ শয্যার মাদক নিরাময় কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ।
































