ঢাকা ১১:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ওসমান হাদি হত্যায়

ভারতে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নিঃ মেঘালয় পুলিশ

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩৮:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 122

ডিএমপির প্রেস ব্রিফিং

বাংলাদেশে ইলকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডে ভারতে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে দাবি করেছে ভারতের মেঘালয় পুলিশ। একই সঙ্গে মূল সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম ওরফে দাউদ খান সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে—এমন কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে তারা।

ভারতের মেঘালয় পুলিশের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস

মেঘালয় পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিন্দুস্তান টাইমসকে বলেন, “বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে আমাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। প্রতিবেদনে যাদের অভিযুক্ত বলা হয়েছে, তাদের কাউকেই গারো পাহাড় এলাকায় পাওয়া যায়নি। কোনো গ্রেপ্তারও হয়নি।”

মেঘালয় পুলিশের এই বক্তব্যকে সমর্থন করে বিবৃতি দিয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের (মেঘালয় ফ্রন্টিয়ার) প্রধান ওপি উপাধ্যায়। তিনি বলেন, “হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে সন্দেহভাজনদের মেঘালয়ে প্রবেশের কোনো প্রমাণ নেই। বিএসএফ এ ধরনের কোনো ঘটনার বিষয়ে অবগত নয়। এসব দাবি ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর।”

এর আগে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, হাদি হত্যার মূল সন্দেহভাজন ফয়সাল করিমের দুই সহযোগীকে ভারতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিএমপি) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “ইনফরমাল চ্যানেলের মাধ্যমে মেঘালয় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে— পুত্তি ও তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”

ডিএমপির সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ফয়সাল করিম ও আলমগীর ঘটনাস্থল থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় আমিনবাজারে যান। পরে মানিকগঞ্জের কালামপুর হয়ে একটি প্রাইভেটকারে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে পৌঁছান তারা।

ডিএমপির ভাষ্য অনুযায়ী, হালুয়াঘাটে পৌঁছানোর আগে মুন ফিলিং স্টেশনে ফিলিপ ও সঞ্জয় তাদের গ্রহণের জন্য অপেক্ষা করছিল। পরে ফিলিপ তাদের সীমান্ত পার করে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে জনৈক পুত্তির কাছে হস্তান্তর করেন। পুত্তি তাদের এক ট্যাক্সিচালক সামির কাছে দেন, যিনি তাদের মেঘালয়ের পুরা শহরে নিয়ে যান।

তবে মেঘালয় পুলিশ ও বিএসএফ উভয়ই এসব দাবি অস্বীকার করেছে। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে তারা সব সময় উন্মুক্ত এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে হামলার শিকার হন শরীফ ওসমান বিন হাদি। মতিঝিল মসজিদ থেকে জুমার নামাজ শেষে প্রচারণা চালিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলে আসা ফয়সাল করিম ও তার সহযোগীরা চলন্ত অবস্থায় তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইলকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। হাদির মৃত্যুর পর ২০ ডিসেম্বর আদালতের আদেশে মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা (হত্যা) যুক্ত করা হয়।

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ওসমান হাদি হত্যায়

ভারতে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নিঃ মেঘালয় পুলিশ

সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩৮:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশে ইলকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডে ভারতে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে দাবি করেছে ভারতের মেঘালয় পুলিশ। একই সঙ্গে মূল সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম ওরফে দাউদ খান সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে—এমন কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে তারা।

ভারতের মেঘালয় পুলিশের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস

মেঘালয় পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিন্দুস্তান টাইমসকে বলেন, “বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে আমাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। প্রতিবেদনে যাদের অভিযুক্ত বলা হয়েছে, তাদের কাউকেই গারো পাহাড় এলাকায় পাওয়া যায়নি। কোনো গ্রেপ্তারও হয়নি।”

মেঘালয় পুলিশের এই বক্তব্যকে সমর্থন করে বিবৃতি দিয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের (মেঘালয় ফ্রন্টিয়ার) প্রধান ওপি উপাধ্যায়। তিনি বলেন, “হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে সন্দেহভাজনদের মেঘালয়ে প্রবেশের কোনো প্রমাণ নেই। বিএসএফ এ ধরনের কোনো ঘটনার বিষয়ে অবগত নয়। এসব দাবি ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর।”

এর আগে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, হাদি হত্যার মূল সন্দেহভাজন ফয়সাল করিমের দুই সহযোগীকে ভারতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিএমপি) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “ইনফরমাল চ্যানেলের মাধ্যমে মেঘালয় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে— পুত্তি ও তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”

ডিএমপির সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ফয়সাল করিম ও আলমগীর ঘটনাস্থল থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় আমিনবাজারে যান। পরে মানিকগঞ্জের কালামপুর হয়ে একটি প্রাইভেটকারে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে পৌঁছান তারা।

ডিএমপির ভাষ্য অনুযায়ী, হালুয়াঘাটে পৌঁছানোর আগে মুন ফিলিং স্টেশনে ফিলিপ ও সঞ্জয় তাদের গ্রহণের জন্য অপেক্ষা করছিল। পরে ফিলিপ তাদের সীমান্ত পার করে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে জনৈক পুত্তির কাছে হস্তান্তর করেন। পুত্তি তাদের এক ট্যাক্সিচালক সামির কাছে দেন, যিনি তাদের মেঘালয়ের পুরা শহরে নিয়ে যান।

তবে মেঘালয় পুলিশ ও বিএসএফ উভয়ই এসব দাবি অস্বীকার করেছে। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে তারা সব সময় উন্মুক্ত এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে হামলার শিকার হন শরীফ ওসমান বিন হাদি। মতিঝিল মসজিদ থেকে জুমার নামাজ শেষে প্রচারণা চালিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলে আসা ফয়সাল করিম ও তার সহযোগীরা চলন্ত অবস্থায় তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইলকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। হাদির মৃত্যুর পর ২০ ডিসেম্বর আদালতের আদেশে মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা (হত্যা) যুক্ত করা হয়।