ঢাকা ০৪:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আহত অন্তত ৩০

বেলাবতে ফুটবল খেলা নিয়ে সংঘর্ষে যুবক নিহত

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:৪৬:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ জুন ২০২৫
  • / 182

ফুটবল খেলা নিয়ে সংঘর্ষে নিহত এক

নরসিংদীর বেলাবো উপজেলায় প্রীতি ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের সংঘর্ষে মো. সাইফুল মিয়া (২৬) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশের রাবার বুলেটে তিনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন তার স্বজনরা। সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত আরও ৩০ জন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১২ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বেলাব ইউনিয়নের মাটিয়ালপাড়া ও চর বেলাব গ্রামের মধ্যবর্তী একটি সেতু এলাকায় এ সংঘর্ষ ঘটে। নিহত সাইফুল চর বেলাব গ্রামের মো. জীবন মিয়ার ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেলে দুই গ্রামের তরুণদের মধ্যে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলার সময় প্রতিপক্ষের আঘাতে মাটিয়ালপাড়ার এক তরুণ আহত হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে খেলা শেষে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

পরে সন্ধ্যায় চর বেলাব গ্রামের একজন তরুণের মোটরসাইকেলের সঙ্গে মাটিয়ালপাড়ার খেলোয়াড় বহনকারী একটি রিকশার ধাক্কা লাগে। তখনও উত্তেজনা তৈরি হয়। রাতে চর বেলাব গ্রামের কয়েকজন তরুণ বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে মাটিয়ালপাড়ায় গেলে তাদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে, চর বেলাব গ্রামের শতাধিক গ্রামবাসী লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মাটিয়ালপাড়ার দিকে রওনা দেন। খবর পেয়ে প্রতিপক্ষ গ্রামবাসীরাও একইভাবে প্রস্তুতি নেয়। পরে সেতু এলাকায় মুখোমুখি হলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। ইটপাটকেল ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রথমে অনুরোধ জানায়। তবে সংঘর্ষ চলতে থাকায় পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত অবস্থায় সাইফুলকে বেলাব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বেলাব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মনজুর-ই-মুশফিকা ফেরদৌস বলেন, “সাইফুলকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে রাবার বুলেটের আঘাত ছিল। এছাড়াও সংঘর্ষে আহত অন্তত ১০ পুলিশ সদস্যসহ আরও বেশ কয়েকজনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।”

বেলাব থানার ওসি মীর মাহবুবুর রহমান জানান, “পুলিশ বারবার অনুরোধ করেছিল সংঘর্ষে না জড়াতে। কিন্তু দুই পক্ষই ইট-পাটকেল ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে। এতে আমিসহ ১১ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছি। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আহত অন্তত ৩০

বেলাবতে ফুটবল খেলা নিয়ে সংঘর্ষে যুবক নিহত

সর্বশেষ আপডেট ০৫:৪৬:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ জুন ২০২৫

নরসিংদীর বেলাবো উপজেলায় প্রীতি ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের সংঘর্ষে মো. সাইফুল মিয়া (২৬) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশের রাবার বুলেটে তিনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন তার স্বজনরা। সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত আরও ৩০ জন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১২ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বেলাব ইউনিয়নের মাটিয়ালপাড়া ও চর বেলাব গ্রামের মধ্যবর্তী একটি সেতু এলাকায় এ সংঘর্ষ ঘটে। নিহত সাইফুল চর বেলাব গ্রামের মো. জীবন মিয়ার ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেলে দুই গ্রামের তরুণদের মধ্যে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলার সময় প্রতিপক্ষের আঘাতে মাটিয়ালপাড়ার এক তরুণ আহত হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে খেলা শেষে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

পরে সন্ধ্যায় চর বেলাব গ্রামের একজন তরুণের মোটরসাইকেলের সঙ্গে মাটিয়ালপাড়ার খেলোয়াড় বহনকারী একটি রিকশার ধাক্কা লাগে। তখনও উত্তেজনা তৈরি হয়। রাতে চর বেলাব গ্রামের কয়েকজন তরুণ বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে মাটিয়ালপাড়ায় গেলে তাদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে, চর বেলাব গ্রামের শতাধিক গ্রামবাসী লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মাটিয়ালপাড়ার দিকে রওনা দেন। খবর পেয়ে প্রতিপক্ষ গ্রামবাসীরাও একইভাবে প্রস্তুতি নেয়। পরে সেতু এলাকায় মুখোমুখি হলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। ইটপাটকেল ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রথমে অনুরোধ জানায়। তবে সংঘর্ষ চলতে থাকায় পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত অবস্থায় সাইফুলকে বেলাব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বেলাব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মনজুর-ই-মুশফিকা ফেরদৌস বলেন, “সাইফুলকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে রাবার বুলেটের আঘাত ছিল। এছাড়াও সংঘর্ষে আহত অন্তত ১০ পুলিশ সদস্যসহ আরও বেশ কয়েকজনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।”

বেলাব থানার ওসি মীর মাহবুবুর রহমান জানান, “পুলিশ বারবার অনুরোধ করেছিল সংঘর্ষে না জড়াতে। কিন্তু দুই পক্ষই ইট-পাটকেল ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে। এতে আমিসহ ১১ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছি। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”