ঢাকা ১০:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সংরক্ষণহীনতায় বিলীন হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী প্রত্নতত্ত্ব স্থাপনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:৩৩:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ অগাস্ট ২০২৫
  • / 206

সংরক্ষণহীনতায় বিলীন হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী প্রত্নস্থল

বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন সরকারি প্রতিষ্ঠান। ১৮৬১ সালে ‘আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া’র মাধ্যমে যাত্রা শুরু হলেও, ১৯৬৮ সালে পুরাকীর্তি আইন অনুযায়ী গঠিত হয় প্রত্নতত্ত্ব ও জাদুঘর অধিদপ্তর। পরবর্তীতে এর নামকরণ করা হয় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। স্বাধীনতার পর ১৯৭১ সালে ঢাকায় এর প্রধান কার্যালয় স্থাপিত হয়।

১৯৮৩ সালে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে ঢাকার পাশাপাশি আরও চারটি আঞ্চলিক কার্যালয় গড়ে ওঠে। বর্তমানে ঢাকা আঞ্চলিক কার্যালয়ের আওতায় ময়মনসিংহ বিভাগ, খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের আওতায় বরিশাল বিভাগ, রাজশাহীর অধীনে রংপুর বিভাগ এবং চট্টগ্রামের অধীনে সিলেট বিভাগের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে জেলা পর্যায়ে কোনো কার্যালয় না থাকায় অধিকাংশ প্রত্নস্থল সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না।

বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় ৫৩৬টি সংরক্ষিত প্রত্নস্থল রয়েছে। এর মধ্যে মহাস্থানগড়, ময়নামতি, শালবন বিহার, পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার, কান্তজীর মন্দির, ছোট সোনা মসজিদ, ষাটগম্বুজ মসজিদ, ভাসু বিহার, লালবাগ কেল্লা, বারোবাজার প্রত্নস্থান ও রবীন্দ্রকুঠিবাড়ি উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও অধিদপ্তরের অধীনে ৩১টি জাদুঘর পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে প্রবেশমূল্যের বিনিময়ে দর্শনার্থীরা প্রবেশ করতে পারেন।

তবে, বিভিন্ন সূত্র জানায়, দেশে প্রায় ২ হাজার সংরক্ষণযোগ্য প্রত্নস্থল থাকলেও, জেলা পর্যায়ে কার্যালয় না থাকায় সেগুলো ধ্বংসের মুখে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে লোকবল সংকট, পর্যাপ্ত বাজেটের অভাব ও রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতির কারণে সংরক্ষিত প্রত্নস্থলও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বিগত বছরগুলোতে প্রায় ৩০টি প্রত্নস্থল রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সরকারি তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অধিদপ্তরে বর্তমানে নিয়োগবিধির অভাব, বাজেট সংকট এবং পর্যাপ্ত জনবল না থাকা বড় চ্যালেঞ্জ। জেলা পর্যায়ে প্রত্নতত্ত্ব কার্যালয় স্থাপন করা গেলে প্রত্নস্থল সংরক্ষণে গতি আসবে। তার প্রস্তাব, ৮টি বিভাগীয় কার্যালয়ে পরিচালক পদ সৃষ্টি, দিনাজপুর, কুষ্টিয়া, যশোর ও ফরিদপুরে আঞ্চলিক কার্যালয় এবং অন্যান্য জেলায় সহকারী পরিচালক কার্যালয় স্থাপন করা উচিত।

এ বিষয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন) সেখ কামাল হোসেন বলেন,
“রংপুর বিভাগে দ্রুত প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কার্যালয় চালু হবে। তবে সব জেলায় অফিস খোলার পরিকল্পনা সরকারের আপাতত নেই। সিলেটে খনন কাজ তুলনামূলক কম হয়েছে। আগামী মৌসুমে সেখানে নতুন খনন কার্যক্রম শুরু হবে, এবং কিছু নতুন প্রত্নস্থল আবিষ্কার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সংরক্ষণহীনতায় বিলীন হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী প্রত্নতত্ত্ব স্থাপনা

