বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে প্লাস্টিকমুক্ত ঘোষণা করার আহ্বান
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:০০:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫
- / 85
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়কে প্লাস্টিকমুক্ত ক্যাম্পাস ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহজলভ্য পরিবেশবান্ধব বিকল্প সরবরাহের মাধ্যমে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব। তার মতে, সুবিধানির্ভর ভোক্তা-অভ্যাস থেকে বেরিয়ে এলে শুধু প্লাস্টিক দূষণ কমবে না—পাটসহ স্থানীয় শিল্প পুনরুজ্জীবিত হবে, অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থার প্রসার ঘটবে।
শনিবার (১৫ নভেম্বর) চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত ‘টেকসই প্লাস্টিকমুক্ত সামুদ্রিক পরিবেশ’ শীর্ষক সচেতনতামূলক কার্যক্রমে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, প্লাস্টিকের পরিবর্তে টেকসই বিকল্পে যেতে সময় ও পরিশ্রম প্রয়োজন, পাশাপাশি ভোক্তাদের আচরণগত পরিবর্তনও অপরিহার্য। গত কয়েক দশকে তৈরি হওয়া প্লাস্টিকনির্ভর অভ্যাস বদলাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি জরুরি। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বাদ দিয়ে প্লাস্টিকমুক্ত ক্যাম্পাস গড়তেও প্রয়োজন ধারাবাহিক উদ্যোগ।
রিজওয়ানা হাসান জানান, ১ জানুয়ারি থেকে সচিবালয়কে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ভোক্তারা প্লাস্টিককে ‘ফ্রি’ ভাবলেও বাস্তবে শ্রম, বিদ্যুৎ, আমদানিকৃত উপকরণ ও কাঁচামালসহ নানা খরচ রয়েছে, যার পরিবেশগত মূল্য খুবই বেশি।
চার বছর মেয়াদি প্রকল্প সফলভাবে পরিচালনার জন্য তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান এবং প্রকল্প সম্প্রসারণের পরিকল্পনাকে স্বাগত জানান। তার মতে, আজ শিক্ষার্থীদের যে পরিবেশশিক্ষা দেওয়া হচ্ছে, তা ভবিষ্যতের পরিবেশ ও সম্পদ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পুরোনো প্রজন্মের টেকসই জীবনধারা এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ছাড়ার সুফল সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জানানো এখন অত্যন্ত জরুরি।
বঙ্গোপসাগর বিশ্বের নবম সর্বাধিক প্লাস্টিকদূষিত সামুদ্রিক অঞ্চল হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এটি শুধু বাংলাদেশে অতিরিক্ত ব্যবহারের ফল নয়; বরং দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং উজান থেকে ভেসে আসা বর্জ্যের প্রভাবও এতে বড় ভূমিকা রাখে।
তিনি আরও বলেন, পুনর্ব্যবহার জনপ্রিয় সমাধান হলেও এটি জ্বালানি ও রাসায়নিকনির্ভর প্রক্রিয়া। তাই প্লাস্টিক ব্যবহার কমানো, পুনর্ব্যবহারযোগ্য পণ্য বাড়ানো এবং উৎপাদকদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে কার্যকর পথ।




































