ঢাকা ০৫:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:২৯:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫
  • / 67

বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

সারাদেশে বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সকালে দর্পণ-বিসর্জনের মাধ্যমে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানো হয়। পরে সন্ধ্যা থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জন।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, বিজয়া দশমীর মূল তাৎপর্য হলো মানুষের অন্তরের আসুরিক প্রবৃত্তি—কাম, ক্রোধ, হিংসা ও লালসাকে বিসর্জন দেওয়া। এসব প্রবৃত্তি দূর করে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠাই এ আয়োজনের উদ্দেশ্য।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠী তিথিতে চণ্ডীপাঠ, বোধন ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব শুরু হয়। টানা পাঁচ দিন ভক্তরা রাজধানীসহ সারাদেশের পূজামণ্ডপগুলোতে দেবী দুর্গার উদ্দেশে পূজা-অর্চনা ও শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন। দশমীর দিনে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে উৎসবের।

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, বিসর্জনের পর দেবী দুর্গা ফিরে যান কৈলাসে স্বামীর ঘরে। আবারও আগামী শরতে তিনি মর্ত্যে আসবেন বাবার গৃহে। এ উপলক্ষে প্রতিমা বিসর্জনের সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। সড়কে পুলিশের টহল, নদীতে নৌপুলিশের নজরদারি ও ফায়ার সার্ভিসের টিম দায়িত্ব পালন করে।

রাজধানীতে ঢাকের বাদ্য ও গান-বাজনার মধ্যে বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীতে সারিবদ্ধভাবে বিসর্জন দেওয়া হয় প্রতিমা। দুপুরে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে বের হয় বর্ণাঢ্য বিজয়া শোভাযাত্রা। বিকেলে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে ট্রাকে করে প্রতিমা নিয়ে ভক্তরা রাজধানীর পলাশীর মোড়ে সমবেত হন। সেখান থেকে শত শত ট্রাক প্রতিমা নিয়ে শোভাযাত্রাটি সদরঘাটের উদ্দেশে রওনা হয়। পথজুড়ে ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়, আর সতর্ক অবস্থানে ছিল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

অধিকাংশ প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হলেও ঢাকেশ্বরী মন্দিরের প্রতিমা প্রথা অনুযায়ী স্থায়ীভাবে রাখা হয়। তবে দেবীর ফুল, বেলপাতা ও ঘট বিসর্জন দেওয়া হয়। প্রথা অনুযায়ী বিসর্জনের পর শান্তিজল সংগ্রহ করে ভক্তরা তা হৃদয়ে ধারণ করেন। আগামী বছর সেই শান্তিজল ঘট থেকে প্রতিমায় রেখে পূজা করা হবে। রামকৃষ্ণ মিশনেও সন্ধ্যার পর প্রতিমা বিসর্জন ও শান্তিজল গ্রহণের মধ্য দিয়ে পূজা সমাপ্ত হয়।

এ বছর সারাদেশে মোট ৩৩ হাজার ৩৫৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুধু ঢাকা মহানগরেই ছিল ২৫৮টি মণ্ডপ। প্রতিটি মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

সর্বশেষ আপডেট ০৮:২৯:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫

সারাদেশে বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সকালে দর্পণ-বিসর্জনের মাধ্যমে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানো হয়। পরে সন্ধ্যা থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জন।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, বিজয়া দশমীর মূল তাৎপর্য হলো মানুষের অন্তরের আসুরিক প্রবৃত্তি—কাম, ক্রোধ, হিংসা ও লালসাকে বিসর্জন দেওয়া। এসব প্রবৃত্তি দূর করে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠাই এ আয়োজনের উদ্দেশ্য।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠী তিথিতে চণ্ডীপাঠ, বোধন ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব শুরু হয়। টানা পাঁচ দিন ভক্তরা রাজধানীসহ সারাদেশের পূজামণ্ডপগুলোতে দেবী দুর্গার উদ্দেশে পূজা-অর্চনা ও শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন। দশমীর দিনে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে উৎসবের।

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, বিসর্জনের পর দেবী দুর্গা ফিরে যান কৈলাসে স্বামীর ঘরে। আবারও আগামী শরতে তিনি মর্ত্যে আসবেন বাবার গৃহে। এ উপলক্ষে প্রতিমা বিসর্জনের সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। সড়কে পুলিশের টহল, নদীতে নৌপুলিশের নজরদারি ও ফায়ার সার্ভিসের টিম দায়িত্ব পালন করে।

রাজধানীতে ঢাকের বাদ্য ও গান-বাজনার মধ্যে বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীতে সারিবদ্ধভাবে বিসর্জন দেওয়া হয় প্রতিমা। দুপুরে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে বের হয় বর্ণাঢ্য বিজয়া শোভাযাত্রা। বিকেলে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে ট্রাকে করে প্রতিমা নিয়ে ভক্তরা রাজধানীর পলাশীর মোড়ে সমবেত হন। সেখান থেকে শত শত ট্রাক প্রতিমা নিয়ে শোভাযাত্রাটি সদরঘাটের উদ্দেশে রওনা হয়। পথজুড়ে ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়, আর সতর্ক অবস্থানে ছিল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

অধিকাংশ প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হলেও ঢাকেশ্বরী মন্দিরের প্রতিমা প্রথা অনুযায়ী স্থায়ীভাবে রাখা হয়। তবে দেবীর ফুল, বেলপাতা ও ঘট বিসর্জন দেওয়া হয়। প্রথা অনুযায়ী বিসর্জনের পর শান্তিজল সংগ্রহ করে ভক্তরা তা হৃদয়ে ধারণ করেন। আগামী বছর সেই শান্তিজল ঘট থেকে প্রতিমায় রেখে পূজা করা হবে। রামকৃষ্ণ মিশনেও সন্ধ্যার পর প্রতিমা বিসর্জন ও শান্তিজল গ্রহণের মধ্য দিয়ে পূজা সমাপ্ত হয়।

এ বছর সারাদেশে মোট ৩৩ হাজার ৩৫৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুধু ঢাকা মহানগরেই ছিল ২৫৮টি মণ্ডপ। প্রতিটি মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়।