ঢাকা ০৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মাঠ ও পার্ক দখলকারীদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:৪৬:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 141

মাঠ ও পার্ক দখলকারীদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জনগণের জন্য সংরক্ষিত মাঠ, পার্ক ও উন্মুক্ত স্থান দখলের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিভিন্ন ক্লাবের নাম ব্যবহার করে এসব জায়গা দখলের পেছনে অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব কাজে লাগানো হচ্ছে। এর ফলে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা ও সাধারণ মানুষের উন্মুক্ত স্থানে চলাচলের অধিকার মারাত্মকভাবে সংকুচিত হচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে মাঠ ও পার্ক দখলকারীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলগুলোর কঠোর অবস্থান গ্রহণ, দখলদার ক্লাবগুলোর নিবন্ধন বাতিল এবং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহারকারীদের দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান আইন সংশোধনের মাধ্যমে দখলদারিত্ব বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়।

মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর ২০২৫) রাজধানীর বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে বারসিক, সেন্টার ফর ল’ অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্স এবং পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত “মাঠ ও পার্ক রক্ষায় রাজনৈতিক দলের কাছে প্রত্যাশা” শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব অভিমত তুলে ধরা হয়।

বক্তারা বলেন, দেশের বহু এলাকায় শিশু, কিশোর ও সাধারণ মানুষের জন্য নির্ধারিত খেলার মাঠ ও পার্ক রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী ব্যক্তি কিংবা সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে। এসব স্থানে ক্লাবঘর, স্থায়ী অবকাঠামো, মেলা কিংবা বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার ফলে সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও খেলাধুলার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে। এতে উন্মুক্ত স্থান ব্যবহারের মৌলিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বক্তারা মাঠ ও পার্ক রক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলোর সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে মাঠ ও পার্ক সংরক্ষণের অঙ্গীকার যুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি কমিউনিটি মাঠ কোনোভাবেই স্টেডিয়াম, বাণিজ্যিক স্থাপনা বা ইনডোর ভবনে রূপান্তর করা যাবে না।

সভায় বক্তারা আরও বলেন, মাঠ ও পার্ক রক্ষায় পরিবেশবাদী সংগঠন ও সাধারণ নাগরিকরা একাধিকবার আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন এবং আদালত কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু সরকারের নির্বাহী বিভাগ ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো এসব নির্দেশনা কার্যকর করেনি। বরং অনেক ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে মাঠ ও পার্ক ইজারা দেওয়া হয়েছে এবং দখল রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বক্তারা উল্লেখ করেন, দেশে ‘মাঠ, পার্ক ও জলাধার রক্ষা আইন, ২০০০’ বিদ্যমান থাকলেও আইনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে দখলদার চক্র সক্রিয় রয়েছে। তাই আইনটি সংশোধন করে আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়।

সভায় সুপারিশ করা হয়—সব মাঠ ও পার্ক থেকে অবৈধ স্থাপনা, টার্ফ ও ক্লাব উচ্ছেদ করে নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে; দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে; মাঠ ও পার্কের জন্য পৃথক বাজেট বরাদ্দ রাখতে হবে; কোনো ক্লাব বা প্রতিষ্ঠানের কাছে মাঠ ইজারা দেওয়া যাবে না; ওয়াসার পাম্পের ভাড়া মাঠ রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় করতে হবে; এবং কমিউনিটি ভবনে লাইব্রেরি ও বসার জায়গা গড়ে তুলতে হবে।

দীর্ঘমেয়াদে মাঠ, পার্ক ও জলাধার সংরক্ষণে কার্যকর আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন বা সংশোধন, সারাদেশের মাঠ ও পার্কের তালিকা প্রকাশ, পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থার সুপারিশ করেন বক্তারা।

আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বারসিকের নগর গবেষক ও সমন্বয়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম, সেন্টার ফর ল’ অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্সের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম, গ্লোবাল লিগ্যাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন, ক্যাপসের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কামরুজ্জামান, পবার সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন সুমন, ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের হেড অব প্রোগ্রাম সৈয়দা অনন্যা রহমান, চিলড্রেন ওয়াচ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শাহ ইসরাত আজমেরী, কসমসের নির্বাহী পরিচালক মেহেনাজ মালা এবং নগর পরিকল্পনাবিদ কায়কোবাদ হোসেনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মাঠ ও পার্ক দখলকারীদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান

