ঢাকা ০৬:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভোট যুদ্ধে ১৯৬৭ প্রার্থী, মাঠ ছাড়লেন ৩০৫ জন

কে এম জাহেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:০০:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 57

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে যাচাই-বাছাই ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের কার্যক্রম শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রত্যাহারের পর ভোটের মাঠে এখন আছেন ১ হাজার ৯৬৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বী। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে ৩০৫ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। আজ (২১ জানুয়ারি) প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। পরদিন (বৃহস্পতিবার) থেকে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে নেমে পড়বেন ভোটের প্রচারে। এবার অর্ধশত দল ভোটের মাঠে রয়েছে, আর অধিকাংশই দলীয় প্রার্থী, স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন শতাধিক।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানায়, এবারের নির্বাচনে ২৯৮টি আসনে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। অধিকাংশ প্রার্থী দলীয় হলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন শতাধিক। পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে আদালতের নির্দেশনায় নতুন তফসিল হওয়ায় ওই দুই আসনের হিসাব আপাতত এই তালিকার বাইরে রয়েছে।

এর আগে, গত ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩০০ আসনে মোট ২ হাজার ৫৮৫টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত বাছাই শেষে ৭২৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। বাতিলের বিরুদ্ধে ৬৪৫ জন আপিল করেন, যার মধ্যে শুনানি শেষে ৪৩১ জন তাদের প্রার্থিতা ফিরে পান। এছাড়া মঙ্গলবার শেষ দিন পর্যন্ত ৩০৫ জন সরে দাঁড়ানোয় এখন ভোটের মাঠে থাকছেন ১ হাজার ৯৬৭ জন প্রার্থী।

রিটার্নিং অফিসারদের নিরপেক্ষভাবে কাজ করার কঠোর নির্দেশনা দিয়ে কমিশন বলছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি ভোটারদের কেন্দ্রমুখী করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে প্রার্থীরা প্রচারণায় নামতে পারলেও সেখানে যেন কোনো বিশৃঙ্খলা না হয়, সেদিকে কড়া নজরদারি থাকবে।

নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, ‘প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী চূড়ান্ত হল; আজ (বুধবার) প্রতীক বরাদ্দ। এখন আচরণবিধি প্রতিপালনে দল, প্রার্থীর সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। ভোটের প্রচারের নেমে পড়বেন।’

ভোটের পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘প্রচারণার নির্ধারিত সময়ে আগে তথা আগাম প্রচার না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। বিএনপির তরফ থেকে অভিযোগ ও ডকুমেন্ট পেয়ে চারটি দলকে সতর্ক করা হয়েছে। ভোটের মাঠে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরির পদক্ষেপ থাকবে।’

নির্বাচনের পরিসংখ্যান:
মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী: ১৯৬৭ জন (দলীয় ও স্বতন্ত্র)।
প্রার্থিতা প্রত্যাহার: ৩০৫ জন।
মোট জমা পড়া মনোনয়নপত্র: ২৫৮৫টি (৩০০ আসনে)।
প্রাথমিক বাছাইয়ে বাতিল: ৭২৬টি।
আপিল শুনানি শেষে বৈধতা লাভ: ৪৩১ জন।

গত ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩৪৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছিলেন এবং সেবার মোট প্রার্থী ছিলেন ১ হাজার ৮৯৬ জন। সেই তুলনায় এবারের নির্বাচনে প্রার্থীর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে।

উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে তাদের সিদ্ধান্ত জানাবেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ভোট যুদ্ধে ১৯৬৭ প্রার্থী, মাঠ ছাড়লেন ৩০৫ জন

সর্বশেষ আপডেট ১২:০০:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে যাচাই-বাছাই ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের কার্যক্রম শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রত্যাহারের পর ভোটের মাঠে এখন আছেন ১ হাজার ৯৬৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বী। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে ৩০৫ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। আজ (২১ জানুয়ারি) প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। পরদিন (বৃহস্পতিবার) থেকে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে নেমে পড়বেন ভোটের প্রচারে। এবার অর্ধশত দল ভোটের মাঠে রয়েছে, আর অধিকাংশই দলীয় প্রার্থী, স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন শতাধিক।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানায়, এবারের নির্বাচনে ২৯৮টি আসনে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। অধিকাংশ প্রার্থী দলীয় হলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন শতাধিক। পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে আদালতের নির্দেশনায় নতুন তফসিল হওয়ায় ওই দুই আসনের হিসাব আপাতত এই তালিকার বাইরে রয়েছে।

এর আগে, গত ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩০০ আসনে মোট ২ হাজার ৫৮৫টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত বাছাই শেষে ৭২৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। বাতিলের বিরুদ্ধে ৬৪৫ জন আপিল করেন, যার মধ্যে শুনানি শেষে ৪৩১ জন তাদের প্রার্থিতা ফিরে পান। এছাড়া মঙ্গলবার শেষ দিন পর্যন্ত ৩০৫ জন সরে দাঁড়ানোয় এখন ভোটের মাঠে থাকছেন ১ হাজার ৯৬৭ জন প্রার্থী।

রিটার্নিং অফিসারদের নিরপেক্ষভাবে কাজ করার কঠোর নির্দেশনা দিয়ে কমিশন বলছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি ভোটারদের কেন্দ্রমুখী করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে প্রার্থীরা প্রচারণায় নামতে পারলেও সেখানে যেন কোনো বিশৃঙ্খলা না হয়, সেদিকে কড়া নজরদারি থাকবে।

নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, ‘প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী চূড়ান্ত হল; আজ (বুধবার) প্রতীক বরাদ্দ। এখন আচরণবিধি প্রতিপালনে দল, প্রার্থীর সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। ভোটের প্রচারের নেমে পড়বেন।’

ভোটের পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘প্রচারণার নির্ধারিত সময়ে আগে তথা আগাম প্রচার না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। বিএনপির তরফ থেকে অভিযোগ ও ডকুমেন্ট পেয়ে চারটি দলকে সতর্ক করা হয়েছে। ভোটের মাঠে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরির পদক্ষেপ থাকবে।’

নির্বাচনের পরিসংখ্যান:
মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী: ১৯৬৭ জন (দলীয় ও স্বতন্ত্র)।
প্রার্থিতা প্রত্যাহার: ৩০৫ জন।
মোট জমা পড়া মনোনয়নপত্র: ২৫৮৫টি (৩০০ আসনে)।
প্রাথমিক বাছাইয়ে বাতিল: ৭২৬টি।
আপিল শুনানি শেষে বৈধতা লাভ: ৪৩১ জন।

গত ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩৪৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছিলেন এবং সেবার মোট প্রার্থী ছিলেন ১ হাজার ৮৯৬ জন। সেই তুলনায় এবারের নির্বাচনে প্রার্থীর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে।

উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে তাদের সিদ্ধান্ত জানাবেন।