ঢাকা ০৮:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বেবিচক বিভক্ত করে আলাদা রেগুলেটর ও অপারেটর সংস্থা গঠনের সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:৩৩:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 6

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) বিভক্ত করে আলাদা রেগুলেটর ও অপারেটর সংস্থা গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ, স্বার্থের সংঘাত দূর করা এবং বিমান চলাচল খাতে সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) এ বিষয়ে একটি সরকারি পত্রের মাধ্যমে বেবিচককে অবহিত করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এতদিন বেবিচক একসঙ্গে রেগুলেটর ও অপারেটরের ভূমিকা পালন করে আসছিল। রেগুলেটর হিসেবে সংস্থাটি বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা তদারকি করত, আবার অপারেটর হিসেবে এয়ার নেভিগেশন পরিষেবা প্রদান এবং দেশের বিমানবন্দরগুলো পরিচালনার দায়িত্ব পালন করত। একই প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এই দ্বৈত ভূমিকার কারণে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হচ্ছিল, যা কার্যকর তদারকি ও জবাবদিহিকে দুর্বল করছিল।

মন্ত্রণালয় জানায়, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইসিএও) পরিচালিত অডিটেও বেবিচকের রেগুলেটর ও অপারেটর সত্তা পৃথক করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। পাশাপাশি গত বছরের ১৮ অক্টোবর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো কমপ্লেক্সে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেও একই সুপারিশ করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের নেতৃত্বাধীন ওই কমিটি পৃথক কাঠামো গঠনের ওপর জোর দিয়েছিল।

এই প্রেক্ষাপটে সরকার বেবিচককে বিভক্ত করে দুটি স্বতন্ত্র সংস্থা গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আওতায় রেগুলেটরি কার্যক্রম একটি পৃথক কর্তৃপক্ষের অধীনে থাকবে, আর এয়ার নেভিগেশন পরিষেবা ও বিমানবন্দর পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হবে আলাদা একটি অপারেটর সংস্থাকে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দ্রুত প্রয়োজনীয় আইন ও বিধি প্রণয়ন ও সংশোধনের মাধ্যমে নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা পূরণের পাশাপাশি বেসামরিক বিমান চলাচল সংক্রান্ত সেবার মানোন্নয়ন, নিরাপত্তা ব্যবস্থার জোরদার এবং ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়বে বলে আশা করছে সরকার।

মন্ত্রণালয়ের মতে, এই সংস্কার উদ্যোগ দেশের বিমান চলাচল খাতকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করবে এবং ভবিষ্যতে বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বেবিচক বিভক্ত করে আলাদা রেগুলেটর ও অপারেটর সংস্থা গঠনের সিদ্ধান্ত

সর্বশেষ আপডেট ০৬:৩৩:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) বিভক্ত করে আলাদা রেগুলেটর ও অপারেটর সংস্থা গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ, স্বার্থের সংঘাত দূর করা এবং বিমান চলাচল খাতে সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) এ বিষয়ে একটি সরকারি পত্রের মাধ্যমে বেবিচককে অবহিত করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এতদিন বেবিচক একসঙ্গে রেগুলেটর ও অপারেটরের ভূমিকা পালন করে আসছিল। রেগুলেটর হিসেবে সংস্থাটি বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা তদারকি করত, আবার অপারেটর হিসেবে এয়ার নেভিগেশন পরিষেবা প্রদান এবং দেশের বিমানবন্দরগুলো পরিচালনার দায়িত্ব পালন করত। একই প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এই দ্বৈত ভূমিকার কারণে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হচ্ছিল, যা কার্যকর তদারকি ও জবাবদিহিকে দুর্বল করছিল।

মন্ত্রণালয় জানায়, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইসিএও) পরিচালিত অডিটেও বেবিচকের রেগুলেটর ও অপারেটর সত্তা পৃথক করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। পাশাপাশি গত বছরের ১৮ অক্টোবর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো কমপ্লেক্সে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেও একই সুপারিশ করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের নেতৃত্বাধীন ওই কমিটি পৃথক কাঠামো গঠনের ওপর জোর দিয়েছিল।

এই প্রেক্ষাপটে সরকার বেবিচককে বিভক্ত করে দুটি স্বতন্ত্র সংস্থা গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আওতায় রেগুলেটরি কার্যক্রম একটি পৃথক কর্তৃপক্ষের অধীনে থাকবে, আর এয়ার নেভিগেশন পরিষেবা ও বিমানবন্দর পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হবে আলাদা একটি অপারেটর সংস্থাকে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দ্রুত প্রয়োজনীয় আইন ও বিধি প্রণয়ন ও সংশোধনের মাধ্যমে নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা পূরণের পাশাপাশি বেসামরিক বিমান চলাচল সংক্রান্ত সেবার মানোন্নয়ন, নিরাপত্তা ব্যবস্থার জোরদার এবং ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়বে বলে আশা করছে সরকার।

মন্ত্রণালয়ের মতে, এই সংস্কার উদ্যোগ দেশের বিমান চলাচল খাতকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করবে এবং ভবিষ্যতে বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।