ঢাকা ১২:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মক ভোটেই অব্যবস্থাপনা, পুনরায় ভোটগ্রহণের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:২৪:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • / 78

মক ভোটেই অব্যবস্থাপনা, পুনরায় ভোটগ্রহণের নির্দেশ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে রাজধানীতে মক ভোটিং আয়োজন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শনিবার সকাল ৮টায় শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে চারটি বুথে মহড়া শুরু হয়। তবে প্রথম ঘণ্টা পার না হতেই কেন্দ্রটিতে চরম বিশৃঙ্খলার চিত্র দেখা যায়।

মক ভোটিংয়ের উদ্দেশ্য ছিল সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একইসঙ্গে নিতে কত সময় লাগে এবং ব্যবস্থাপনায় কী ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে—তা পরীক্ষা করা। প্রথম ঘণ্টায় চারটি বুথে ভোট পড়ে যথাক্রমে ২৩, ৩৭, ২৭ ও ২১টি। গড় হিসেবে একজন ভোটারকে ভোট দিতে সময় লাগে প্রায় এক মিনিট।

ভোটারদের অনেকেই জানান, সংসদ নির্বাচনের ব্যালট সহজ হলেও গণভোটের গোলাপি রঙের ব্যালটে লেখা বিষয়বস্তু পড়তে ঝামেলায় পড়েছেন। কেউ কেউ লেখার ছোট সাইজের কারণে বিষয়টি ভালোভাবে বোঝার আগেই ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’তে সিল দিয়ে ফেলেন। শফিকুল ইসলাম নামে একজন ভোটার বলেন, ‘গণভোট নিয়ে আরও প্রচার দরকার। ব্যালটটা ভালোভাবে পড়ার সুযোগই পাইনি।’ অন্য কয়েকজন ভোটারও একই অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন।

ভোট শুরুর কিছুক্ষণ পর কেন্দ্র পরিদর্শনে এসে উপস্থিত হন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি বিশৃঙ্খলা দেখে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এরপর নিজেই ভোট দেওয়ার সময় পরিমাপের প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ শুরু করেন। তিনি প্রাথমিক অব্যবস্থাপনা দূর করতে নারী ও পুরুষ কেন্দ্রের জন্য ২০ জন করে নতুন করে ভোটার বাছাই করে পুনরায় ভোটগ্রহণের নির্দেশ দেন।

সানাউল্লাহ বলেন, “ভোটার লাইনে দাঁড়ানো থেকে ভোট প্রদান পর্যন্ত সময় জানা জরুরি। এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই বুথ সংখ্যা, গোপন কক্ষ এবং কেন্দ্র সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে। এখানে যদি অরাজকতা থাকে, তাহলে সঠিক মূল্যায়ন হবে না।” তিনি ভোটার ছাড়া অন্যদের সাময়িকভাবে বাইরে সরে যাওয়ার অনুরোধও জানান।

মহড়ায় সহকারী প্রিজাইডিং অফিসাররা ভোটারদের সিরিয়াল দেওয়া, কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া, তালিকা যাচাই, ব্যালট বিতরণ ও সিল-কালি সরবরাহের দায়িত্ব পালন করেন। এসব কারণে একজন ভোটারের ভোটদান গড়ে এক মিনিটেই সম্পন্ন হয়।

গণভোটের ব্যালটে সংবিধান সংস্কারসংক্রান্ত চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যেখানে ভোটারদের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বেছে নিতে হয়। পাশাপাশি আলাদা ব্যালটে সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী ও প্রতীকের তালিকা রয়েছে।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “মক ভোটিংয়ের মাধ্যমে সময় ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য বাস্তব সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে।”

সারাদিন কেন্দ্রটি ছিল উৎসুক ভোটার ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সরব। নির্বাচন কমিশন মনে করছে, এই মহড়ার অভিজ্ঞতা আগামী নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মক ভোটেই অব্যবস্থাপনা, পুনরায় ভোটগ্রহণের নির্দেশ

সর্বশেষ আপডেট ১২:২৪:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে রাজধানীতে মক ভোটিং আয়োজন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শনিবার সকাল ৮টায় শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে চারটি বুথে মহড়া শুরু হয়। তবে প্রথম ঘণ্টা পার না হতেই কেন্দ্রটিতে চরম বিশৃঙ্খলার চিত্র দেখা যায়।

মক ভোটিংয়ের উদ্দেশ্য ছিল সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একইসঙ্গে নিতে কত সময় লাগে এবং ব্যবস্থাপনায় কী ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে—তা পরীক্ষা করা। প্রথম ঘণ্টায় চারটি বুথে ভোট পড়ে যথাক্রমে ২৩, ৩৭, ২৭ ও ২১টি। গড় হিসেবে একজন ভোটারকে ভোট দিতে সময় লাগে প্রায় এক মিনিট।

ভোটারদের অনেকেই জানান, সংসদ নির্বাচনের ব্যালট সহজ হলেও গণভোটের গোলাপি রঙের ব্যালটে লেখা বিষয়বস্তু পড়তে ঝামেলায় পড়েছেন। কেউ কেউ লেখার ছোট সাইজের কারণে বিষয়টি ভালোভাবে বোঝার আগেই ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’তে সিল দিয়ে ফেলেন। শফিকুল ইসলাম নামে একজন ভোটার বলেন, ‘গণভোট নিয়ে আরও প্রচার দরকার। ব্যালটটা ভালোভাবে পড়ার সুযোগই পাইনি।’ অন্য কয়েকজন ভোটারও একই অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন।

ভোট শুরুর কিছুক্ষণ পর কেন্দ্র পরিদর্শনে এসে উপস্থিত হন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি বিশৃঙ্খলা দেখে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এরপর নিজেই ভোট দেওয়ার সময় পরিমাপের প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ শুরু করেন। তিনি প্রাথমিক অব্যবস্থাপনা দূর করতে নারী ও পুরুষ কেন্দ্রের জন্য ২০ জন করে নতুন করে ভোটার বাছাই করে পুনরায় ভোটগ্রহণের নির্দেশ দেন।

সানাউল্লাহ বলেন, “ভোটার লাইনে দাঁড়ানো থেকে ভোট প্রদান পর্যন্ত সময় জানা জরুরি। এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই বুথ সংখ্যা, গোপন কক্ষ এবং কেন্দ্র সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে। এখানে যদি অরাজকতা থাকে, তাহলে সঠিক মূল্যায়ন হবে না।” তিনি ভোটার ছাড়া অন্যদের সাময়িকভাবে বাইরে সরে যাওয়ার অনুরোধও জানান।

মহড়ায় সহকারী প্রিজাইডিং অফিসাররা ভোটারদের সিরিয়াল দেওয়া, কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া, তালিকা যাচাই, ব্যালট বিতরণ ও সিল-কালি সরবরাহের দায়িত্ব পালন করেন। এসব কারণে একজন ভোটারের ভোটদান গড়ে এক মিনিটেই সম্পন্ন হয়।

গণভোটের ব্যালটে সংবিধান সংস্কারসংক্রান্ত চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যেখানে ভোটারদের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বেছে নিতে হয়। পাশাপাশি আলাদা ব্যালটে সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী ও প্রতীকের তালিকা রয়েছে।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “মক ভোটিংয়ের মাধ্যমে সময় ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য বাস্তব সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে।”

সারাদিন কেন্দ্রটি ছিল উৎসুক ভোটার ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সরব। নির্বাচন কমিশন মনে করছে, এই মহড়ার অভিজ্ঞতা আগামী নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।