ঢাকা ১০:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ব্যারাকে নারী কনস্টেবলকে ধর্ষণ: আদালতে সাফিউরের দাবি ‘প্রেম’

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:৩৪:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫
  • / 109

ব্যারাকে নারী কনস্টেবলকে ধর্ষণ: আদালতে সাফিউরের দাবি ‘প্রেম’

সম্প্রতি কেরানীগঞ্জে থানা ব্যারাকে নারী কনস্টেবলকে সহকর্মীর দ্বারা ‘ধর্ষণের’ ঘটনা আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। এ নিয়ে মামলা দায়ের হয়েছে। শনিবার (২৩ আগস্ট) এ ঘটনায় আদালতে অভিযুক্তের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কেরানীগঞ্জ থানার এসআই জুলফিকার আলী।

এদিন ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা ব্যারাকে সহকর্মীকে ‘ধর্ষণের’ অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলাটি আদালতে ওঠে। আসামি কনস্টেবল সাফিউর রহমানকে আদালতে হাজির করে তদন্ত কর্মকর্তা ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

তবে সাফিউরের পক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সালেহ তার বক্তব্য শোনার নির্দেশ দেন। এক বছর আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া সাফিউর আদালতে বলেন, যিনি অভিযোগ করেছেন তিনি তার সঙ্গে সংসার করতে চান। এরপর বিচারক বাদীর সঙ্গে যোগাযোগ করে মামলা মিটিয়ে নেওয়ার ‘পরামর্শ’ দেন এবং সাফিউরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হওয়ার পর শুক্রবার (২২ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে ঢাকার মিল ব্যারাক পুলিশ লাইন থেকে ৩০ বছর বয়সী সাফিউরকে গ্রেপ্তার করে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ। তার আগে মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) এক নারী কনস্টেবল থানার ওসির কাছে সহকর্মী সাফিউরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেন।

নারী কনস্টেবলের অভিযোগ, গত ফেব্রুয়ারিতে আশুলিয়া থানা থেকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় যোগ দেওয়ার পর থেকে সহকর্মী সাফিউর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে টানা ৫ মাস তাকে ‘ধর্ষণ’ করে আসছেন।

এ নিয়ে বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উভয় পুলিশ সদস্যকে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং তদন্তের জন্য কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সেখানে আরও উল্লেখ করা হয়, পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তদন্তসাপেক্ষে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

পরদিন শুক্রবার ধর্ষণের অভিযোগে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করেন ওই নারী কনস্টেবল। শনিবার আদালতে রিমান্ড আবেদনের শুনানিতে বিচারক আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সালেহ ওই নারীর কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চান।

পরে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সাফিউর বলেন, তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তিনি ওই নারীকে বিয়ে করতে চান। বিচারক তার আগে বিয়ে হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি স্বীকার করেন, গ্রামের বাড়িতে তার স্ত্রী রয়েছে এবং এক বছর আগে বিয়ে করেছেন।

এ সময় বিচারক প্রশ্ন করেন, স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও আরেকজনের সঙ্গে প্রেম কেন। তবে এর উত্তর না দিয়ে সাফিউর বলেন, ইসলামি শরিয়া অনুযায়ী তিনি ওই নারীকে বিয়ে করবেন। তখন আদালত মন্তব্য করেন, “সে (নারী কনস্টেবল) তো মামলা দিয়েছে।” শেষে বিচারক বলেন, “বউ রেখে আরেক নারীর দিকে চোখ যায় কীভাবে!”

মামলার তদন্ত কর্মকর্তাও এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে রিমান্ড শুনানির তারিখ রোববার (২৪ আগস্ট) নির্ধারণ করে সাফিউরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

নারী কনস্টেবল মামলায় অভিযোগ করেছেন, ১৫ আগস্ট রাত আড়াইটা থেকে ৪টার মধ্যে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার নারী ব্যারাকে তার শয়নকক্ষে সাফিউর তাকে ‘ধর্ষণ’ করেন। এছাড়া বিগত ৫ মাস ধরে সপ্তাহে দুইবার একইভাবে ধর্ষণ করেন এবং তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও নিজের আইফোনে ধারণ করেন। এমনকি ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেন তিনি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ব্যারাকে নারী কনস্টেবলকে ধর্ষণ: আদালতে সাফিউরের দাবি ‘প্রেম’

