ঢাকা ০৯:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বেলুচিস্তানে অভিযানে ‘ভারত-সমর্থিত’ ৪১ জঙ্গি নিহত: আইএসপিআর

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:৩৫:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 4

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে পৃথক দুটি গোয়েন্দা-ভিত্তিক অভিযানে অন্তত ৪১ জন ‘ভারত-সমর্থিত’ জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির সামরিক বাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ আইএসপিআর। সন্ত্রাস দমনে অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলেও জানিয়েছে তারা।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে আইএসপিআর জানায়, ২৯ জানুয়ারি বেলুচিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযান পরিচালিত হয়। নিহতরা ‘ফিতনা আল-খারিজ’ ও ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ নামে পরিচিত দুটি গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিল, যেগুলোকে ভারত-সমর্থিত বলে দাবি করেছে পাকিস্তান।

হরনাই জেলার পার্শ্ববর্তী এলাকায় ‘ফিতনা আল-খারিজ’-এর অবস্থান শনাক্ত হওয়ার পর সেখানে অভিযান চালানো হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষের একপর্যায়ে ৩০ জন জঙ্গি নিহত হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার করে তা ধ্বংস করা হয়।

এদিকে পাঞ্জগুর জেলায় চালানো আরেকটি অভিযানে ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর ১১ সদস্য নিহত হয়েছে বলে জানায় আইএসপিআর। ওই অভিযানে একটি আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি উদ্ধার করা হয় অস্ত্র ও গোলাবারুদের পাশাপাশি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সংঘটিত একটি ব্যাংক ডাকাতির লুটের অর্থ। আইএসপিআরের দাবি, নিহতরা এর আগে একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এলাকায় অন্য কোনো জঙ্গি উপস্থিত আছে কি না তা নিশ্চিত করতে তল্লাশি ও স্যানিটাইজেশন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ কৌশলের আওতায় নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখবে বলেও জানানো হয়।

পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের মতে, ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর সীমান্তপথে সন্ত্রাসী তৎপরতা বেড়েছে। বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তান প্রদেশ এসব হামলার সবচেয়ে বেশি শিকার হচ্ছে।

গত ৬ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী জানান, ২০২৫ সালে দেশজুড়ে মোট ৭৫ হাজার ১৭৫টি গোয়েন্দা-ভিত্তিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে কেপিতে ১৪ হাজার ৬৫৮টি, বেলুচিস্তানে ৫৮ হাজার ৭৭৮টি এবং অন্যান্য এলাকায় ১ হাজার ৭৩৯টি অভিযান চালানো হয়।

তিনি বলেন, গত বছর সারা দেশে মোট ৫ হাজার ৩৯৭টি সন্ত্রাসী ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে, যার বেশিরভাগই ঘটেছে কেপি ও বেলুচিস্তানে। এসব অভিযানে ২০২৫ সালে মোট ২ হাজার ৫৯৭ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ ছাড়া তিনি দাবি করেন, দেশের বড় কয়েকটি হামলায় ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষ ও নরম লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হয়েছে এবং এসব ঘটনার পেছনে আফগান জঙ্গিদের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বেলুচিস্তানে অভিযানে ‘ভারত-সমর্থিত’ ৪১ জঙ্গি নিহত: আইএসপিআর

সর্বশেষ আপডেট ০৬:৩৫:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে পৃথক দুটি গোয়েন্দা-ভিত্তিক অভিযানে অন্তত ৪১ জন ‘ভারত-সমর্থিত’ জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির সামরিক বাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ আইএসপিআর। সন্ত্রাস দমনে অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলেও জানিয়েছে তারা।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে আইএসপিআর জানায়, ২৯ জানুয়ারি বেলুচিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযান পরিচালিত হয়। নিহতরা ‘ফিতনা আল-খারিজ’ ও ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ নামে পরিচিত দুটি গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিল, যেগুলোকে ভারত-সমর্থিত বলে দাবি করেছে পাকিস্তান।

হরনাই জেলার পার্শ্ববর্তী এলাকায় ‘ফিতনা আল-খারিজ’-এর অবস্থান শনাক্ত হওয়ার পর সেখানে অভিযান চালানো হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষের একপর্যায়ে ৩০ জন জঙ্গি নিহত হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার করে তা ধ্বংস করা হয়।

এদিকে পাঞ্জগুর জেলায় চালানো আরেকটি অভিযানে ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর ১১ সদস্য নিহত হয়েছে বলে জানায় আইএসপিআর। ওই অভিযানে একটি আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি উদ্ধার করা হয় অস্ত্র ও গোলাবারুদের পাশাপাশি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সংঘটিত একটি ব্যাংক ডাকাতির লুটের অর্থ। আইএসপিআরের দাবি, নিহতরা এর আগে একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এলাকায় অন্য কোনো জঙ্গি উপস্থিত আছে কি না তা নিশ্চিত করতে তল্লাশি ও স্যানিটাইজেশন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ কৌশলের আওতায় নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখবে বলেও জানানো হয়।

পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের মতে, ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর সীমান্তপথে সন্ত্রাসী তৎপরতা বেড়েছে। বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তান প্রদেশ এসব হামলার সবচেয়ে বেশি শিকার হচ্ছে।

গত ৬ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী জানান, ২০২৫ সালে দেশজুড়ে মোট ৭৫ হাজার ১৭৫টি গোয়েন্দা-ভিত্তিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে কেপিতে ১৪ হাজার ৬৫৮টি, বেলুচিস্তানে ৫৮ হাজার ৭৭৮টি এবং অন্যান্য এলাকায় ১ হাজার ৭৩৯টি অভিযান চালানো হয়।

তিনি বলেন, গত বছর সারা দেশে মোট ৫ হাজার ৩৯৭টি সন্ত্রাসী ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে, যার বেশিরভাগই ঘটেছে কেপি ও বেলুচিস্তানে। এসব অভিযানে ২০২৫ সালে মোট ২ হাজার ৫৯৭ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ ছাড়া তিনি দাবি করেন, দেশের বড় কয়েকটি হামলায় ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষ ও নরম লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হয়েছে এবং এসব ঘটনার পেছনে আফগান জঙ্গিদের সম্পৃক্ততা রয়েছে।