ভোট গণনা নিয়ে শঙ্কা: তারেক রহমানের কড়া বার্তা
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:১২:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 13
আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) নবম নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় উপশহর কলেজ মাঠে বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি: গালিব হাসান
ভোট গণনায় দেরি হতে পারে- সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এমন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “ইদানীং নতুন গল্প শুনছি- এবার নাকি ভোট গণনায় অনেক বেশি সময় লাগবে।”
সোমবার যশোরে প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক সফরে এসে এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি বলেন, “এই দেশের মানুষ হয়তো গত একযুগ ভোট দিতে পারেনি। কিন্তু ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা তাদের নেই- তা নয়। ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে মানুষ ভোট দিয়েছে। ভোট গণনায় কত সময় লাগে, সে ধারণা বাংলাদেশের মানুষের আছে।”
যশোর জেলা বিএনপির আয়োজনে দুপুরে উপশহর কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় তারেক রহমান বলেন, “যদি কেউ ভোট গণনায় দেরির উছিলা দিয়ে সুযোগ নিতে চায়, তাহলে আপনাদের তা প্রতিরোধ করতে হবে।”
সকাল থেকেই জনসভাস্থল, পাশের ঈদগাহ মাঠ, বাদশা ফয়সল স্কুল মাঠ ও আশপাশের সড়কগুলো বিএনপির নেতা-কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের ভিড়ে জনাকীর্ণ হয়ে ওঠে। সকালে খুলনায় জনসভায় বক্তব্য শেষে হেলিকপ্টারে করে দুপুর ২টা ১৮ মিনিটে যশোরে পৌঁছান তারেক রহমান। বেলা আড়াইটায় মঞ্চে উঠে ২টা ৩৭ মিনিটে বক্তব্য শুরু করেন এবং প্রায় ৪০ মিনিট বক্তব্য দেন।
সংক্ষিপ্ত এই সফরের শেষ দিকে তিনি যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের সাত জেলা- যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, নড়াইল, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গার বিএনপি মনোনীত ২২ জন প্রার্থীর হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দিয়ে তাদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে তারেক রহমান অভিযোগ করেন, “তারা এখন লোকজনকে মা-বোনদের কাছে পাঠাচ্ছে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর নেওয়ার জন্য। সৎ লোকের শাসনের কথা বললেও এটাই সবচেয়ে অসৎ প্রস্তাব।” তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের আগে যারা জনগণের সঙ্গে মিথ্যা বলতে পারে, নির্বাচনের পর তারা কী করবে তা সহজেই অনুমেয়।”
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “আজ নির্বাচনকে বিতর্কিত ও বাধাগ্রস্ত করতে একটি পক্ষ উঠেপড়ে লেগেছে।” এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যেন কেউ ষড়যন্ত্র করে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে না পারে।
দেশ পুনর্গঠন ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে বিএনপির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, জনগণের ভোটে সরকার গঠন করতে পারলে যশোরের ফুল বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি আখ চাষ বাড়িয়ে চিনি কলকারখানা পুনরায় সচল করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উলাসী খাল খননের স্মৃতি স্মরণ করে তিনি বলেন, “বিএনপি সরকার গঠন করলে আমি নিজেও খাল কাটতে আসবো।” একই সঙ্গে যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের জিকে প্রকল্প পুনরায় চালুর আশ্বাস দেন।
নারী অধিকার প্রসঙ্গে কারও নাম উল্লেখ না করে তারেক রহমান বলেন, “একটি রাজনৈতিক দল দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীদের ঘরে আটকে রাখার কথা বলছে, যা কলঙ্কজনক।” তিনি হযরত বিবি খাদিজা (রা.)-এর উদাহরণ দিয়ে বলেন, কর্মজীবী নারীদের অপমান করার অধিকার কারও নেই।
জনগণের সমর্থনে সরকার গঠন করতে পারলে নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালুর ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এতে সামাজিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়বে। পাশাপাশি শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থানে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের শীর্ষ নেতারা।































