মাগুরায় দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে ৯০ ফুটের তোরণ
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৩৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫
- / 109
মাগুরায় পাঁচ দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী কাত্যায়নী উৎসব শুরু হয়েছে। সোমবার (২৭ অক্টোবর) ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে এ উৎসবের শুরু হয় এবং শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) পর্যন্ত চলবে। শতবর্ষী এই কাত্যায়নী পূজাকে কেন্দ্র করে পুরো শহর এখন উৎসবমুখর।
দুর্গাপূজার এক মাস পর দুর্গা প্রতিমার আদলেই কাত্যায়নী প্রতিমা তৈরি করে প্রতিবছর উৎসব পালিত হয়। মাগুরায় কাত্যায়নী পূজাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পালন করে এ অঞ্চলের হিন্দু সম্প্রদায়।
এইবারের উৎসবের প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে শহরের নতুন বাজার সেতুর ওপর নির্মিত প্রায় ৯০ ফুট উচ্চতার বর্ণিল তোরণ। এটি নির্মাণ করেছে নিজনান্দুয়ালী এলাকার নিতাই গৌর গোপাল সেবাশ্রম পূজা উদ্যাপন কমিটি। আয়োজকদের দাবি, এর আগে জেলায় এত উঁচু তোরণ নির্মিত হয়নি। প্রায় ৩০ জন শিল্পী ও শ্রমিকের তিন সপ্তাহের পরিশ্রমে তৈরি এই তোরণ এখন শহরের মানুষের প্রধান আকর্ষণ।
কমিটির সাধারণ সম্পাদক পাপাই শিকদার বলেন, “বড় আকারের তোরণ আমাদের কাত্যায়নী পূজার ঐতিহ্য। গত ১০ বছর ধরে লাইট বোর্ডের তোরণ নির্মাণ করা হলেও এবার আমরা পুরোনো ঐতিহ্যে ফিরেছি। প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে তোরণটি তৈরি করা হয়েছে।”
তোরণটি খুলনার শিল্পী নিতাই বিশ্বাসের নকশায় স্থানীয় ডেকোরেটর প্রতিষ্ঠান ‘তরুণ ডেকোরেটর’ নির্মাণ করেছে। বাঁশ, কাঠ, কর্কশিট ও নানা রঙের কাপড় দিয়ে নির্মিত তোরণটির উচ্চতা ৯০ ফুট এবং প্রস্থ ৩০ ফুট। কাঠামোয় ব্যবহৃত হয়েছে প্রায় ৫৫০টি বাঁশ।
ডেকোরেটর প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী তরুণ ভৌমিক বলেন, “কাত্যায়নী পূজা মাগুরার অন্যতম প্রধান উৎসব। আমরা প্রতিবছর নতুন কিছু উপস্থাপনার চেষ্টা করি। এর আগে ৭০–৭৫ ফুট উচ্চতার তোরণ নির্মাণ করেছি, এবার নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।”
শিল্পী নিতাই বিশ্বাস বলেন, “তোরণের বিশেষত্ব এর উচ্চতা। দেশের অন্য কোথাও এমন তোরণ সচরাচর দেখা যায় না। জনবহুল সেতুর ওপর এটি নির্মাণ করা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।”
প্রতিবছর কাত্যায়নী উৎসবে মাগুরায় লাখো মানুষ সমাগম করে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশ-বিদেশের মানুষ এই উৎসবে অংশ নেন। স্থানীয়রা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে এটি অন্যতম বড় কাত্যায়নী উৎসব। উৎসব ঘিরে প্রতিবছর লাখো মানুষের ঢল নামে, যা পুরো শহরকে মিলনমেলায় পরিণত করে।


































