ঢাকা ১১:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ব্যাংক খাতের ৮০ শতাংশ অর্থই নিয়ে গেছে: অর্থ উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:৫৫:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫
  • / 242

‘অর্থনীতি, শাসন ও ক্ষমতা: যাপিত জীবনের আলেখ্য’-এর প্রকাশনা অনুষ্ঠোনে অর্থ উপদেষ্টা।

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘গত বছরের আগস্টে যখন এই সরকার দায়িত্ব নেয়, তখন দেখা গেছে এরকম অবস্থা বিশ্বে কোথাও নেই। বিগত সরকারের সময়ে বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয় হয়েছে। ব্যাংক খাতের ৮০ শতাংশ অর্থই নিয়ে গেছে।
আইএমএফ বলেছে, বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের পুনর্গঠনের জন্য ১৮ বিলিয়ন ডলার লাগবে। যদিও বাস্তবে এর চেয়ে আরও বেশি প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলার লাগবে বলে মনে হচ্ছে।’
শনিবার (২৬ জুলাই) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে হোসেন জিল্লুর রহমানের লেখা বই ‘অর্থনীতি, শাসন ও ক্ষমতা: যাপিত জীবনের আলেখ্য’- এর প্রকাশ ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অর্থনীতিবিদ ও গবেষক হোসেন জিল্লুর রহমান।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশের অর্থনীতি বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তার মুখোমুখি। ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার বিপজ্জনকভাবে বেড়ে গেছে। স্ট্যান্ডিং ২০ হাজার কোটি টাকা হলে ১৬ হাজার কোটি টাকা নিয়ে গেছে।এর ফলে ব্যাংকিং ব্যবস্থা চরম সংকটে পড়েছে। এই খাতকে পুনরুদ্ধারে বিপুল অর্থের প্রয়োজন।
আইএমএফ-এর মতে, ব্যাংকখাতের পুনর্গঠনে প্রয়োজন ১৮ বিলিয়ন ডলার, তবে বাস্তবে এর চেয়েও অনেক বেশি লাগবে। প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলার। আর দেশের কর-জিডিপি অনুপাত মাত্র ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। যা বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম। কর সংগ্রহ ও সরকারি ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সেখানেও নানারকম সমস্যা রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রশাসনিক দুর্বলতা ও সুশাসনের ঘাটতি দেশের কাঠামোগত অচলাবস্থার একটি মূল কারণ। ভালো প্রতিষ্ঠান নেই বললেই চলে। আইনের ব্যত্যয় তো হয়েছেই, প্রক্রিয়াগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। আর মানুষগুলো তো রয়েই গেছে। মানুষগুলোর কোনো চেঞ্জ হয় নাই। অনেকে বলে সব বাদ দিয়ে দাও। কিন্তু সেটা সম্ভব না। এজন্য মাথায় হাত বুলিয়ে, ধমক দিয়ে কাজ করাতে হচ্ছে।’
ড. সালেহউদ্দিন বলেন, ‘সুশাসন অনেক কঠিন। প্রধানমন্ত্রী, সংসদ সদস্য-এদের ক্ষমতার চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স নেই। এখানে সংস্কার না হলে যত সংস্কারই করা হোক, কোনো লাভ হবে না। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও সংস্কার দরকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভালো প্রতিষ্ঠান নেই বললেই চলে। আইনের ব্যত্যয় তো হয়েছেই, প্রক্রিয়াগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। আর মানুষগুলো তো রয়েই গেছে। মানুষগুলোর কোনো চেঞ্জ হয় নাই। অনেকে বলে সব বাদ দিয়ে দাও। কিন্তু সেটা সম্ভব না। এজন্য মাথায় হাত বুলিয়ে, ধমক দিয়ে কাজ করাতে হচ্ছে।’

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ব্যাংক খাতের ৮০ শতাংশ অর্থই নিয়ে গেছে: অর্থ উপদেষ্টা

সর্বশেষ আপডেট ০৫:৫৫:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘গত বছরের আগস্টে যখন এই সরকার দায়িত্ব নেয়, তখন দেখা গেছে এরকম অবস্থা বিশ্বে কোথাও নেই। বিগত সরকারের সময়ে বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয় হয়েছে। ব্যাংক খাতের ৮০ শতাংশ অর্থই নিয়ে গেছে।
আইএমএফ বলেছে, বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের পুনর্গঠনের জন্য ১৮ বিলিয়ন ডলার লাগবে। যদিও বাস্তবে এর চেয়ে আরও বেশি প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলার লাগবে বলে মনে হচ্ছে।’
শনিবার (২৬ জুলাই) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে হোসেন জিল্লুর রহমানের লেখা বই ‘অর্থনীতি, শাসন ও ক্ষমতা: যাপিত জীবনের আলেখ্য’- এর প্রকাশ ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অর্থনীতিবিদ ও গবেষক হোসেন জিল্লুর রহমান।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশের অর্থনীতি বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তার মুখোমুখি। ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার বিপজ্জনকভাবে বেড়ে গেছে। স্ট্যান্ডিং ২০ হাজার কোটি টাকা হলে ১৬ হাজার কোটি টাকা নিয়ে গেছে।এর ফলে ব্যাংকিং ব্যবস্থা চরম সংকটে পড়েছে। এই খাতকে পুনরুদ্ধারে বিপুল অর্থের প্রয়োজন।
আইএমএফ-এর মতে, ব্যাংকখাতের পুনর্গঠনে প্রয়োজন ১৮ বিলিয়ন ডলার, তবে বাস্তবে এর চেয়েও অনেক বেশি লাগবে। প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলার। আর দেশের কর-জিডিপি অনুপাত মাত্র ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। যা বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম। কর সংগ্রহ ও সরকারি ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সেখানেও নানারকম সমস্যা রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রশাসনিক দুর্বলতা ও সুশাসনের ঘাটতি দেশের কাঠামোগত অচলাবস্থার একটি মূল কারণ। ভালো প্রতিষ্ঠান নেই বললেই চলে। আইনের ব্যত্যয় তো হয়েছেই, প্রক্রিয়াগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। আর মানুষগুলো তো রয়েই গেছে। মানুষগুলোর কোনো চেঞ্জ হয় নাই। অনেকে বলে সব বাদ দিয়ে দাও। কিন্তু সেটা সম্ভব না। এজন্য মাথায় হাত বুলিয়ে, ধমক দিয়ে কাজ করাতে হচ্ছে।’
ড. সালেহউদ্দিন বলেন, ‘সুশাসন অনেক কঠিন। প্রধানমন্ত্রী, সংসদ সদস্য-এদের ক্ষমতার চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স নেই। এখানে সংস্কার না হলে যত সংস্কারই করা হোক, কোনো লাভ হবে না। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও সংস্কার দরকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভালো প্রতিষ্ঠান নেই বললেই চলে। আইনের ব্যত্যয় তো হয়েছেই, প্রক্রিয়াগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। আর মানুষগুলো তো রয়েই গেছে। মানুষগুলোর কোনো চেঞ্জ হয় নাই। অনেকে বলে সব বাদ দিয়ে দাও। কিন্তু সেটা সম্ভব না। এজন্য মাথায় হাত বুলিয়ে, ধমক দিয়ে কাজ করাতে হচ্ছে।’