মগবাজারে হোটেলে তিনজনের মৃত্যু: রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:৫২:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫
- / 293
ঢাকার মগবাজারে একটি হোটেল কক্ষে এক পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে বিষক্রিয়ার আশঙ্কা করা হলেও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ। ঘটনার পেছনে থাকা সম্ভাব্য সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
রবিবার (২৯ জুন) সকালে মগবাজার চৌরাস্তা সংলগ্ন সুইট স্লিপ হোটেলের একটি কক্ষ থেকে একসঙ্গে তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন—প্রবাস ফেরত মনির হোসেন (৪৮), তার স্ত্রী নাসরিন আক্তার স্বপ্না (৩৮) ও তাদের ছেলে নাইম হোসেন (১৮)। তারা লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ থেকে ঢাকায় এসেছিলেন নাইমের চিকিৎসার জন্য।
ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম জানান, প্রাথমিক আলামত ও চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে বিষক্রিয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। তবে বিষক্রিয়া খাদ্যজনিত না অন্য কিছু, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে ময়নাতদন্তের পাশাপাশি ভিসেরা রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক জাকিয়া তাসনিম জানিয়েছেন, মরদেহ দেখে খাদ্যে বিষক্রিয়ার সম্ভাবনা থাকলেও নিশ্চিত হতে হবে পরীক্ষার মাধ্যমে। রক্ত ও ভিসেরা নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে আরও কিছু সন্দেহজনক তথ্য। নিহতদের এক আত্মীয়, যিনি কেরানীগঞ্জে থাকেন, তিনি শনিবার বিকেলে তাদের জন্য বাইরে থেকে খাবার এনে দেন। রাত ১০টা পর্যন্ত সবাই সুস্থ ছিলেন। কিন্তু পরদিন সকালে তাদের মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। ওই আত্মীয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
এছাড়া, হোটেল ও আশপাশের রেস্তোরাঁর সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পুলিশ জানায়, খাবারের উৎসস্থল থেকে অন্য কেউ অসুস্থ হয়নি—এ বিষয়টিও ঘটনাটিকে সন্দেহজনক করে তুলেছে।
তদন্তে মনির হোসেনের সম্পত্তির তথ্যও উঠে এসেছে। তিনি ঈদের আগে দেশে ফিরেছিলেন। কেরানীগঞ্জে তার দুটি বাড়ি ও একাধিক বাস রয়েছে বলে জানা গেছে। সম্পত্তি নিয়ে কোনো পারিবারিক বিরোধ ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার বিকেলে চাচা এসে খাবার দিয়ে যান এবং রোববার সকালে তিনজনকে একে একে হাসপাতালে নিয়ে যান—সেখানে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ অপেক্ষা করছে ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা পরীক্ষার ফলাফলের ওপর। একইসঙ্গে চলমান তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে পারিবারিক, সম্পত্তি ও সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড সংশ্লিষ্ট সব দিক।
































