বিমানে কারিগরি ত্রুটির পর নেওয়া হয়েছে জরুরি পদক্ষেপ
- সর্বশেষ আপডেট ০১:৩৭:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫
- / 507
সম্প্রতি কিছু ফ্লাইটে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যাত্রীসুরক্ষা ও সেবার মান বজায় রাখতে একাধিক তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিটি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা হবে।
ঢাকা–আবুধাবি ফ্লাইটে টয়লেট ফ্লাশ সম্পর্কিত ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ০১ জুলাই ২০২৫ থেকে ১৩ আগস্ট ২০২৫ পর্যন্ত ঘটে যাওয়া কারিগরি সমস্যার বিশদ পর্যালোচনার জন্য চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি প্রতিটি ফ্লাইটের রক্ষণাবেক্ষণ রেকর্ড ও অপারেশনাল প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে সমস্যা নির্ণয় করবে এবং কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা নির্ধারণ করবে। ১০ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটি তার প্রতিবেদন জমা দেবে।
দায়বদ্ধতা নিশ্চিতের জন্য ইতোমধ্যে জনবল ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। দুইজন কর্মকর্তা বদলি হয়েছেন, একজন প্রকৌশলীকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে এবং চট্টগ্রামে আরেকজন প্রকৌশলীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
কারিগরি সক্ষমতা বাড়াতে বিমান জেদ্দা, দুবাই, মদিনা, দাম্মাম, আবুধাবি ও শারজাহতে অতিরিক্ত চাকা মজুদ রাখার ব্যবস্থা করেছে। জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত চাকা প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় চাকা সংগ্রহের জন্য ক্রয়াদেশ দেওয়া হয়েছে। জেদ্দায় চাকা ফেটে যাওয়ার ঘটনার তদন্তে ফ্লাইট অপারেশনস বিভাগের পরিচালককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রকৌশল ও ম্যাটেরিয়াল ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক ও প্রধান প্রকৌশলীগণের তত্ত্বাবধানে ডিরেক্ট সুপারভিশন জোরদার করা হয়েছে।
১৮ আগস্ট ২০২৫ থেকে রাত্রিকালীন বিশেষ রক্ষণাবেক্ষণ শিফট চালু হয়েছে, যা সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে সহায়তা করবে। এছাড়া বিমানের ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। বোয়িং-এর সঙ্গে আলোচনা করে কম্পোনেন্ট সার্ভিসেস প্রোগ্রাম (সিএসপি) তালিকা আপডেট করা হচ্ছে এবং রিকোমেন্ডেড স্পেয়ার পার্টস লিস্ট (আরএসপিএল ) অনুযায়ী যন্ত্রাংশের মজুদ নতুনভাবে নির্ধারণ করা হচ্ছে। টেইলরড পার্ট প্যাকেজ (টিপিপিপি) ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবহারিক তথ্যের ভিত্তিতে যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করা হবে।
প্রকৌশলীদের পুনরায় প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নতুন অ্যাপ্রেন্টিস মেকানিক নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রযুক্তিগত জনবল বাড়ানো ও দক্ষতা আরও উন্নত করা হবে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স নিশ্চিত করেছে, যাত্রীসুরক্ষা ও আস্থা বজায় রাখতে এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা মান রক্ষায় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
