সর্বশেষ আপডেট ১১:৩৩:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ অগাস্ট ২০২৫

বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন সরকারি প্রতিষ্ঠান। ১৮৬১ সালে ‘আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া’র মাধ্যমে যাত্রা শুরু হলেও, ১৯৬৮ সালে পুরাকীর্তি আইন অনুযায়ী গঠিত হয় প্রত্নতত্ত্ব ও জাদুঘর অধিদপ্তর। পরবর্তীতে এর নামকরণ করা হয় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। স্বাধীনতার পর ১৯৭১ সালে ঢাকায় এর প্রধান কার্যালয় স্থাপিত হয়।

১৯৮৩ সালে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে ঢাকার পাশাপাশি আরও চারটি আঞ্চলিক কার্যালয় গড়ে ওঠে। বর্তমানে ঢাকা আঞ্চলিক কার্যালয়ের আওতায় ময়মনসিংহ বিভাগ, খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের আওতায় বরিশাল বিভাগ, রাজশাহীর অধীনে রংপুর বিভাগ এবং চট্টগ্রামের অধীনে সিলেট বিভাগের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে জেলা পর্যায়ে কোনো কার্যালয় না থাকায় অধিকাংশ প্রত্নস্থল সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না।

বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় ৫৩৬টি সংরক্ষিত প্রত্নস্থল রয়েছে। এর মধ্যে মহাস্থানগড়, ময়নামতি, শালবন বিহার, পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার, কান্তজীর মন্দির, ছোট সোনা মসজিদ, ষাটগম্বুজ মসজিদ, ভাসু বিহার, লালবাগ কেল্লা, বারোবাজার প্রত্নস্থান ও রবীন্দ্রকুঠিবাড়ি উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও অধিদপ্তরের অধীনে ৩১টি জাদুঘর পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে প্রবেশমূল্যের বিনিময়ে দর্শনার্থীরা প্রবেশ করতে পারেন।

তবে, বিভিন্ন সূত্র জানায়, দেশে প্রায় ২ হাজার সংরক্ষণযোগ্য প্রত্নস্থল থাকলেও, জেলা পর্যায়ে কার্যালয় না থাকায় সেগুলো ধ্বংসের মুখে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে লোকবল সংকট, পর্যাপ্ত বাজেটের অভাব ও রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতির কারণে সংরক্ষিত প্রত্নস্থলও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বিগত বছরগুলোতে প্রায় ৩০টি প্রত্নস্থল রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সরকারি তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অধিদপ্তরে বর্তমানে নিয়োগবিধির অভাব, বাজেট সংকট এবং পর্যাপ্ত জনবল না থাকা বড় চ্যালেঞ্জ। জেলা পর্যায়ে প্রত্নতত্ত্ব কার্যালয় স্থাপন করা গেলে প্রত্নস্থল সংরক্ষণে গতি আসবে। তার প্রস্তাব, ৮টি বিভাগীয় কার্যালয়ে পরিচালক পদ সৃষ্টি, দিনাজপুর, কুষ্টিয়া, যশোর ও ফরিদপুরে আঞ্চলিক কার্যালয় এবং অন্যান্য জেলায় সহকারী পরিচালক কার্যালয় স্থাপন করা উচিত।

এ বিষয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন) সেখ কামাল হোসেন বলেন,
“রংপুর বিভাগে দ্রুত প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কার্যালয় চালু হবে। তবে সব জেলায় অফিস খোলার পরিকল্পনা সরকারের আপাতত নেই। সিলেটে খনন কাজ তুলনামূলক কম হয়েছে। আগামী মৌসুমে সেখানে নতুন খনন কার্যক্রম শুরু হবে, এবং কিছু নতুন প্রত্নস্থল আবিষ্কার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”