ঢাকা ০৪:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মহালয়া: শুভ না অশুভ? বাঙালির অন্তহীন দ্বন্দ্ব

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:১২:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 86

মহালয়া

মহালয়াকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই বাঙালির মনে প্রশ্ন— এদিনটি আসলে শুভ নাকি অশুভ? তাই মহালয়া কেবল ভোরবেলার চণ্ডীপাঠ আর রেডিওর ধ্বনি নয়, বরং শুভ-অশুভের বিতর্ক নিয়েও অসংখ্য আলোচনার জন্ম দেয়।

আসলে মহালয়া মানেই পিতৃপক্ষের সমাপ্তি ও মাতৃপক্ষের সূচনা। আশ্বিন মাসের ভোরে দেবীর আগমনী বার্তা যখন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, তখনই দুর্গাপূজার দিন গোনার পালা শুরু হয়। অনেকেই মনে করেন, মহালয়া শুভেচ্ছা জানানোর দিন নয়, যেহেতু এদিন মূলত তর্পণ বা জলদানের দিন। কিন্তু পুরাণ মতে, শ্রাদ্ধ বা তর্পণকে অশুভ বলা যায় না। বরং এটি অত্যন্ত শুভকর্ম, যা পরিবারে শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনে।

কালিকাপুরাণে বলা হয়েছে, পিতৃপক্ষ শুরু হওয়ার পর প্রতিটি তিথিই তর্পণের উপযোগী। মহালয়া কেবল শেষ দিন বলে বিশেষ গুরুত্ব পায়। এমনকি মৃত্যুর কারণ অনুসারে আলাদা তিথিতে তর্পণের কথাও উল্লেখ আছে। যেমন, অপঘাতে মৃত্যুবরণকারীদের তর্পণ পিতৃপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে শ্রেষ্ঠ বলে বিবেচিত।

এভাবে বিচার করলে কেবল মহালয়াকে ‘অশুভ’ তিথি বলা ঠিক নয়। বরং এটি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিন, যেখানে নিজের পিতৃপুরুষের পাশাপাশি মাতৃকুল এবং এমনকি নাম-পরিচয়হীন আত্মাদের প্রতিও জলদান করা হয়। এটি কেবল আচার নয়, এক গভীর আধ্যাত্মিক সাধনা।

এই দিন ভীষ্ম পিতামহকেও স্মরণ করা হয়, যিনি পরিবার গড়ার অধিকার বিসর্জন দিয়ে ত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। তাই মহালয়ার জলদান তার প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন।

সবশেষে, মহালয়া বাঙালির কাছে দেবী দুর্গার আগমনের বার্তা। কন্যারূপে মায়ের পিতৃগৃহে ফেরার আনন্দেই ভরে ওঠে মন। তাই দ্বন্দ্ব থাকলেও, মহালয়া বাঙালির কাছে আসলে শুভতার উৎসব, শারদীয়ার প্রথম প্রহরে আগমনীর সুর।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মহালয়া: শুভ না অশুভ? বাঙালির অন্তহীন দ্বন্দ্ব

সর্বশেষ আপডেট ১১:১২:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

মহালয়াকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই বাঙালির মনে প্রশ্ন— এদিনটি আসলে শুভ নাকি অশুভ? তাই মহালয়া কেবল ভোরবেলার চণ্ডীপাঠ আর রেডিওর ধ্বনি নয়, বরং শুভ-অশুভের বিতর্ক নিয়েও অসংখ্য আলোচনার জন্ম দেয়।

আসলে মহালয়া মানেই পিতৃপক্ষের সমাপ্তি ও মাতৃপক্ষের সূচনা। আশ্বিন মাসের ভোরে দেবীর আগমনী বার্তা যখন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, তখনই দুর্গাপূজার দিন গোনার পালা শুরু হয়। অনেকেই মনে করেন, মহালয়া শুভেচ্ছা জানানোর দিন নয়, যেহেতু এদিন মূলত তর্পণ বা জলদানের দিন। কিন্তু পুরাণ মতে, শ্রাদ্ধ বা তর্পণকে অশুভ বলা যায় না। বরং এটি অত্যন্ত শুভকর্ম, যা পরিবারে শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনে।

কালিকাপুরাণে বলা হয়েছে, পিতৃপক্ষ শুরু হওয়ার পর প্রতিটি তিথিই তর্পণের উপযোগী। মহালয়া কেবল শেষ দিন বলে বিশেষ গুরুত্ব পায়। এমনকি মৃত্যুর কারণ অনুসারে আলাদা তিথিতে তর্পণের কথাও উল্লেখ আছে। যেমন, অপঘাতে মৃত্যুবরণকারীদের তর্পণ পিতৃপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে শ্রেষ্ঠ বলে বিবেচিত।

এভাবে বিচার করলে কেবল মহালয়াকে ‘অশুভ’ তিথি বলা ঠিক নয়। বরং এটি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিন, যেখানে নিজের পিতৃপুরুষের পাশাপাশি মাতৃকুল এবং এমনকি নাম-পরিচয়হীন আত্মাদের প্রতিও জলদান করা হয়। এটি কেবল আচার নয়, এক গভীর আধ্যাত্মিক সাধনা।

এই দিন ভীষ্ম পিতামহকেও স্মরণ করা হয়, যিনি পরিবার গড়ার অধিকার বিসর্জন দিয়ে ত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। তাই মহালয়ার জলদান তার প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন।

সবশেষে, মহালয়া বাঙালির কাছে দেবী দুর্গার আগমনের বার্তা। কন্যারূপে মায়ের পিতৃগৃহে ফেরার আনন্দেই ভরে ওঠে মন। তাই দ্বন্দ্ব থাকলেও, মহালয়া বাঙালির কাছে আসলে শুভতার উৎসব, শারদীয়ার প্রথম প্রহরে আগমনীর সুর।