ঢাকা ০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভালো ড্রেস না থাকায় কোনো অনুষ্ঠানে দাওয়াত পেতাম না : মারুফা

ক্রীড়া ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:৫০:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫
  • / 160

ভালো ড্রেস না থাকায় কোনো অনুষ্ঠানে দাওয়াত পেতাম না : মারুফা

চলমান নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের পেসার মারুফা আক্তার। তার গতিময় বোলিং ও নিখুঁত সুইংয়ে বিশ্ব ক্রিকেটের বড় বড় ব্যাটাররাও হয়েছেন বিভ্রান্ত। ক্রিকেট বিশ্লেষক লাসিথ মালিঙ্গা থেকে শুরু করে নাসের হোসেন পর্যন্ত সবাই প্রশংসা করেছেন এই তরুণ বোলারের। অনেকেই মনে করছেন, জাহানারা আলমের পর বাংলাদেশের পেস আক্রমণের নেতৃত্ব দেবেন তিনিই।

তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ওঠার এই পথটা ছিল না সহজ। দারিদ্র্য, সামাজিক অবহেলা ও সংগ্রাম পেরিয়ে আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন মারুফা। নীলফামারীর সৈয়দপুরের এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্ম তার। পরিবারের সদস্য ছিলেন ছয়জন, আর্থিক টানাপোড়েন ছিল প্রতিদিনের সঙ্গী। নিজেদের জমি না থাকায় অন্যের জমিতে বর্গা চাষ করতেন তার বাবা। সেই কাজে ছোটবেলা থেকেই বাবাকে সাহায্য করতেন মারুফা।

সেই সময়ের কথা স্মরণ করে এক সাক্ষাৎকারে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। মারুফা বলেন, “কোথাও যদি বিয়ে বা কোনো অনুষ্ঠান হতো, আমাদের দাওয়াত দিত না। বলত, ওদের ভালো পোশাক নেই, গেলে মান-সম্মান নষ্ট হবে। এমন কথাও শুনতে হতো। একটা সময় ছিল, ঈদেও নতুন জামা কিনতে পারিনি।”

তিনি আরও জানান, “আমার বাবা কৃষক ছিলেন, বাড়িতে তেমন টাকা-পয়সা ছিল না। আব্বা বাইরে থাকলে অনেকে এসে মাকে কষ্ট দিত, নানা খারাপ কথা বলত। মা কাঁদত, আমি এক কোণে গিয়ে কাঁদতাম— ভাবতাম, আমার কারণে মা এত কষ্ট পাচ্ছে।”

এই সব কষ্টই তার প্রেরণায় পরিণত হয়। সমাজের অবজ্ঞা আর দারিদ্র্যকে জয় করে ক্রিকেটে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। এখন তিনি শুধু পরিবারের নয়, পুরো দেশের গর্ব।

মারুফা বলেন, “আমি ভাবতাম, একদিন ভালো কিছু করব, মানুষ চিনবে আমাকে। এখন যখন দেখি আমি দেশের জন্য খেলছি, পরিবারের দায়িত্ব নিচ্ছি— তখন মনে হয় এই পরিশ্রম সার্থক। ছোটবেলায় ভাবতাম, কবে মানুষ আমাদের দিকে তাকাবে, হাততালি দেবে। এখন টিভিতে নিজেকে দেখলে লজ্জা লাগে, কিন্তু ভেতরে অনেক আনন্দও পাই।”

অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম আর পরিবারের প্রতি ভালোবাসা— এই তিনেই গড়ে উঠেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের এই তারকা পেসারের সাফল্যের গল্প।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ভালো ড্রেস না থাকায় কোনো অনুষ্ঠানে দাওয়াত পেতাম না : মারুফা

সর্বশেষ আপডেট ০৩:৫০:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫

চলমান নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের পেসার মারুফা আক্তার। তার গতিময় বোলিং ও নিখুঁত সুইংয়ে বিশ্ব ক্রিকেটের বড় বড় ব্যাটাররাও হয়েছেন বিভ্রান্ত। ক্রিকেট বিশ্লেষক লাসিথ মালিঙ্গা থেকে শুরু করে নাসের হোসেন পর্যন্ত সবাই প্রশংসা করেছেন এই তরুণ বোলারের। অনেকেই মনে করছেন, জাহানারা আলমের পর বাংলাদেশের পেস আক্রমণের নেতৃত্ব দেবেন তিনিই।

তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ওঠার এই পথটা ছিল না সহজ। দারিদ্র্য, সামাজিক অবহেলা ও সংগ্রাম পেরিয়ে আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন মারুফা। নীলফামারীর সৈয়দপুরের এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্ম তার। পরিবারের সদস্য ছিলেন ছয়জন, আর্থিক টানাপোড়েন ছিল প্রতিদিনের সঙ্গী। নিজেদের জমি না থাকায় অন্যের জমিতে বর্গা চাষ করতেন তার বাবা। সেই কাজে ছোটবেলা থেকেই বাবাকে সাহায্য করতেন মারুফা।

সেই সময়ের কথা স্মরণ করে এক সাক্ষাৎকারে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। মারুফা বলেন, “কোথাও যদি বিয়ে বা কোনো অনুষ্ঠান হতো, আমাদের দাওয়াত দিত না। বলত, ওদের ভালো পোশাক নেই, গেলে মান-সম্মান নষ্ট হবে। এমন কথাও শুনতে হতো। একটা সময় ছিল, ঈদেও নতুন জামা কিনতে পারিনি।”

তিনি আরও জানান, “আমার বাবা কৃষক ছিলেন, বাড়িতে তেমন টাকা-পয়সা ছিল না। আব্বা বাইরে থাকলে অনেকে এসে মাকে কষ্ট দিত, নানা খারাপ কথা বলত। মা কাঁদত, আমি এক কোণে গিয়ে কাঁদতাম— ভাবতাম, আমার কারণে মা এত কষ্ট পাচ্ছে।”

এই সব কষ্টই তার প্রেরণায় পরিণত হয়। সমাজের অবজ্ঞা আর দারিদ্র্যকে জয় করে ক্রিকেটে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। এখন তিনি শুধু পরিবারের নয়, পুরো দেশের গর্ব।

মারুফা বলেন, “আমি ভাবতাম, একদিন ভালো কিছু করব, মানুষ চিনবে আমাকে। এখন যখন দেখি আমি দেশের জন্য খেলছি, পরিবারের দায়িত্ব নিচ্ছি— তখন মনে হয় এই পরিশ্রম সার্থক। ছোটবেলায় ভাবতাম, কবে মানুষ আমাদের দিকে তাকাবে, হাততালি দেবে। এখন টিভিতে নিজেকে দেখলে লজ্জা লাগে, কিন্তু ভেতরে অনেক আনন্দও পাই।”

অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম আর পরিবারের প্রতি ভালোবাসা— এই তিনেই গড়ে উঠেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের এই তারকা পেসারের সাফল্যের গল্প।