সর্বশেষ আপডেট ০৪:৪৬:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জনগণের জন্য সংরক্ষিত মাঠ, পার্ক ও উন্মুক্ত স্থান দখলের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিভিন্ন ক্লাবের নাম ব্যবহার করে এসব জায়গা দখলের পেছনে অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব কাজে লাগানো হচ্ছে। এর ফলে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা ও সাধারণ মানুষের উন্মুক্ত স্থানে চলাচলের অধিকার মারাত্মকভাবে সংকুচিত হচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে মাঠ ও পার্ক দখলকারীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলগুলোর কঠোর অবস্থান গ্রহণ, দখলদার ক্লাবগুলোর নিবন্ধন বাতিল এবং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহারকারীদের দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান আইন সংশোধনের মাধ্যমে দখলদারিত্ব বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়।

মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর ২০২৫) রাজধানীর বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে বারসিক, সেন্টার ফর ল’ অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্স এবং পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত “মাঠ ও পার্ক রক্ষায় রাজনৈতিক দলের কাছে প্রত্যাশা” শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব অভিমত তুলে ধরা হয়।

বক্তারা বলেন, দেশের বহু এলাকায় শিশু, কিশোর ও সাধারণ মানুষের জন্য নির্ধারিত খেলার মাঠ ও পার্ক রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী ব্যক্তি কিংবা সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে। এসব স্থানে ক্লাবঘর, স্থায়ী অবকাঠামো, মেলা কিংবা বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার ফলে সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও খেলাধুলার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে। এতে উন্মুক্ত স্থান ব্যবহারের মৌলিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বক্তারা মাঠ ও পার্ক রক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলোর সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে মাঠ ও পার্ক সংরক্ষণের অঙ্গীকার যুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি কমিউনিটি মাঠ কোনোভাবেই স্টেডিয়াম, বাণিজ্যিক স্থাপনা বা ইনডোর ভবনে রূপান্তর করা যাবে না।

সভায় বক্তারা আরও বলেন, মাঠ ও পার্ক রক্ষায় পরিবেশবাদী সংগঠন ও সাধারণ নাগরিকরা একাধিকবার আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন এবং আদালত কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু সরকারের নির্বাহী বিভাগ ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো এসব নির্দেশনা কার্যকর করেনি। বরং অনেক ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে মাঠ ও পার্ক ইজারা দেওয়া হয়েছে এবং দখল রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বক্তারা উল্লেখ করেন, দেশে ‘মাঠ, পার্ক ও জলাধার রক্ষা আইন, ২০০০’ বিদ্যমান থাকলেও আইনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে দখলদার চক্র সক্রিয় রয়েছে। তাই আইনটি সংশোধন করে আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়।

সভায় সুপারিশ করা হয়—সব মাঠ ও পার্ক থেকে অবৈধ স্থাপনা, টার্ফ ও ক্লাব উচ্ছেদ করে নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে; দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে; মাঠ ও পার্কের জন্য পৃথক বাজেট বরাদ্দ রাখতে হবে; কোনো ক্লাব বা প্রতিষ্ঠানের কাছে মাঠ ইজারা দেওয়া যাবে না; ওয়াসার পাম্পের ভাড়া মাঠ রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় করতে হবে; এবং কমিউনিটি ভবনে লাইব্রেরি ও বসার জায়গা গড়ে তুলতে হবে।

দীর্ঘমেয়াদে মাঠ, পার্ক ও জলাধার সংরক্ষণে কার্যকর আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন বা সংশোধন, সারাদেশের মাঠ ও পার্কের তালিকা প্রকাশ, পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থার সুপারিশ করেন বক্তারা।

আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বারসিকের নগর গবেষক ও সমন্বয়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম, সেন্টার ফর ল’ অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্সের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম, গ্লোবাল লিগ্যাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন, ক্যাপসের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কামরুজ্জামান, পবার সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন সুমন, ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের হেড অব প্রোগ্রাম সৈয়দা অনন্যা রহমান, চিলড্রেন ওয়াচ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শাহ ইসরাত আজমেরী, কসমসের নির্বাহী পরিচালক মেহেনাজ মালা এবং নগর পরিকল্পনাবিদ কায়কোবাদ হোসেনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।