সর্বশেষ আপডেট ০১:৩৪:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫

সম্প্রতি কেরানীগঞ্জে থানা ব্যারাকে নারী কনস্টেবলকে সহকর্মীর দ্বারা ‘ধর্ষণের’ ঘটনা আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। এ নিয়ে মামলা দায়ের হয়েছে। শনিবার (২৩ আগস্ট) এ ঘটনায় আদালতে অভিযুক্তের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কেরানীগঞ্জ থানার এসআই জুলফিকার আলী।

এদিন ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা ব্যারাকে সহকর্মীকে ‘ধর্ষণের’ অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলাটি আদালতে ওঠে। আসামি কনস্টেবল সাফিউর রহমানকে আদালতে হাজির করে তদন্ত কর্মকর্তা ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

তবে সাফিউরের পক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সালেহ তার বক্তব্য শোনার নির্দেশ দেন। এক বছর আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া সাফিউর আদালতে বলেন, যিনি অভিযোগ করেছেন তিনি তার সঙ্গে সংসার করতে চান। এরপর বিচারক বাদীর সঙ্গে যোগাযোগ করে মামলা মিটিয়ে নেওয়ার ‘পরামর্শ’ দেন এবং সাফিউরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হওয়ার পর শুক্রবার (২২ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে ঢাকার মিল ব্যারাক পুলিশ লাইন থেকে ৩০ বছর বয়সী সাফিউরকে গ্রেপ্তার করে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ। তার আগে মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) এক নারী কনস্টেবল থানার ওসির কাছে সহকর্মী সাফিউরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেন।

নারী কনস্টেবলের অভিযোগ, গত ফেব্রুয়ারিতে আশুলিয়া থানা থেকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় যোগ দেওয়ার পর থেকে সহকর্মী সাফিউর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে টানা ৫ মাস তাকে ‘ধর্ষণ’ করে আসছেন।

এ নিয়ে বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উভয় পুলিশ সদস্যকে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং তদন্তের জন্য কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সেখানে আরও উল্লেখ করা হয়, পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তদন্তসাপেক্ষে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

পরদিন শুক্রবার ধর্ষণের অভিযোগে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করেন ওই নারী কনস্টেবল। শনিবার আদালতে রিমান্ড আবেদনের শুনানিতে বিচারক আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সালেহ ওই নারীর কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চান।

পরে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সাফিউর বলেন, তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তিনি ওই নারীকে বিয়ে করতে চান। বিচারক তার আগে বিয়ে হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি স্বীকার করেন, গ্রামের বাড়িতে তার স্ত্রী রয়েছে এবং এক বছর আগে বিয়ে করেছেন।

এ সময় বিচারক প্রশ্ন করেন, স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও আরেকজনের সঙ্গে প্রেম কেন। তবে এর উত্তর না দিয়ে সাফিউর বলেন, ইসলামি শরিয়া অনুযায়ী তিনি ওই নারীকে বিয়ে করবেন। তখন আদালত মন্তব্য করেন, “সে (নারী কনস্টেবল) তো মামলা দিয়েছে।” শেষে বিচারক বলেন, “বউ রেখে আরেক নারীর দিকে চোখ যায় কীভাবে!”

মামলার তদন্ত কর্মকর্তাও এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে রিমান্ড শুনানির তারিখ রোববার (২৪ আগস্ট) নির্ধারণ করে সাফিউরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

নারী কনস্টেবল মামলায় অভিযোগ করেছেন, ১৫ আগস্ট রাত আড়াইটা থেকে ৪টার মধ্যে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার নারী ব্যারাকে তার শয়নকক্ষে সাফিউর তাকে ‘ধর্ষণ’ করেন। এছাড়া বিগত ৫ মাস ধরে সপ্তাহে দুইবার একইভাবে ধর্ষণ করেন এবং তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও নিজের আইফোনে ধারণ করেন। এমনকি ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেন তিনি।