ঢাকা ০১:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিসিবিতে তদন্তের নামে হয় শুধু ‘প্রহসন’

ক্রীড়া ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:৩২:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫
  • / 106

বিসিবি

‘তদন্ত কমিটিরও তদন্ত করা উচিত। রিপোর্ট জমা দিয়ে কখনও খোঁজ নেয় না, যে রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে তার কোনো প্রতিফলন হয়েছে কি না দেখে না। অনেক সময় রিপোর্টও জমা দেওয়া হয় না। আসলে এই তদন্ত ব্যাপারটাই একটা প্রহসন’, বলেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এক সাবেক পরিচালক।

বিসিবিতে কোনো ঘটনার তদন্তে যেসব কমিটি গঠন করা হয়, তাদের রিপোর্টের পর কখনও কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার নজির নেই। সবশেষ ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ ও বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ফিক্সিং-কাণ্ড নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটিগুলো রিপোর্ট জমা দিয়েছে। এবার আরও ভয়াবহ খবর হলো, ফিক্সিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্টও বিসিবিতে জমা দেওয়ার আগে চলে গেছে সাংবাদিকদের কাছে।

প্রতিটি বিশ্বকাপ বা বড় টুর্নামেন্টের পর ব্যর্থতা বা কোনো সন্দেহজনক ঘটনা থাকলে সেসব নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে বিসিবি। অধিকাংশ সময় নামমাত্র একটি কমিটি হয়। ২০২৩ সালে ভারতে ওয়ানডে বিশ্বকাপের ব্যর্থতা ও ক্রিকেটার নাসুম আহমদকে কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের চড়-কাণ্ড নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু বিসিবির সাবেক পরিচালক জালাল ইউনুস, এনায়েত হোসেন সিরাজদের নিয়ে গঠিত সেই তদন্ত কমিটির রিপোর্টে কিছুই পাওয়া যায়নি।

২০১৫ সালে শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে টুর্নামেন্টের মাঝপথেই পেসার আল আমিন হোসেনকে বাদ দেওয়া হয়। অথচ কেন বাদ দেওয়া হয়েছিল সেই বিষয়টি জানানো হয়নি।

২০১৮, ২০১৯ বা তার আগে ও পরে ঢাকা লিগে আম্পায়ারদের ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা ঘটেছে হরহামেশা। খালি চোখেও তা যে কেউ বুঝতে পারতেন। অথচ তদন্ত কমিটিতে আম্পায়ারদের বিপক্ষে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের (বিপিএল) জন্মলগ্ন থেকেই ফিক্সিংয়ের বিষাক্ত প্রভাব বিদ্যমান। অথচ বিসিবি দুর্নীতি দমন কমিশন ও পরবর্তীতে গড়ে তোলা অন্য তদন্ত কমিটি কিছুই পাননি, যা পেয়েছিল তা ছিল আইসিসি।

সবশেষ বিপিএল ও ডিপিএলে অনেকেই খালি চোখেই ফিক্সিংয়ের গন্ধ পেয়েছেন। গঠন করা হয়েছিল কমিটিও। কিন্তু সেই তদন্তে কারও নাম নেই। এমন ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলেও শেষ পর্যন্ত কারও নাম থাকে না।

বিসিবির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘নাম আসবে কীভাবে? যারা করেন, যারা কমিটিতে থাকেন, ঘুরে ফিরে সবাই তো একই ব্যক্তি।’

এমন তদন্ত কমিটি নিয়ে জানতে চাইলে দীর্ঘদিনের ক্রিকেট সংগঠক, লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের মালিক লুৎফুর রহমান বাদল বলেন, ‘পলিসি মেকারের কাজ কখনোই কর্মচারী দিয়ে হয় না। যেখানে কোনো সুশাসন নেই, কোনো লক্ষ্য নেই, দীর্ঘমেয়াদি কোনো পরিকল্পনা নেই, সেখানে যদি উদ্দেশ্য ব্যক্তিগত স্বার্থ উদ্ধার করা হয়, সেখানে বাস্তব ফলাফল কখনোই পাওয়া যাবে না। স্বার্থ নিয়ে বড় জায়গায় গেলে তো শুধু ক্ষমতারই অপব্যবহার হবে।’

