ঢাকা ০৫:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভেনেজুয়েলা উপকূলের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:২১:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫
  • / 110

ভেনেজুয়েলা উপকূলের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ

ভেনেজুয়েলা উপকূলের কাছে ক্যারিবীয় দ্বীপদেশ ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ। ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকার মধ্যে সেখানে এই যুদ্ধজাহাজ উপস্থিত হয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

আল জাজিরা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্রবাহী বিধ্বংসী জাহাজ ইউএসএস গ্রেভলি রবিবার (২৬ অক্টোবর) মার্কিন মেরিন সেনাসদস্যদের নিয়ে ত্রিনিদাদের রাজধানী পোর্ট অব স্পেনে পৌঁছেছে।

বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জাহাজটি সেখানেই অবস্থান করবে। এ সময়ের মধ্যে মার্কিন মেরিন সেনাদের একটি দল ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে যৌথ মহড়া পরিচালনা করবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সরকার।

যুদ্ধজাহাজটিতে অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থা এবং হেলিকপ্টার পরিচালনা ব্যবস্থা রয়েছে। লাতিন আমেরিকায় মাদক পাচারের বিরুদ্ধে বিশেষ করে ভেনেজুয়েলাকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জোরদার সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবেই এই মহড়ার আয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে।

ত্রিনিদাদে অবস্থানরত আল জাজিরার সাংবাদিক জুলিয়া গালিয়ানো জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার জনগণকে আশ্বস্ত করেছে যে যুদ্ধজাহাজের আগমনে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, “এটি একটি নিয়মিত সামরিক মহড়া, যুদ্ধের পূর্বাভাস নয়।”

তবে সাধারণ মানুষ বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় বাজারে কথা বলা এক ব্যক্তি বলেছেন, “যদি আমেরিকা ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে কিছু ঘটে, আমাদের মতো সীমান্তবর্তী মানুষরাই প্রথম আঘাত পাব।”

৬৪ বছর বয়সী দানিয়েল হোল্ডার আরও বলেন, “আমি চাই না আমার দেশ এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ুক।”

মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ জাভেদ আলি আল জাজিরাকে বলেন, “এটি মূলত সামরিক শক্তি প্রদর্শনের কৌশল, যাতে মাদুরো সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা যায়।” তবে তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সামরিক উপস্থিতি ভেনেজুয়েলায় সরাসরি হামলার জন্য যথেষ্ট নয়।

ক্যারিবীয় অঞ্চলে মাদক পাচারকারী নৌযানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের জেরে ক্রমাগত আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ছে। মাদকবাহী নৌযানে মার্কিন হামলায় বেশ কয়েকজন নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

গত মাসের শুরু থেকে মার্কিন বাহিনী বেশ কয়েকটি মাদকবাহী নৌযানে হামলা চালিয়েছে, যার বেশিরভাগই হয়েছে ক্যারিবীয় সাগরে। ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের এমন হামলা বাড়তে থাকার মধ্যে ভেনেজুয়েলার উপকূলের কাছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ নোঙর করল।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে তিনি মাদকচক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তবে মাদুরো এমন অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

দুই দেশের মধ্যে অচলাবস্থা আরও বেড়ে যায় গত শুক্রবার, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগন ক্যারিবীয় অঞ্চলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস গেরাল্ড আর. ফোর্ড মোতায়েনের নির্দেশ দেয়।

ক্যারিবীয় অঞ্চলে সামরিক শক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-কে ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালানোর এখতিয়ারও দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের সামরিক হুমকি থেকে নিজেদের উপকূল রক্ষায় ভেনেজুয়েলা প্রতিরক্ষা মহড়া শুরু করেছে বলে শনিবার জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো।

সূত্র: আল জাজিরা

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ভেনেজুয়েলা উপকূলের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ

সর্বশেষ আপডেট ১০:২১:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫

ভেনেজুয়েলা উপকূলের কাছে ক্যারিবীয় দ্বীপদেশ ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ। ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকার মধ্যে সেখানে এই যুদ্ধজাহাজ উপস্থিত হয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

আল জাজিরা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্রবাহী বিধ্বংসী জাহাজ ইউএসএস গ্রেভলি রবিবার (২৬ অক্টোবর) মার্কিন মেরিন সেনাসদস্যদের নিয়ে ত্রিনিদাদের রাজধানী পোর্ট অব স্পেনে পৌঁছেছে।

বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জাহাজটি সেখানেই অবস্থান করবে। এ সময়ের মধ্যে মার্কিন মেরিন সেনাদের একটি দল ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে যৌথ মহড়া পরিচালনা করবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সরকার।

যুদ্ধজাহাজটিতে অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থা এবং হেলিকপ্টার পরিচালনা ব্যবস্থা রয়েছে। লাতিন আমেরিকায় মাদক পাচারের বিরুদ্ধে বিশেষ করে ভেনেজুয়েলাকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জোরদার সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবেই এই মহড়ার আয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে।

ত্রিনিদাদে অবস্থানরত আল জাজিরার সাংবাদিক জুলিয়া গালিয়ানো জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার জনগণকে আশ্বস্ত করেছে যে যুদ্ধজাহাজের আগমনে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, “এটি একটি নিয়মিত সামরিক মহড়া, যুদ্ধের পূর্বাভাস নয়।”

তবে সাধারণ মানুষ বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় বাজারে কথা বলা এক ব্যক্তি বলেছেন, “যদি আমেরিকা ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে কিছু ঘটে, আমাদের মতো সীমান্তবর্তী মানুষরাই প্রথম আঘাত পাব।”

৬৪ বছর বয়সী দানিয়েল হোল্ডার আরও বলেন, “আমি চাই না আমার দেশ এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ুক।”

মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ জাভেদ আলি আল জাজিরাকে বলেন, “এটি মূলত সামরিক শক্তি প্রদর্শনের কৌশল, যাতে মাদুরো সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা যায়।” তবে তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সামরিক উপস্থিতি ভেনেজুয়েলায় সরাসরি হামলার জন্য যথেষ্ট নয়।

ক্যারিবীয় অঞ্চলে মাদক পাচারকারী নৌযানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের জেরে ক্রমাগত আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ছে। মাদকবাহী নৌযানে মার্কিন হামলায় বেশ কয়েকজন নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

গত মাসের শুরু থেকে মার্কিন বাহিনী বেশ কয়েকটি মাদকবাহী নৌযানে হামলা চালিয়েছে, যার বেশিরভাগই হয়েছে ক্যারিবীয় সাগরে। ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের এমন হামলা বাড়তে থাকার মধ্যে ভেনেজুয়েলার উপকূলের কাছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ নোঙর করল।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে তিনি মাদকচক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তবে মাদুরো এমন অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

দুই দেশের মধ্যে অচলাবস্থা আরও বেড়ে যায় গত শুক্রবার, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগন ক্যারিবীয় অঞ্চলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস গেরাল্ড আর. ফোর্ড মোতায়েনের নির্দেশ দেয়।

ক্যারিবীয় অঞ্চলে সামরিক শক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-কে ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালানোর এখতিয়ারও দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের সামরিক হুমকি থেকে নিজেদের উপকূল রক্ষায় ভেনেজুয়েলা প্রতিরক্ষা মহড়া শুরু করেছে বলে শনিবার জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো।

সূত্র: আল জাজিরা