ঢাকা ১২:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভূমিকম্পে আহত ৯০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন পঙ্গু হাসপাতালে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:৫৪:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫
  • / 166

ভূমিকম্পে আহত ৯০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন পঙ্গু হাসপাতালে

রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্র (পঙ্গু হাসপাতাল) আজ শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত ভূমিকম্পে আহত ৯০ জনকে চিকিৎসা দিয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৮ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.৭। কেন্দ্রস্থল ছিল নরসিংদীর ঘোড়াশাল এলাকায়।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, হঠাৎ কম্পনে আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় পড়ে যাওয়া, মাথা ঘুরে ভারসাম্য হারানো বা ভারী বস্তু পড়ার কারণে অনেকে আহত হয়ে হাসপাতালে আসেন। বিকেল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত রাজধানী ও আশপাশের জেলা থেকে মোট ৯০ জন আহত ব্যক্তি পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ভূমিকম্পে দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ২০৮ জন। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন পুরান ঢাকার বংশালের তিনজন, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের এক শিশু এবং নরসিংদীর পলাশ উপজেলার এক বৃদ্ধ।

আহতদের মধ্যে কালাচাঁদপুর থেকে আসা ৫০ বছরের এক ব্যক্তি দ্রুত নামতে গিয়ে পড়ে কোমরের হাড়ে গুরুতর আঘাত পান। আব্দুল্লাপুরের ইয়াসিন আরাফাত কাজের সময় আলমারি পড়ে গিয়ে ডান হাত ভেঙেছেন। নতুন বাজারের তানজিমা ফেরদৌস মাথা ঘুরে পড়ে কোমরে আঘাত পেয়েছেন। মিরপুর–৬ এর মনিম সিঁড়ি থেকে পড়ে বাম পা ভেঙেছেন। সিদ্ধিরগঞ্জের মুড়ি বিক্রেতা আবদুস সোবহান চায়ের দোকান থেকে দৌড় দিতে গিয়ে পড়ে বাম পা ভেঙেছেন।

বিভিন্ন এলাকা—বসুন্ধরা, রামপুরা, হাতিরঝিলসহ রাজধানীর বহু স্থান থেকে আহতরা এসে সেবা নিয়েছেন।

সিনিয়র স্টাফ নার্স লক্ষ্মী রানী দাস জানান, বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত ৮৩ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। বেশির ভাগ রোগী হাত–পা ভাঙা, কোমর বা কাঁধের জোড়া সরে যাওয়া এবং অন্যান্য অস্থি-সংক্রান্ত আঘাতে ভুগছেন।

পঙ্গু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কেনান জানান, এখন পর্যন্ত ৯০ জন আহতকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং গুরুতর অবস্থায় থাকার কারণে ১৮ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। রোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে চিকিৎসক, নার্স এবং ওয়ার্ড মাস্টারের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে এবং সব বিভাগকে সতর্ক করা হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ভূমিকম্পে আহত ৯০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন পঙ্গু হাসপাতালে

সর্বশেষ আপডেট ০৬:৫৪:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫

রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্র (পঙ্গু হাসপাতাল) আজ শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত ভূমিকম্পে আহত ৯০ জনকে চিকিৎসা দিয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৮ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.৭। কেন্দ্রস্থল ছিল নরসিংদীর ঘোড়াশাল এলাকায়।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, হঠাৎ কম্পনে আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় পড়ে যাওয়া, মাথা ঘুরে ভারসাম্য হারানো বা ভারী বস্তু পড়ার কারণে অনেকে আহত হয়ে হাসপাতালে আসেন। বিকেল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত রাজধানী ও আশপাশের জেলা থেকে মোট ৯০ জন আহত ব্যক্তি পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ভূমিকম্পে দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ২০৮ জন। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন পুরান ঢাকার বংশালের তিনজন, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের এক শিশু এবং নরসিংদীর পলাশ উপজেলার এক বৃদ্ধ।

আহতদের মধ্যে কালাচাঁদপুর থেকে আসা ৫০ বছরের এক ব্যক্তি দ্রুত নামতে গিয়ে পড়ে কোমরের হাড়ে গুরুতর আঘাত পান। আব্দুল্লাপুরের ইয়াসিন আরাফাত কাজের সময় আলমারি পড়ে গিয়ে ডান হাত ভেঙেছেন। নতুন বাজারের তানজিমা ফেরদৌস মাথা ঘুরে পড়ে কোমরে আঘাত পেয়েছেন। মিরপুর–৬ এর মনিম সিঁড়ি থেকে পড়ে বাম পা ভেঙেছেন। সিদ্ধিরগঞ্জের মুড়ি বিক্রেতা আবদুস সোবহান চায়ের দোকান থেকে দৌড় দিতে গিয়ে পড়ে বাম পা ভেঙেছেন।

বিভিন্ন এলাকা—বসুন্ধরা, রামপুরা, হাতিরঝিলসহ রাজধানীর বহু স্থান থেকে আহতরা এসে সেবা নিয়েছেন।

সিনিয়র স্টাফ নার্স লক্ষ্মী রানী দাস জানান, বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত ৮৩ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। বেশির ভাগ রোগী হাত–পা ভাঙা, কোমর বা কাঁধের জোড়া সরে যাওয়া এবং অন্যান্য অস্থি-সংক্রান্ত আঘাতে ভুগছেন।

পঙ্গু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কেনান জানান, এখন পর্যন্ত ৯০ জন আহতকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং গুরুতর অবস্থায় থাকার কারণে ১৮ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। রোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে চিকিৎসক, নার্স এবং ওয়ার্ড মাস্টারের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে এবং সব বিভাগকে সতর্ক করা হয়েছে।