মাইলস্টোন শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবি
- সর্বশেষ আপডেট ১০:২১:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫
- / 211
উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনার পরদিন শিক্ষার্থীরা ছয় দফা দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকাল ১০টায় কলেজের গোল চত্বরে এই কর্মসূচি পালিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আয়োজক শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, আন্দোলন হবে সম্পূর্ণ অহিংস ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে। তবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান হবে দৃঢ় ও আপসহীন। “ভয় নয়, আমরা চাই ন্যায়বিচার“—এই মূল স্লোগানকে সামনে রেখে তারা ছয়টি সুস্পষ্ট দাবি উত্থাপন করেছে।
শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবি:
১. নিহতদের নাম ও পরিচয় প্রকাশ: দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেকের সঠিক নাম, পরিচয় ও শ্রেণি প্রকাশ করতে হবে।
২. আহতদের তালিকা: আহতদের নির্ভুল ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করতে হবে, যাতে পরিবার ও সহপাঠীরা তাদের সম্পর্কে জানতে পারেন।
৩. শিক্ষকদের অপমানের প্রতিবাদ: ঘটনাস্থলে সেনা সদস্যদের দ্বারা শিক্ষকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে নিঃশর্ত ও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।
৪. ক্ষতিপূরণ প্রদান: নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
৫. বিমান নিরাপত্তা: পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রশিক্ষণ বিমান বাতিল করে আধুনিক ও নিরাপদ বিমান চালু করতে হবে।
৬. প্রশিক্ষণ এলাকার পুনর্বিন্যাস: জনবহুল এলাকায় বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বন্ধ করে নিরাপদ ও মানবিক প্রশিক্ষণ এলাকা নির্ধারণ করতে হবে।
সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৭ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে, যাদের মধ্যে ২৫ জনই শিশু শিক্ষার্থী। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৭৮ জন।
বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর ভবনে আগুন ধরে গেলে অনেক শিক্ষার্থী দগ্ধ হয়ে মারা যান বা গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার ভয়াবহতায় গোটা দেশ শোকাহত।

আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থী হাসিব বিল্লাহ বলেন, “আমরা শুধু মাইলস্টোন নয়, দেশের আর কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন দুর্ঘটনা দেখতে চাই না। আমাদের সহপাঠীরা এখনও আতঙ্কে আছে। আমরা নিরাপদ শিক্ষাব্যবস্থা চাই।”
তিনি আরও বলেন, “এই আন্দোলন কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রসূত নয়। এটি আমাদের অস্তিত্ব, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের প্রশ্ন। আমরা চাই—উত্তরা হোক বা অন্য কোথাও—শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আকাশ যেন আর কখনো অগ্নিময় না হয়।”
শিক্ষার্থীরা দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এই দাবির প্রতি সংহতি জানাতে আহ্বান জানিয়েছে। তাদের ভাষায়, “শুধু বিবৃতি বা দুঃখপ্রকাশ নয়, চাই কার্যকর জবাবদিহি, সম্মানজনক ক্ষতিপূরণ এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা।”
ঘটনার পরপরই শোক প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, “বিমান বাহিনীর এফ-৭বিজিআই প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনায় আমি গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি। এ ক্ষতি জাতির জন্য অপূরণীয়।”
তিনি আহতদের সুচিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
এই মুহূর্তে উত্তরা এবং আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আন্দোলনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও সতর্ক রয়েছে।

































