ঢাকা ১১:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ট্রাম্পের দাবি

ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধ ঠেকাতে ২৫০% শুল্কের হুমকি 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:৫৬:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫
  • / 91

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের ২৯ অক্টোবর দক্ষিণ কোরিয়ার গিয়ংজু শহরে অনুষ্ঠিত এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) নেতাদের সম্মেলনের এক পাশে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং-এর (ছবিতে নেই) সঙ্গে বৈঠকের সময় বক্তব্য রাখছেন। ছবি: রয়টার্স

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চলতি বছরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধ তিনি ঠেকিয়েছেন ২৫০ শতাংশ শুল্কের হুমকি দিয়ে। দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে আয়োজিত এশিয়া-প্যাসিফিক সম্মেলনে বুধবার ট্রাম্প বলেন, “ভারত ও পাকিস্তান তখন একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সাতটি বিমান গুলি করে নামানো হয়েছিল। পরিস্থিতি দ্রুত খারাপের দিকে যাচ্ছিল।”

 

ট্রাম্প দাবি করেন, ওই সময় তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পাকিস্তানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং স্পষ্ট জানিয়ে দেন—যদি যুদ্ধ থামানো না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করে দেবে এবং ২৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করবে।

 

“আমি বলেছিলাম, প্রতিটি দেশের ওপর ২৫০ শতাংশ শুল্ক বসাব। এর মানে, আমরা তোমাদের সঙ্গে ব্যবসা করতে চাই না,” বলেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্যে উপস্থিত দর্শকরা তখন করতালিতে ফেটে পড়েন।

 

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এখনো ভারত ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগের অবস্থান অনুযায়ী, মে মাসে সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন কোনো হস্তক্ষেপ হয়নি। ভারতীয় পক্ষ জানিয়েছিল, মে মাসের চার দিনের সংঘাত থামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় পাকিস্তানের অনুরোধেই, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ নয়।

 

অন্যদিকে, পাকিস্তান সরকার সে সময় ট্রাম্পের ভূমিকাকে স্বাগত জানায় এবং তাঁকে শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেয়। ট্রাম্প বলেন, “দুই পক্ষই শুরুতে বলেছিল, ‘না, না, আমাদের লড়তে দাও।’ কিন্তু দুদিন পর তারা ফোন করে জানায়, ‘আমরা বুঝেছি’, এবং যুদ্ধ বন্ধ করে।”

 

সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় কিছু পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছে। বিশেষ করে রাশিয়া থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখার কারণে ২৭ আগস্ট থেকে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ কর যুক্ত করা হয়। অন্যদিকে, পাকিস্তানের ক্ষেত্রে শুল্ক হার ২৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশে আনা হয়েছে।

 

ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি বর্তমানে নতুন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালালেও দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক এখনও উত্তেজনাপূর্ণ পর্যায়েই রয়েছে।

 

সূত্র: রয়টার্স

 

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ট্রাম্পের দাবি

ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধ ঠেকাতে ২৫০% শুল্কের হুমকি 

সর্বশেষ আপডেট ০৫:৫৬:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চলতি বছরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধ তিনি ঠেকিয়েছেন ২৫০ শতাংশ শুল্কের হুমকি দিয়ে। দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে আয়োজিত এশিয়া-প্যাসিফিক সম্মেলনে বুধবার ট্রাম্প বলেন, “ভারত ও পাকিস্তান তখন একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সাতটি বিমান গুলি করে নামানো হয়েছিল। পরিস্থিতি দ্রুত খারাপের দিকে যাচ্ছিল।”

 

ট্রাম্প দাবি করেন, ওই সময় তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পাকিস্তানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং স্পষ্ট জানিয়ে দেন—যদি যুদ্ধ থামানো না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করে দেবে এবং ২৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করবে।

 

“আমি বলেছিলাম, প্রতিটি দেশের ওপর ২৫০ শতাংশ শুল্ক বসাব। এর মানে, আমরা তোমাদের সঙ্গে ব্যবসা করতে চাই না,” বলেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্যে উপস্থিত দর্শকরা তখন করতালিতে ফেটে পড়েন।

 

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এখনো ভারত ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগের অবস্থান অনুযায়ী, মে মাসে সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন কোনো হস্তক্ষেপ হয়নি। ভারতীয় পক্ষ জানিয়েছিল, মে মাসের চার দিনের সংঘাত থামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় পাকিস্তানের অনুরোধেই, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ নয়।

 

অন্যদিকে, পাকিস্তান সরকার সে সময় ট্রাম্পের ভূমিকাকে স্বাগত জানায় এবং তাঁকে শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেয়। ট্রাম্প বলেন, “দুই পক্ষই শুরুতে বলেছিল, ‘না, না, আমাদের লড়তে দাও।’ কিন্তু দুদিন পর তারা ফোন করে জানায়, ‘আমরা বুঝেছি’, এবং যুদ্ধ বন্ধ করে।”

 

সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় কিছু পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছে। বিশেষ করে রাশিয়া থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখার কারণে ২৭ আগস্ট থেকে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ কর যুক্ত করা হয়। অন্যদিকে, পাকিস্তানের ক্ষেত্রে শুল্ক হার ২৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশে আনা হয়েছে।

 

ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি বর্তমানে নতুন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালালেও দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক এখনও উত্তেজনাপূর্ণ পর্যায়েই রয়েছে।

 

সূত্র: রয়টার্স