ভুয়া ওয়ার্ক পারমিটে শ্রমবাজারের সর্বনাশ
- সর্বশেষ আপডেট ১০:৪৭:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫
- / 144
‘ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট ব্যবহার করে ভিসার আবেদন করায় পূর্ব ইউরোপের দুটি দেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজার বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে। সম্প্রতি সার্বিয়া ও উত্তর মেসিডোনিয়ায় ভিসা আবেদনকারীদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশির ওয়ার্ক পারমিট জাল প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে দেশ দুটি সাময়িকভাবে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া বন্ধ করেছে। দূতাবাসগুলো জানিয়েছে, জালিয়াতি বন্ধ না হলে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা সম্পূর্ণভাবে স্থগিত করা হতে পারে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, উত্তর মেসিডোনিয়ায় ভিসার জন্য আবেদন করা প্রায় ৯০ শতাংশ বাংলাদেশির ওয়ার্ক পারমিট ভুয়া বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। সার্বিয়ার ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি। গত দুই মাস ধরে তারা বাংলাদেশি শ্রমিকদের কোনো ওয়ার্ক পারমিট দিচ্ছে না, তবুও নিয়মিতভাবে ভুয়া পারমিট সংযুক্ত করে ভিসার আবেদন করা হচ্ছে।
উত্তর মেসিডোনিয়ার পুলিশ সম্প্রতি মানবপাচার চক্রের চার বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে দুজন ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও একজন সিলেটের বাসিন্দা। এ ঘটনায় দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলে আলোচনা হয় এবং চক্রের সদস্যদের বিচার শেষে কারাদণ্ড বা বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে সার্বিয়ার দূতাবাসে ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট ও নকল স্টিকার ভিসা ব্যবহার করে প্রতারণা করছে আরেকটি সংগঠিত চক্র। এভাবে প্রতারকরা শ্রমিকদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে এবং দেশের শ্রমবাজারের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করছে।
বিএমইটির নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশে শ্রমিক পাঠাতে বৈধ ওয়ার্ক পারমিট, ভিসা ও স্মার্ট কার্ড প্রয়োজন। কিন্তু প্রতারক চক্রগুলো প্রথমে জাল পারমিট তৈরি করে ভিসার আবেদন করে। আবেদন বাতিল হলে তারা নকল স্টিকার ভিসা তৈরি করে পাসপোর্টে যুক্ত করে দেয়। এরপর বিএমইটির স্মার্ট কার্ড ও বিমান টিকিটের ব্যবস্থা করে শ্রমিকদের ইউরোপগামী বিমানে তোলার চেষ্টা করে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ইমিগ্রেশনে তাদের আটক করা হয়।
প্রতারক চক্রগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে দেশ ও প্রবাসের বাংলাদেশিদের টার্গেট করছে। উন্নত জীবন ও উচ্চ বেতনের প্রলোভনে তারা অনেককে বিভ্রান্ত করছে। প্রতারণার শিকার এক ব্যক্তি, মাজেদুল ইসলাম, জানান—গত মে মাসে তিনি সার্বিয়ার শ্রমিক ভিসার জন্য অনলাইনে আবেদন করেন। আবেদনটি দীর্ঘদিন অপেক্ষমাণ তালিকায় ছিল, পরে এজেন্সি তার আইডির পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে জানায়, এক মাসের মধ্যে ভিসা অনুমোদন হবে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেটি ছিল ভুয়া ওয়ার্ক পারমিটের ফাঁদ।
নয়াদিল্লিতে অবস্থিত উত্তর মেসিডোনিয়া দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত স্লোবোডান উজনভ বলেন, “গত দুই মাস ধরে বাংলাদেশিদের জন্য কোনো ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করা হয়নি। তারপরও কিছু অসাধু ব্যক্তি ভুয়া পারমিট ব্যবহার করে নিয়মিতভাবে ভিসার আবেদন করছে। এ পরিস্থিতি না বদলালে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।”
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন
