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বিসিবিতে তদন্তের নামে হয় শুধু ‘প্রহসন’

সর্বশেষ আপডেট ১২:৩২:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫

‘তদন্ত কমিটিরও তদন্ত করা উচিত। রিপোর্ট জমা দিয়ে কখনও খোঁজ নেয় না, যে রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে তার কোনো প্রতিফলন হয়েছে কি না দেখে না। অনেক সময় রিপোর্টও জমা দেওয়া হয় না। আসলে এই তদন্ত ব্যাপারটাই একটা প্রহসন’, বলেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এক সাবেক পরিচালক।

বিসিবিতে কোনো ঘটনার তদন্তে যেসব কমিটি গঠন করা হয়, তাদের রিপোর্টের পর কখনও কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার নজির নেই। সবশেষ ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ ও বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ফিক্সিং-কাণ্ড নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটিগুলো রিপোর্ট জমা দিয়েছে। এবার আরও ভয়াবহ খবর হলো, ফিক্সিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্টও বিসিবিতে জমা দেওয়ার আগে চলে গেছে সাংবাদিকদের কাছে।

প্রতিটি বিশ্বকাপ বা বড় টুর্নামেন্টের পর ব্যর্থতা বা কোনো সন্দেহজনক ঘটনা থাকলে সেসব নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে বিসিবি। অধিকাংশ সময় নামমাত্র একটি কমিটি হয়। ২০২৩ সালে ভারতে ওয়ানডে বিশ্বকাপের ব্যর্থতা ও ক্রিকেটার নাসুম আহমদকে কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের চড়-কাণ্ড নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু বিসিবির সাবেক পরিচালক জালাল ইউনুস, এনায়েত হোসেন সিরাজদের নিয়ে গঠিত সেই তদন্ত কমিটির রিপোর্টে কিছুই পাওয়া যায়নি।

২০১৫ সালে শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে টুর্নামেন্টের মাঝপথেই পেসার আল আমিন হোসেনকে বাদ দেওয়া হয়। অথচ কেন বাদ দেওয়া হয়েছিল সেই বিষয়টি জানানো হয়নি।

২০১৮, ২০১৯ বা তার আগে ও পরে ঢাকা লিগে আম্পায়ারদের ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা ঘটেছে হরহামেশা। খালি চোখেও তা যে কেউ বুঝতে পারতেন। অথচ তদন্ত কমিটিতে আম্পায়ারদের বিপক্ষে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের (বিপিএল) জন্মলগ্ন থেকেই ফিক্সিংয়ের বিষাক্ত প্রভাব বিদ্যমান। অথচ বিসিবি দুর্নীতি দমন কমিশন ও পরবর্তীতে গড়ে তোলা অন্য তদন্ত কমিটি কিছুই পাননি, যা পেয়েছিল তা ছিল আইসিসি।

সবশেষ বিপিএল ও ডিপিএলে অনেকেই খালি চোখেই ফিক্সিংয়ের গন্ধ পেয়েছেন। গঠন করা হয়েছিল কমিটিও। কিন্তু সেই তদন্তে কারও নাম নেই। এমন ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলেও শেষ পর্যন্ত কারও নাম থাকে না।

বিসিবির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘নাম আসবে কীভাবে? যারা করেন, যারা কমিটিতে থাকেন, ঘুরে ফিরে সবাই তো একই ব্যক্তি।’

এমন তদন্ত কমিটি নিয়ে জানতে চাইলে দীর্ঘদিনের ক্রিকেট সংগঠক, লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের মালিক লুৎফুর রহমান বাদল বলেন, ‘পলিসি মেকারের কাজ কখনোই কর্মচারী দিয়ে হয় না। যেখানে কোনো সুশাসন নেই, কোনো লক্ষ্য নেই, দীর্ঘমেয়াদি কোনো পরিকল্পনা নেই, সেখানে যদি উদ্দেশ্য ব্যক্তিগত স্বার্থ উদ্ধার করা হয়, সেখানে বাস্তব ফলাফল কখনোই পাওয়া যাবে না। স্বার্থ নিয়ে বড় জায়গায় গেলে তো শুধু ক্ষমতারই অপব্যবহার হবে।’