ঢাকা ০৩:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বেবিচক আইনে পরিবর্তন: সব ক্ষমতা মন্ত্রণালয়ের হাতে

বিশেষ প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:৪৯:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫
  • / 134

বেবিচক

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) আইন সংশোধনের প্রস্তাব করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই ‘বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫’ নামে খসড়া অধ্যাদেশটি জনমত ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মতামতের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।

বেবিচক জানিয়েছে, প্রস্তাবিত অধ্যাদেশের কিছু ধারা কার্যকর হলে দেশের বিমান নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক মান রক্ষা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইকাও) কর্তৃক পরিচালিত নিরাপত্তা মূল্যায়নে বাংলাদেশের অবস্থান ঝুঁকিতে পড়বে।

২০১৭ সালের বিদ্যমান বেবিচক আইনের ১৪ ধারায় চেয়ারম্যানকে বিমান নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশ, আদেশ ও বিজ্ঞপ্তি জারি ও সংশোধনের ক্ষমতা রয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক মান অনুসারে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ দেয়। কিন্তু প্রস্তাবিত অধ্যাদেশে ১৪(ক) অনুচ্ছেদের রুলস অব বিজনেস অনুসরণ করতে বলা হয়েছে, যেখানে কোনো সময়সীমা নির্ধারিত নেই। এতে আইকাও কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংশোধন কার্যকর করা সম্ভব হবে না এবং বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মান রক্ষায় পিছিয়ে পড়তে পারে।

আইকাও সাধারণত নতুন নিয়ম বা সংশোধনের প্রস্তাব পাঠানোর সময় একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে, যা অতিক্রান্ত হলে প্রস্তাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে গৃহীত হয়। তবে নতুন অধ্যাদেশে অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বিলম্ব হলে এই সময়সীমা রক্ষা করা সম্ভব হবে না। বেবিচক মনে করে, এর ফলে বাংলাদেশকে “গুরুতর নিরাপত্তা উদ্বেগের দেশ” হিসেবে চিহ্নিত করা হতে পারে, যা দেশের বিমান খাতের জন্য বড় ধাক্কা হবে।

বেবিচক সুপারিশ করেছে, জনস্বার্থে ২০১৭ সালের বেসামরিক বিমান চলাচল আইন অনুযায়ী চেয়ারম্যানের দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা অপরিবর্তিত রাখা প্রয়োজন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেবিচকের এক কর্মকর্তা জানান, প্রস্তাবিত অধ্যাদেশ কার্যকর হলে বেবিচকের স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সীমিত হবে। বিমান নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধান তৈরি ও প্রযুক্তিগত বাস্তবায়নে বিলম্ব হবে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন বাধ্যতামূলক হলে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ কঠিন হবে।

নতুন অধ্যাদেশে ট্রাভেল এজেন্সি সম্পর্কিত ধারা নিয়েও আপত্তি আছে। ট্রাভেল এজেন্সি আইন, ২০১৩ ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করছে। নতুন অধ্যাদেশে একই ধারা অন্তর্ভুক্ত করলে আইনগত জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ উইং কমান্ডার (অব.) এটিএম নজরুল ইসলাম বলেন, ২০১৭ সালে আইনটি সংসদে পাস হয়েছে। তাই তড়িঘড়ি করে সংশোধনের প্রয়োজন নেই। চেয়ারম্যানের ক্ষমতা কমলে এটি আইকাও’র নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণেও অস্পষ্টতা রয়েছে। বর্তমানে তারা দেশের প্রতিনিধির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করে, যা স্থানীয় কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং রাজস্ব আয়ের সুযোগ দেয়। নতুন অধ্যাদেশে সংস্থাগুলো চাইলে নিজস্ব অফিস স্থাপন করতে পারবে, যা তদারকি দুর্বল করবে এবং নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিতে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বেবিচক আইনে পরিবর্তন: সব ক্ষমতা মন্ত্রণালয়ের হাতে

সর্বশেষ আপডেট ০৩:৪৯:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) আইন সংশোধনের প্রস্তাব করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই ‘বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫’ নামে খসড়া অধ্যাদেশটি জনমত ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মতামতের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।

বেবিচক জানিয়েছে, প্রস্তাবিত অধ্যাদেশের কিছু ধারা কার্যকর হলে দেশের বিমান নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক মান রক্ষা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইকাও) কর্তৃক পরিচালিত নিরাপত্তা মূল্যায়নে বাংলাদেশের অবস্থান ঝুঁকিতে পড়বে।

২০১৭ সালের বিদ্যমান বেবিচক আইনের ১৪ ধারায় চেয়ারম্যানকে বিমান নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশ, আদেশ ও বিজ্ঞপ্তি জারি ও সংশোধনের ক্ষমতা রয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক মান অনুসারে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ দেয়। কিন্তু প্রস্তাবিত অধ্যাদেশে ১৪(ক) অনুচ্ছেদের রুলস অব বিজনেস অনুসরণ করতে বলা হয়েছে, যেখানে কোনো সময়সীমা নির্ধারিত নেই। এতে আইকাও কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংশোধন কার্যকর করা সম্ভব হবে না এবং বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মান রক্ষায় পিছিয়ে পড়তে পারে।

আইকাও সাধারণত নতুন নিয়ম বা সংশোধনের প্রস্তাব পাঠানোর সময় একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে, যা অতিক্রান্ত হলে প্রস্তাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে গৃহীত হয়। তবে নতুন অধ্যাদেশে অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বিলম্ব হলে এই সময়সীমা রক্ষা করা সম্ভব হবে না। বেবিচক মনে করে, এর ফলে বাংলাদেশকে “গুরুতর নিরাপত্তা উদ্বেগের দেশ” হিসেবে চিহ্নিত করা হতে পারে, যা দেশের বিমান খাতের জন্য বড় ধাক্কা হবে।

বেবিচক সুপারিশ করেছে, জনস্বার্থে ২০১৭ সালের বেসামরিক বিমান চলাচল আইন অনুযায়ী চেয়ারম্যানের দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা অপরিবর্তিত রাখা প্রয়োজন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেবিচকের এক কর্মকর্তা জানান, প্রস্তাবিত অধ্যাদেশ কার্যকর হলে বেবিচকের স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সীমিত হবে। বিমান নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধান তৈরি ও প্রযুক্তিগত বাস্তবায়নে বিলম্ব হবে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন বাধ্যতামূলক হলে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ কঠিন হবে।

নতুন অধ্যাদেশে ট্রাভেল এজেন্সি সম্পর্কিত ধারা নিয়েও আপত্তি আছে। ট্রাভেল এজেন্সি আইন, ২০১৩ ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করছে। নতুন অধ্যাদেশে একই ধারা অন্তর্ভুক্ত করলে আইনগত জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ উইং কমান্ডার (অব.) এটিএম নজরুল ইসলাম বলেন, ২০১৭ সালে আইনটি সংসদে পাস হয়েছে। তাই তড়িঘড়ি করে সংশোধনের প্রয়োজন নেই। চেয়ারম্যানের ক্ষমতা কমলে এটি আইকাও’র নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণেও অস্পষ্টতা রয়েছে। বর্তমানে তারা দেশের প্রতিনিধির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করে, যা স্থানীয় কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং রাজস্ব আয়ের সুযোগ দেয়। নতুন অধ্যাদেশে সংস্থাগুলো চাইলে নিজস্ব অফিস স্থাপন করতে পারবে, যা তদারকি দুর্বল করবে এবং নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিতে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।