ভূমিকম্পে নিহত ছয়, আহত শতাধিক
- সর্বশেষ আপডেট ০২:৩২:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫
- / 96
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার পর রিখটার স্কেলে ৫.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা কেঁপে ওঠে। মুহূর্তের মধ্যে ভবন দুলতে শুরু করলে হাজারো মানুষ আতঙ্কে রাস্তায় বেরিয়ে আসে। এই কম্পনে ঢাকায় তিনজন ও নারায়ণগঞ্জে তিনজনসহ মোট ছয়জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
ঢাকার পুরান ঢাকার কসাইটুলিতে পাঁচতলা ভবনের রেলিং ধসে নিহতদের মধ্যে ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাফিউল ইসলাম, সবুজ (৩০) ও ৮ বছরের এক শিশু। তারা সড়ক দিয়ে হাঁটার সময় রেলিং ভেঙে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। তাদের মরদেহ স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালে নেওয়া হয়।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে রাস্তার পাশের দেয়াল ধসে নবজাতক ফাতেমা মারা গেছেন। শিশুটির মা কুলসুম বেগম ও প্রতিবেশী জেসমিন বেগম গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করেন।
নরসিংদী জেলায় আহতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। গাবতলী এলাকায় ছয়তলা নির্মাণাধীন ভবনের দেয়াল ধসে একতলা বাড়ির ওপর পড়ে বাড়ির মালিক দেলোয়ার, ছেলে ওমর ও মেয়ে তাসফিয়া আহত হন। তাদের নরসিংদী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, পরে বাবা–ছেলেকে ঢাকায় রেফার করা হয়। জেলার ছয়টি উপজেলায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। নরসিংদী সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. গুলশানা কবির জানান, প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ চিকিৎসা নিয়েছেন এবং এখনও রোগীরা হাসপাতালে আসছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী—ঢাকা মেডিকেল কলেজে ১০ জন, গাজীপুর তাজউদ্দীন মেডিকেলে ১০ জন, নরসিংদী জেলায় ৫৫ জনসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আহতদের খবর পাওয়া গেছে। মোট আহতের সংখ্যা শতাধিক বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভূমিকম্পের প্রভাবের কারণে নরসিংদীর পলাশে ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জাতীয় গ্রিড সাবস্টেশনে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। সাবস্টেশনের যন্ত্রাংশ আগুনে পুড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়। পলাশ ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. এনামুল হক জানান, ভূমিকম্পের অভিঘাতেই সাবস্টেশনে আগুন লেগেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত লাইনগুলো পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে।






































