ঢাকা ০৬:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ফেরত দিয়েছে বিএসএসফ

বিয়ের তিনদিন পর ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশির ঝুলন্ত লাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:৩০:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ জুন ২০২৫
  • / 129

বিয়ের তিনদিন পর সীমান্তে ঝুলন্ত লাশ ফেরত দিয়েছে বিএসএসফ

বিয়ের মাত্র তিনদিন পর ভারতের মেঘালয়ে সীমান্তের অভ্যন্তরে গাছে ঝুলে থাকা বাংলাদেশি যুবক জাকারিয়া আহমদের (২৩) মরদেহ ফেরত দিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

শুক্রবার (২০ জুন) দুপুর ১টার দিকে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার উৎমা সীমান্তের ১২৫৮ নম্বর পিলার এলাকা দিয়ে মরদেহটি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে হস্তান্তর করে বিএসএফ। পরে মরদেহটি আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নিহত জাকারিয়া আহমদ সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার উত্তর রণিখাই ইউনিয়নের লামাগ্রামের আলাউদ্দিনের বড় ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মাত্র তিনদিন আগে, সোমবার তিনি কাকুরাইল গ্রামে বিয়ে করেন। নতুন বউকে সঙ্গে নিয়ে বৃহস্পতিবার শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু ওই দিনই সীমান্তের ওপারে গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় তার মরদেহ।

জাকারিয়ার বাবা আলাউদ্দিন বলেন, “আমার ছেলে দিনমজুর হিসেবে কাজ করত। খুব সাধারণভাবে জীবন কাটাত। বিয়ের পরপরই এমন ঘটনা ঘটবে, তা কল্পনাও করিনি। সকালে বের হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই শুনি তার লাশ সীমান্তের ওপারে ঝুলছে। কেন বা কীভাবে সে সেখানে গেল, কিছুই বুঝতে পারছি না।”

বিজিবির সিলেট ৪৮ ব্যাটালিয়নের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে—পারিবারিক চাপ বা মানসিক বিপর্যয়ের কারণে জাকারিয়া আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার আগে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।

ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হক বলেন, “ঘটনাস্থল ভারতের অভ্যন্তরে হওয়ায় আমাদের পক্ষে সরাসরি তদন্ত সম্ভব হয়নি। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষকেও ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সময় লেগেছে। পরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহটি আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।”

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উজায়ের মাহমুদ আল আদনান বলেন, “বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে লাশটি হস্তান্তর করা হয়েছে। নিয়মিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।”

স্থানীয়ভাবে এই মৃত্যুকে ঘিরে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিবারের দাবি, জাকারিয়ার কোনো মানসিক সমস্যা ছিল না এবং তিনি কারও সঙ্গে বিরোধে ছিলেন না। তাই এমন রহস্যজনক মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্তের দাবি উঠেছে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকেও।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ফেরত দিয়েছে বিএসএসফ

বিয়ের তিনদিন পর ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশির ঝুলন্ত লাশ

সর্বশেষ আপডেট ০৬:৩০:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ জুন ২০২৫

বিয়ের মাত্র তিনদিন পর ভারতের মেঘালয়ে সীমান্তের অভ্যন্তরে গাছে ঝুলে থাকা বাংলাদেশি যুবক জাকারিয়া আহমদের (২৩) মরদেহ ফেরত দিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

শুক্রবার (২০ জুন) দুপুর ১টার দিকে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার উৎমা সীমান্তের ১২৫৮ নম্বর পিলার এলাকা দিয়ে মরদেহটি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে হস্তান্তর করে বিএসএফ। পরে মরদেহটি আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নিহত জাকারিয়া আহমদ সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার উত্তর রণিখাই ইউনিয়নের লামাগ্রামের আলাউদ্দিনের বড় ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মাত্র তিনদিন আগে, সোমবার তিনি কাকুরাইল গ্রামে বিয়ে করেন। নতুন বউকে সঙ্গে নিয়ে বৃহস্পতিবার শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু ওই দিনই সীমান্তের ওপারে গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় তার মরদেহ।

জাকারিয়ার বাবা আলাউদ্দিন বলেন, “আমার ছেলে দিনমজুর হিসেবে কাজ করত। খুব সাধারণভাবে জীবন কাটাত। বিয়ের পরপরই এমন ঘটনা ঘটবে, তা কল্পনাও করিনি। সকালে বের হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই শুনি তার লাশ সীমান্তের ওপারে ঝুলছে। কেন বা কীভাবে সে সেখানে গেল, কিছুই বুঝতে পারছি না।”

বিজিবির সিলেট ৪৮ ব্যাটালিয়নের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে—পারিবারিক চাপ বা মানসিক বিপর্যয়ের কারণে জাকারিয়া আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার আগে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।

ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হক বলেন, “ঘটনাস্থল ভারতের অভ্যন্তরে হওয়ায় আমাদের পক্ষে সরাসরি তদন্ত সম্ভব হয়নি। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষকেও ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সময় লেগেছে। পরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহটি আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।”

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উজায়ের মাহমুদ আল আদনান বলেন, “বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে লাশটি হস্তান্তর করা হয়েছে। নিয়মিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।”

স্থানীয়ভাবে এই মৃত্যুকে ঘিরে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিবারের দাবি, জাকারিয়ার কোনো মানসিক সমস্যা ছিল না এবং তিনি কারও সঙ্গে বিরোধে ছিলেন না। তাই এমন রহস্যজনক মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্তের দাবি উঠেছে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকেও।